
গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক তিন ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকদের শুরু করা আন্দোলনে পরে পাশের ডিভাইন টেক্সটাইলের শ্রমিকরাও যোগ দেন। এতে চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির কারণে আশপাশের ১০ থেকে ১২টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
শ্রমিকদের ভাষ্য, বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আগের মতো অতিরিক্ত কাজের (ওভারটাইম) সুযোগও নেই। অথচ চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও তাদের আয় বাড়েনি। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
শিল্প পুলিশ, শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত দুই সপ্তাহ ধরে কোনাবাড়ী, মৌচাকসহ গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্প এলাকায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ চলছে। এর মধ্যে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু এ সিদ্ধান্তের পরও বিভিন্ন কারখানায় বিক্ষোভ থামেনি।
গতকাল দুপুরে টিফিনের বিরতির সময় কাজে ফিরে না গিয়ে ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়কে নেমে আসে। এ সময় তারা ময়লা-আবর্জনার বস্তা সড়কে ফেলে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। পরে তাদের সাথে যোগ দেন পাশের ডিভাইন টেক্সটাইলের শ্রমিকরাও। একপর্যায়ে অবরোধের প্রভাব আশপাশের শিল্পকারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। বেলা আড়াইটা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়।
এদিকে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আশপাশের ১০ থেকে ১২টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
মহাসড়কে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় আটকে পড়া বাসচালক হারুন মিয়া বলেন, এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চন্দ্রা এলাকায় বসে আছেন তিনি। এর আগে গত বৃহস্পতিবারও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি জানান, পোশাক শ্রমিকরা প্রায়ই এভাবে সড়ক বন্ধ করে রাখলে তাদের মতো পরিবহন শ্রমিকদের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না। বাসে আটকে পড়া যাত্রী কালু মিয়া বলেন, জরুরি কাজে ঢাকায় যেতে হবে। কিন্তু চন্দ্রায় এসে বাস থেকে নেমে বাধ্য হয়ে হেঁটে রওনা হয়েছেন তিনি।
জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক জোট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আশরাফুজ্জামান বলেন, পোশাক শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। তবে দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা উচিত। মানুষের জানমালের ক্ষতি ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, এমন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকতে তিনি শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
কালিয়াকৈর থানার ওসি সহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশপাশের ১০ থেকে ১২টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








