
- গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, কমেছে জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা
- সর্বোচ্চ পাসের হার ঢাকা বোর্ডে ৬১.৮০ শতাংশ, সর্বনিম্ন বরিশাল বোার্ডে ৪৪.৮৪ শতাংশ
দীর্ঘদিন পর এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। বিশেষ করে ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় সামগ্রিক পাসের হারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এবার মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় অর্ধেকই পাস করতে পারেননি। তবে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা আবার পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। আগামী এক মাসের মধ্যে এ পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এতে উত্তীর্ণ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরাও উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পাবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। সব বোর্ড মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শুধু ইংরেজি বিষয়েই অকৃতকার্য হয়েছেন দুই লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন। আর আইসিটি বিষয়ে ফেল করেছেন এক লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন। মূলত এ দু’টি বিষয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক ফলাফলে।
প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার সব শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। অর্থাৎ মোট পরীক্ষার্থীর ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশই অকৃতকার্য হয়েছেন। এ বছর জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট এবং জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।
গতকাল শনিবার সকালে সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন। পরে শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষা কেন্দ্র এবং এসএমএসের মাধ্যমে ফল প্রকাশ করা হয়।
ইংরেজি ও আইসিটিতে কেন এত শিক্ষার্থী ফেল
ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে এত বেশি সংখ্যায় শিক্ষার্থী ফেল করার পেছনেও বেশ কিছু কারণ অনুসন্ধান করেছে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের মনিটরিং টিম। গতকাল মন্ত্রণালয়ে ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসে একটি বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, ইংরেজি ও আইসিটিতে দক্ষ শিক্ষকের অভাবের কারণেই এবার এই দুই বিষয়ে শিক্ষার্থীরা ফলাফল খারাপ করেছে। তার মতে, গ্রামের অনেক কলেজে ইংরেজি বিষয়ে দক্ষ শিক্ষক নেই। এখানে অন্য বিষয়ের শিক্ষকরাই ক্লাসে ইংরেজি পড়ান। আবার আইসিটি একটি কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর বিষয়। ফলে দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকরা যদি ক্লাসে ঠিকমতো বিষয়ভিত্তিক পাঠদান করাতে না পারেন তাহলে শিক্ষার্থীরা এই দুই বিষয়ে ভালো করবে কিভাবে? এবার এই দুই বিষয়ের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মোট পাসের হারে। এর উত্তর খুঁজতে এখনি সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ২০২৬ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ছয় লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। মোট পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ, অর্থাৎ এ বছর পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্থাৎ ৫২তম দিনেই এ বছরের ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
চলতি বছরে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন পরীক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭টি। এ বছর জিপিএ ৫-এর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩টি। এ বছর সব শিক্ষা বোর্ডে মোট অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৮৮টি, মোট কেন্দ্র কমেছে ৪০টি। এ বছরে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান ২৯৩টি, আগের চেয়ে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি। শত ভাগ পাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৩৯টি, যা আগের চেয়ে কমেছে ২০৬টি। ২০২৬ সালের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেছেন পাঁচ লাখ ৪১ হাজার ২৪৯ শিক্ষার্থী। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৩৪৮ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হারের দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। আর সবচেয়ে পিছিয়ে আছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
পাসের হার বেশি বিজ্ঞান বিভাগে, কম মানবিকে
এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে পাস করেছেন ৭৩ দশমিক ১২ শতাংশ পরীক্ষার্থী। অন্য দিকে সবচেয়ে কম পাসের হার মানবিক বিভাগে। এ বিভাগে পাস করেছেন মাত্র ৪২ দশমিক ১৭ শতাংশ পরীক্ষার্থী। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে মোট দুই লাখ ৭৩ হাজার ৬২৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন দুই লাখ ৭৪ জন। মানবিক বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নেয়া ছয় লাখ সাত হাজার ৭৩৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন দুই লাখ ৫৬ হাজার ৩১১ জন। এর মধ্যে ছাত্র দুই লাখ ৫৮ হাজার ৯৩২ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৯০ হাজার ৬৬৪ জন। আর ছাত্রী তিন লাখ ৪৮ হাজার ৮০৩ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন এক লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৭ জন। অন্য দিকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এক লাখ ৬৭ হাজার ১৬৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৮৪ হাজার ৮৬৪ জন। এখানে ছাত্রদের পাসের হার ৪৫.৯৪ শতাংশের বিপরীতে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬.৫৮ শতাংশ। পাসের হার ৫০ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
তুলনামূলক ভালো ফলাফল মাদরাসা বোর্ডে
সাধারণ অন্যান্য বোর্ডের তুলনায় এবার ভালো করেছে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। এ বছর আলিম পরীক্ষায় অংশ নেন ৮৯ হাজার ৩২১ শিক্ষার্থী। পাস করেছেন ৫৪ হাজার ৫৪৭ জন। পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছেন তিন হাজার ২৫০ জন পরীক্ষার্থী। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে আলিমে চার হাজার ২৬৮ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন। পাসের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। এবার একই সাথে পাসের হার ও জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা কমেছে।
কারিগরি বোর্ডের ফলাফলেও ধস
এইচএসসি বিএম-ভোকেশোনাল পরীক্ষায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৮৮৬ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন এক হাজার ৬১০ জন। এবার পাসের হার ও জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা কমেছে।
বোর্ডভিত্তিক ফলাফল
ঢাকা বোর্ডে এ বছর ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭১৪ জন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের এইচএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের ২৬ হাজার ৬৩ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন। সে বছর বোর্ডের ৬৪ দশমিক ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিলেন। পাসের হার ও জিপিএ ৫ কমেছে।
বিভিন্ন বোর্ডের পাশের হার ও জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা
বোর্ড পাসের হার জিপিএ ৫ ঢাকা ৬১.৮০% ১৬৭১৪ জন কুমিল্লা ৪৮.০৮% ১৩১৩ জন চট্টগ্রাম ৫২.০৭% ২৯২৯ জন দিনাজপুর ৪৫.৯৮% ২৯৫৩ জন রবিশাল ৪৪.৮৪% ৯৫০ জন ময়মনসিংহ ৫১.৪৪% ২১৩৭ জন যশোর ৪৪.৯২% ৩২২৮ জন রাজশাহী ৪৫.০৬% ৪৫২০ জন সিলেট ৫০.৯০% ১২০৪ জন কারিগরি বোর্ড ৪৯.৪০% ৮৮৬ জন মাদরাসা বোর্ড ৬১.০৭% ৩২৫০ জন
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৮ দশমিক ০৪। জিপিএ ৫ পেয়েছেন এক হাজার ৩১৩ জন। ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা বোর্ডে দুই হাজার ৭০৭ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন। পাস করেছিলেন ৪৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ শিক্ষার্থী। পাসের হার ও জিপিএ ৫-এর সংখ্যা কমেছে। চট্টগ্রাম বোর্ডে এ বছর ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। জিপিএ ৫ পেয়েছেন দুই হাজার ৯২৯ জন। গত বছর এইচএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বোর্ডের ছয় হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন। পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। পাসের হার ও জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা কমেছে।
দিনাজপুর বোর্ডে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। দুই হাজার ৯৫৩ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছেন। গত বছর ছয় হাজার ২৬০ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন। পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
বরিশাল বোর্ডে এ বছর ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৯৫০ জন। গত বছর এক হাজার ৬৭৪ পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন। পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
ময়মনসিংহ বোর্ডের ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। জিপিএ ৫ পেয়েছেন দুই হাজার ১৩৭ জন। গত বছর দুই হাজার ৬৮৪ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন। পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
যশোর বোর্ডের তিন হাজার ২২৮ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছেন। এ বছর বোর্ডের ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। গত বছর পাঁচ হাজার ৯৯৫ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন। পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ।
রাজশাহী বোর্ডে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। জিপিএ ৫ পেয়েছেন চার হাজার ৫২০ জন। গত বছর ১০ হাজার ১৩ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন। পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশ।
সিলেট বোর্ডে এ বছর ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। জিপিএ ৫ পেয়েছেন এক হাজার ২০৪ জন। গত বছর এক হাজার ৬০২ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন। পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ
বিদেশের কেন্দ্রের পাসের হার ৯০. ৮৭
এ বছর বিদেশে অবস্থিত আটটি কেন্দ্রে এইচএসসিতে ২০৯ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। এ কেন্দ্রগুলোতে ২৩০ জন পরীক্ষা দিয়েছিলেন। পাসের হার ৯০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ২১ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছেন। শত ভাগ পাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক, শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ০। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গত ২ জুলাই থেকে শুরু হয়। গত ৮ আগস্ট এ পরীক্ষা শেষ হয়। বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা পেছানো হয়। পরে সে পরীক্ষা শেষ হয়েছে গত ৯ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৫২তম দিনে গতকাল এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
বোর্ড সেরা রাজশাহী জেলা
এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের আট জেলার মধ্যে পাসের হার ও জিপিএ ৫ প্রাপ্তি- উভয় সূচকেই শীর্ষে রয়েছে রাজশাহী জেলা। বোর্ডে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৪০ শতাংশই এ জেলার। তবে জেলার এই সাফল্যের বিপরীতে সামগ্রিক ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। এ বছর বোর্ডে পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের অর্ধেকেরও বেশি অকৃতকার্য হয়েছে।
বোর্ডের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর মোট চার হাজার ৫২০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী জেলার এক হাজার ৭৮৫ জন, যা বোর্ডে মোট জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর প্রায় ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বগুড়া জেলা। এ জেলার এক হাজার ৩০৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে। ৫৫০ জন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাবনা জেলা।
পাসের হারেও আট জেলার মধ্যে শীর্ষে রাজশাহী। এ জেলায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বগুড়ায় ৫৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং তৃতীয় অবস্থানে থাকা জয়পুরহাটে পাসের হার ৪১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ বছর রাজশাহী জেলায় পরীক্ষায় অংশ নেন ২৮ হাজার ৮৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছেন ১৫ হাজার ৫৪০ জন।
বগুড়ায় সেরা আজিজুল হক কলেজ
চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় ফল বিপর্যয়ের ঢেউ বগুড়াতেও লেগেছে। তবে বিপর্যয়ের মধ্যেও বগুড়ার মধ্যে পাস ও জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষ স্থানে রয়েছে সরকারি আজিজুল হক কলেজ। এই প্রতিষ্ঠান থেকে এক হাজার ৪৭১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এক হাজার ৪৫৫ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। পুরো জেলায় অর্জিত মোট এক হাজার ৩০৯টি জিপিএ ৫-এর মধ্যে আজিজুল হক কলেজ থেকেই জিপিএ ৫ পেয়েছে ৭৪৭ জন।
কলেজের ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো: মাহফুজুল ইসলাম জানান, তারা আরো ভালো ফলাফল আশা করেছিলেন, তবে যা হয়েছে তাতে তারা সন্তুষ্ট এবং ভবিষ্যতে এই ফলাফল আরও উন্নত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ৪৯টির কেউ পাস করেনি
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের এবার ৪৯টি কলেজ থেকে কেউ পাস করেনি। এর মধ্যে নীলফামারীতে সর্বোচ্চ ১২টি কলেজ থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। শতভাগ ফেলের মধ্যে সবচেয়ে কম গাইবান্ধা ও পঞ্চগড়ে দু’টি করে কলেজ রয়েছে।
মাদরাসায় দেশসেরা তা’মীরুল মিল্লাত
গাজীপুরে এইচএসসির ফলে রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ৫৮৯ পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে। জেলায় একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করেছে কলেজটি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি থেকে সর্বোচ্চ ৩৫২ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে। অন্য দিকে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে দেশসেরা সাফল্য ধরে রেখেছে টঙ্গীর তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা। প্রতিষ্ঠানটির এক হাজার ৪০৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে এক হাজার ৪০৩ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৪৬৪ জন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








