
নিজস্ব প্রতিবেদক
একই প্রতিষ্ঠান, একই আইনের আওতায়, তবু চাকরির নিশ্চয়তায় ভিন্ন নীতি। জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ের জনবল স্থায়ী স্বীকৃতি পেলেও দেশের ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে কর্মরত ৭৪৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।
বছরের পর বছর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও থেরাপিসেবা দিয়ে আসা এসব কর্মীর চাকরির স্থায়ীকরণ, বেতন-ভাতা, পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে জটিলতা কাটেনি। এ অবস্থায় ফাউন্ডেশনের আসন্ন ৯৫তম বোর্ড সভার দিকে তাকিয়ে আছেন ৭৪৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী।
ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা, ৯৫তম সভায় চাকরির ধারাবাহিকতা, স্থায়ীকরণ, পদ সৃজন এবং প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কার্যকর ও বিধিসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা নিরসন না হলে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
আইন হয়েছে, চাকরির নিশ্চয়তা মেলেনি : জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন গঠিত হয় ১৯৯৯ সালের ১৬ নভেম্বর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে পাঁচটি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত সারা দেশে ১০৩টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এসব কেন্দ্রে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন, ফিজিওথেরাপি, বিভিন্ন ধরনের থেরাপি, সহায়ক উপকরণ বিতরণ ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর জাতীয় সংসদে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন আইন, ২০২৩ পাস হয়। ১৩ নভেম্বর আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। আইনের ২২ ধারার ২ উপধারার (ঘ) অনুযায়ী বিলুপ্ত ফাউন্ডেশন, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র, সব উন্নয়ন প্রকল্প এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জনবলের চাকরির ধারাবাহিকতা ও সুযোগ-সুবিধা সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। এখন পর্যন্ত নতুন প্রবিধিমালা প্রণীত না হওয়ায় ২০১৬ সালের কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
জানা গেছে, ফাউন্ডেশনের ৯৩তম বোর্ড সভায় প্রধান কার্যালয়ের ২৪ জনবলকে স্থায়ী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। একই সাথে সেবা কেন্দ্রের কর্মীদের বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি নিয়োগ ও যোগদানের তথ্য যাচাই করে চাকরির ধারাবাহিকতা বিবেচনায় সুপারিশও করে। ৯৪তম বোর্ড সভায় সেবা কেন্দ্রের ৭৪৫ জনবলকে জনপ্রশাসন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পদ সৃজন সাপেক্ষে স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক কাঠামোয় প্রায় ১০ হাজার ২০০ জনবলের পদ সৃজনের প্রস্তাব করা হলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রধান কার্যালয়ের মাত্র ৩৭টি পদ অনুমোদন দেয়। ৯৫তম বোর্ড সভায় তাদের চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে কার্যকর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় তারা ।
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ কবীর এ বিষয়ে বলেন, রোববারের বোর্ড মিটিংয়ে চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়টি এজেন্ডাতেও রয়েছে। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এরইমধ্যে দুই-তিনবার বিভিন্ন বিষয় জানতে চেয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী জবাব দিয়েছি। তবে যতদূর জেনেছি বিষয়টি সমাধানে চেষ্টা করা হচ্ছে।
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের (পরিচালক অর্থ) সোনা মনি চাকমা বলেন, এটা নির্ভর করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর। সামনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘অর্গানোগ্রাম’ মিটিংয়ে এটা অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এরই মধ্যে ৩৭ জনের বিষয়ে অনুমোদন হয়। সামনের আরেকটি মিটিংয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আলোচনা হবে অন্যদের বিষয়ে। পরবর্তীতে এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বিবেচনা করবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








