সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমাতে বড় পরিসরে পারমাণবিক প্রযুক্তির যাত্রা
  •  গাজীপুরে বছরে ৮৫ হাজার টন পণ্য প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা; পেঁয়াজ সংরক্ষণে বছরে ২০০-২৫০ কোটি টাকার সাশ্রয় হবে
  •  আম-লিচুসহ ফল রফতানিতে নতুন দুয়ার; সংরক্ষণকাল বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ

দেশে প্রতি বছর উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য সংগ্রহোত্তর পর্যায়ে নষ্ট হয়। পেঁয়াজের অঙ্কুরোদগম ও পচন, ফলের অতিরিক্ত পাকন এবং রোগজীবাণুর আক্রমণে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি গুনতে হয়। অন্য দিকে সংরক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণের সীমাবদ্ধতায় সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কৃষিপণ্য রফতনি বাড়ানো যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে গাজীপুরের গামা ইরেডিয়েশন সেন্টার।
সংশ্লিষ্ট গবেষণা তথ্য বলছে, দেশে প্রতি বছর উৎপাদিত মোট কৃষিপণ্যের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ সংগ্রহোত্তর পর্যায়ে নষ্ট হয়। এর আর্থিক মূল্য প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। পেঁয়াজ, আলু, আমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের সংরক্ষণকাল বাড়ানো এবং পচন সৃষ্টিকারী জীবাণু নিয়ন্ত্রণে গামা বিকিরণ প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। একই সাথে ফল পাকতে বিলম্ব ঘটিয়ে দূরবর্তী বাজারে সরবরাহ ও রফতানির সুযোগ বাড়ানো সম্ভব।
সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমাতে নতুন প্রযুক্তি 
বাংলাদেশে কৃষিপণ্যের সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কৃষি অর্থনীতির অন্যতম বড় সমস্যা। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁয়াজের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ, আলুর ৫ থেকে ৮ শতাংশ, ধানের ৮ থেকে ৯ শতাংশ এবং আমের ৩০ থেকে ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত সংগ্রহোত্তর ক্ষতি হতে পারে। ফল ও সবজির ক্ষেত্রে এ ক্ষতির হার ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত।
বিশেষ করে পেঁয়াজ সংরক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় রয়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। সাধারণ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে গিয়ে পচন ও অঙ্কুরোদগমের কারণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়। মে থেকে জুলাই মাসে অতিরিক্ত তাপমাত্রায় আর্দ্রতা ও ওজন কমে যায়। বর্ষাকালে আর্দ্রতার কারণে পচন বাড়ে। আবার সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে তাপমাত্রা কমতে শুরু করলে অঙ্কুরোদগম দেখা দেয়। পর্যাপ্ত উপযোগী সংরক্ষণাগারের অভাব এ সঙ্কটকে আরো বাড়িয়ে তোলে।
গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁয়াজে ৫০ থেকে ২০০ গ্রে মাত্রার গামা বিকিরণ প্রয়োগ করে অঙ্কুরোদগম নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণকাল বাড়ানো সম্ভব। উপযুক্ত ডোজ প্রয়োগে ছয় মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। বিনার গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই প্রযুক্তিতে রসুন ১২ মাস এবং আলু ছয় মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে।
এ দিকে গতকাল শনিবার গাজীপুরের ভবানীপুরে দেশের বড় পরিসরের গামা ইরেডিয়েশন সেন্টারের উদ্বোধন করেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) আঞ্চলিক গবেষণা স্টেশনে স্থাপিত কেন্দ্রটিতে বছরে সর্বোচ্চ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন কৃষিপণ্য ও খাদ্যদ্রব্যে গামা বিকিরণ প্রয়োগ করা সম্ভব হবে। গত সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রটির কমিশনিং কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্যের সংরক্ষণক্ষমতা (শেলফ লাইফ) বাড়ানো, জীবাণুমুক্তকরণ এবং গুণগত মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে আরো প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিপণ্যকে দেশের অন্যতম প্রধান রফতানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করছে। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চলের আমের গুণগত মান ভালো। গামা ইরেডিয়েশনের মাধ্যমে এসব আমের সংরক্ষণক্ষমতা বাড়ানো ও জীবাণুমুক্ত করা সম্ভব হলে আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি বাড়বে।
মন্ত্রী জানান, সম্প্রতি চীন থেকে আসা একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের আম আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁঠালেরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এসব পণ্য রফতানিতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা জরুরি। এ লক্ষ্য পূরণে গামা ইরেডিয়েশন সেন্টার সময়োপযোগী উদ্যোগ। 
তিনি আরো বলেন, কৃষিপণ্যের পচন ও অপচয় রোধ এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের সুরক্ষায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। 
যেভাবে কাজ করবে গামা ইরেডিয়েশন 
গামা ইরেডিয়েশন একটি ভৌত প্রক্রিয়া। এতে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় আয়োনাইজিং রেডিয়েশন বা আয়ন সৃষ্টিকারী বিকিরণ কৃষিপণ্য ও খাদ্যদ্রব্যের ওপর প্রয়োগ করা হয়। গাজীপুরের কেন্দ্রটিতে কোবাল্ট-৬০ থেকে উৎপন্ন গামা রশ্মি ব্যবহার করা হবে। নির্দিষ্ট মাত্রায় বিকিরণ প্রয়োগের ফলে কৃষিপণ্যে থাকা ক্ষতিকর পোকামাকড়, পরজীবী ও রোগজীবাণুর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা যায়। একই সাথে পেঁয়াজ ও আলুর মতো কন্দজাতীয় ফসলের অঙ্কুরোদগম এবং আম, কলা ও পেঁপের মতো ফলের পাকতে শুরু করার প্রক্রিয়া ধীর করা সম্ভব।
এ প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, বিকিরণ প্রয়োগের ফলে খাদ্য নিজে তেজস্ক্রিয় হয়ে যায় না। এটি খাদ্যে রাসায়নিক সংরক্ষক মেশানোর প্রক্রিয়াও নয়। তবে পণ্যের ধরন ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিকিরণের মাত্রা নির্ধারণ করতে হয়। সব কৃষিপণ্যে একই মাত্রার বিকিরণ প্রয়োগের সুযোগ নেই। পণ্যের জাত, আকার, আর্দ্রতা ও সংরক্ষণ পরিস্থিতি বিবেচনায় গবেষণার মাধ্যমে উপযুক্ত ডোজ নির্ধারণ জরুরি।
বছরে ৮৫ হাজার টন প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা 
গাজীপুরের ভবানীপুরে স্থাপিত কেন্দ্রটির মূল যন্ত্রে রয়েছে ৫০০ কিলোকিউরি ক্ষমতাসম্পন্ন কোবাল্ট-৬০ উৎস। বিনার তথ্য মতে, এখানে ঘণ্টায় প্রায় ৮ থেকে ১০ মেট্রিক টন পণ্য বিকিরণ করা সম্ভব। তিন শিফটে পরিচালনা করা হলে বছরে সর্বোচ্চ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন কৃষিপণ্য ও খাদ্যদ্রব্য প্রক্রিয়াকরণ করা যাবে।
বিনার প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, কেন্দ্রটির সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দেশের পেঁয়াজের সংগ্রহোত্তর ক্ষতির মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ কমানো গেলে বছরে প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ অতিরিক্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব। বর্তমান বাজারমূল্য বিবেচনায় এর আর্থিক মূল্য প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা।
তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবে কাজে লাগানো নির্ভর করবে কেন্দ্রটির প্রকৃত ব্যবহার, কৃষকের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ, পরিবহন, প্রক্রিয়াকরণ ব্যয় এবং বিকিরণ-পরবর্তী সংরক্ষণ ব্যবস্থার ওপর।
আম-লিচুসহ ফল রফতানিতে সম্ভাবনা
বাংলাদেশে আম, লিচু, কাঁঠাল, আনারস, কলা ও পেঁপের উৎপাদন সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু উৎপাদন মৌসুমে অতিরিক্ত সরবরাহ, অপর্যাপ্ত সংরক্ষণ, পরিবহনজনিত ক্ষতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের কোয়ারেন্টাইন শর্ত পূরণে সীমাবদ্ধতার কারণে এসব ফলের রফতানি সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
গামা বিকিরণ প্রয়োগের মাধ্যমে ফলের পাকতে বিলম্ব ঘটানো এবং রোগজীবাণুর আক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে পরিবহনের সময় বাড়ানো সম্ভব হবে। বিনার গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উপযুক্ত ডোজ প্রয়োগে আম ও কলার সংরক্ষণকাল ১০ দিন থেকে তিন সপ্তাহ এবং পেঁপের ক্ষেত্রে ১৪ দিন থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হতে পারে। তবে এ সময়সীমা ফলের জাত, বিকিরণের মাত্রা, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার ওপর নির্ভরশীল।
আন্তর্জাতিকভাবেও খাদ্য বিকিরণ প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গবেষণা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট শর্তে খাদ্য বিকিরণ স্বীকৃত প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত। ১৯৮৩ সালে কোডেক্স অ্যালিমেন্টারিয়াস কমিশন খাদ্য বিকিরণের আন্তর্জাতিক মান গ্রহণ করে।
ভারত ২০০৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আম রফতানির ক্ষেত্রে কোয়ারেন্টাইন শর্ত পূরণে বিকিরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, থাইল্যান্ড ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের স্থাপনা রয়েছে। বাংলাদেশের জন্যও এ প্রযুক্তি রফতানির ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
কৃষিপণ্যের বাইরেও ব্যবহার :
গামা ইরেডিয়েশন সেন্টারের ব্যবহার শুধু কৃষিপণ্য সংরক্ষণে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মসলা, শুঁটকি মাছ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, পশুখাদ্য এবং হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণেও এটি ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি সার্জিক্যাল মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ, নিডল, ব্যান্ডেজ, সার্জিক্যাল কটন, গজসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী জীবাণুমুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
এর ফলে কৃষিপণ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন এবং রফতানিমুখী শিল্পের জন্য নতুন সেবা খাত গড়ে উঠতে পারে। সরকারি সেবার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রক্রিয়াকরণ ফি আদায়ের মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের সুযোগও রয়েছে।
কেন্দ্রটি কৃষি গবেষণায়ও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। কৃষিপণ্যের উপযোগী বিকিরণ মাত্রা নির্ধারণ, সংরক্ষণকাল বৃদ্ধি ও রোগজীবাণু নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এমএস ও পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ প্রযুক্তিকে ঘিরে পণ্য সংগ্রহ, বাছাই, গ্রেডিং, প্যাকেজিং, পরিবহন ও সংরক্ষণে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও রয়েছে।
নিরাপত্তা ও জনবল নিশ্চিত করা জরুরি 
সম্ভাবনাময় এ প্রযুক্তির নিরাপদ পরিচালনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রটিতে ব্যবহৃত কোবাল্ট-৬০ একটি তেজস্ক্রিয় উৎস। তাই প্রশিক্ষিত জনবল, নিয়মিত ডোজ পরিমাপ, যন্ত্রের ক্যালিব্রেশন, বিকিরণ নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) লাইসেন্স ও নিরাপত্তা বিধিমালা অনুসরণ করে কেন্দ্রটি পরিচালনা করতে হবে।
বিনার তথ্য মতে, প্রতিষ্ঠানটিতে বিকিরণ নিরাপত্তায় প্রশিক্ষিত বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তা রয়েছেন। রেডিয়েশন কন্ট্রোল অফিসারও দায়িত্ব পালন করছেন। তবে বিদ্যমান কাজের তুলনায় জনবল অপ্রতুল। নতুন কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল সৃষ্টির প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অন্য দিকে খাদ্য বিকিরণ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকে মনে করেন, গামা রশ্মি প্রয়োগ করলে খাবার তেজস্ক্রিয় হয়ে যায়। বাস্তবে নিয়ন্ত্রিত খাদ্য বিকিরণ ও তেজস্ক্রিয় দূষণ এক বিষয় নয়। তাই কৃষক, ব্যবসায়ী, ভোক্তা ও রফতানিকারকদের মধ্যে এ প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
বিভাগীয় পর্যায়ে কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা প্রয়োজন 
গাজীপুরের কেন্দ্রটি দেশের কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হলেও সারা দেশের কৃষকের কাছে এ সুবিধা পৌঁছে দেয়া বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে পাবনা, ফরিদপুর ও রাজবাড়ীসহ পেঁয়াজ উৎপাদনকারী গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে এ প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে দিতে হবে।
কৃষিমন্ত্রীও দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে পর্যায়ক্রমে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে বিভাগীয় পর্যায়ে গামা ইরেডিয়েশন সুবিধা এবং সমুদ্র, নৌ ও স্থলবন্দরকেন্দ্রিক প্রক্রিয়াকরণ অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

Advertisement