
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
সৌদি আরবে জরুরি নয় এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে ইরান-সমর্থিত হাউছি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হামলার মুখে গত শুক্রবার সৌদিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এ নির্দেশ জারি করে। এক সতর্কবার্তায় দূতাবাস জানিয়েছে, বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হাউছিদের হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটার পাশাপাশি যাতায়াত ব্যবস্থা বিঘিœত হয়েছে। পরিস্থিতির আরো অবনতি ও সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আলজাজিরা
রিয়াদে ড্রোন ধ্বংসের দাবি : এএফপি জানায়, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আকাশে শত্রুদের ছোড়া একটি ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে দেশটি। শনিবার ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র ওই দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে রিয়াদ অঞ্চলের আকাশে একটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি বলেছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে রিয়াদ অঞ্চলে শত্রুপক্ষের ছোড়া ড্রোন শনাক্তের পর ধ্বংস করেছে। আকাশে ড্রোনটি ধ্বংসের পর এর খণ্ডাংশ নিচে পড়লেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে এ ড্রোনটি ঠিক কারা উৎক্ষেপণ করেছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি মালকি।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছে ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীরা। সম্প্রতি রিয়াদ বিমানবন্দরে হাউছিদের প্রাণঘাতী হামলার পর বিমানবন্দরটি টানা দুই সপ্তাহ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। একই সাথে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনও বাতিল করে রিয়াদ। হাউছিদের এসব হামলায় সৌদির অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনাকে ঝুঁঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। এর আগে, শুক্রবার মালকি বলেছিলেন, ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম নগরী মদিনা শহর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে হাউছিরা। তবে পরবর্তীতে এ দাবি অস্বীকার করেছে হাউছি বিদ্রোহীরা।
চলতি গ্রীষ্মে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি-সমর্থিত সরকারের সাথে হাউছিদের নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকেই সৌদির তেল অবকাঠামো, বিমানবন্দর ও বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছে এ গোষ্ঠীটি। জাতিসঙ্ঘ বলেছে, এ সংঘাত নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বাড়িঘর ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন দুই লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। গত জুলাইয়ে ইয়েমেনের আকাশসীমায় সৌদি আরবের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে রাজধানী সানায় ইরানি একটি বিমানকে অবতরণের সুযোগ দেয় হাউছিরা। এর পরপরই ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুরোপুরি বিফলে যায় এবং দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় হামলা শুরু হয়। পরবর্তীতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেয় হাউছিরা এবং সৌদির বাণিজ্যিক জাহাজ, ভূখণ্ড ও তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা শুরু করে। একপর্যায়ে বিদ্যুৎগতির অভিযানের মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় গোষ্ঠীটি। এ দিকে সৌদি আরব পাল্টা হামলা চালানো শুরু করায় হাউছিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে ঘন ঘন বিমান হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে গোষ্ঠীটি।
রুশ স্যাটেলাইট সহায়তার অভিযোগ
সৌদি আরবের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলায় ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীরা রাশিয়ার স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তা নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেনেভাভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অরোরা জিওসিগন্যাল ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত হাউছিদের চালানো ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আগে-পরে রাশিয়ার বারস-এম, পারসোনা, লোটোস-এস১, পিওন-এনকেএস ও কনডর-এফকেএর মতো সামরিক নজরদারি স্যাটেলাইটকে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে। এসব ভূস্থানিক ও যোগাযোগ সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য ইরানের নেতৃত্বাধীন কাঠামোর মাধ্যমে হাউছিদের অভিযানে কাজে লাগছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে রাশিয়া সরাসরি তথ্য দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলিও জানিয়েছেন, হাউছিরা রাশিয়া ও চীন থেকে গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছে।
তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলে হামলা ও বিমান চলাচলে সতর্কতা
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় তেলসমৃদ্ধ অঞ্চল ও পবিত্র মদিনা অঞ্চলের আকাশেও হাউছিদের ছোড়া একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। দেশটির অর্থনীতি ও প্রধান তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর কার্যালয় অবস্থিত এ অঞ্চলে ধারাবাহিক ড্রোন হামলার কারণে জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক এসব হামলার পর সৌদি আরবের বিমানবন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে মার্কিন সরকারি কর্মীদের বিশেষ অনুমতি নিতে বলা হয়েছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আংশিকভাবে চালু থাকলেও জেদ্দা ও দাম্মামের বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে দেরি ও কিছু ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটছে। মার্কিন নাগরিকদের আকাশপথে চলাচলের সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকার এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দৃশ্য বা হামলার স্থানের ছবি তোলা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








