স্পিনাররাই হতে পারেন টাইগারদের ভরসা

 ক্রীড়া প্রতিবেদক 
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টে কঠিন পরীক্ষার সামনে বাংলাদেশ। এর অন্যতম কারণ ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিক ব্যর্থতা। তার সাথে যোগ হয়েছে উইকেটে স্পিনারদের দাপট। যার ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়ার সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পেয়েছে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে তা কাজে লাগাতে পারেনি নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তৃতীয় দিন শেষে ছয় উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ মাত্র ৭৯ রান। ইতোমধ্যে লিড পেয়েছে ১০৬ রানের।
তবে ম্যাচে এখনো আশার আলো দেখছে বাংলাদেশ। কারণ মিরপুরের উইকেটে বল ঘুরছে, তৈরি হচ্ছে অসমান বাউন্স। এমন পরিস্থিতিতে দুই দলের স্পিনাররাই হয়ে উঠেছেন সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়ার কারিগর। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জোমেল ওয়ারিকান পাঁচ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছেন। একই অবস্থা ছিল ক্যারিবীয়দের। প্রথম ইনিংস তাদের ২৪৫ রানে গুটিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশের তিন স্পিনার নাঈম হাসান, তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। চার উইকেট নিয়ে দলের সফলতম বোলার ছিলেন নাঈম।
দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবীয় স্পিনারদের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটারদের অসহায় আত্মসমর্পণ নতুন করে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। তবে এখনো বাংলাদেশের হাতে আছে চার উইকেট। চতুর্থ দিনে তাই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে হলে স্পিনারদের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে স্বাগতিকদের। এর আগে ম্যাচ জয়ের জন্য যে পাথেয় প্রয়োজন টাইগাদের, সেই দায়িত্ব প্রথমে নিতে হবে ব্যাটাদের। সে ক্ষেত্রে অন্তত আরো ১০০ রানের লিড বাড়িয়ে নিতে হবে বাংলাদেশকে। এরপর তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানের হাত ধরে ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখতে পারে শান্তবাহিনী।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ছয় উইকেট হারিয়ে ৭৯ রান তুলেছে বাংলাদেশ। প্রথম দিন থেকেই বোলারদের জন্য সহায়ক ছিল উইকেট। ওপেনার সাদমান ইসলামের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে প্রথম দিন ভালো অবস্থানে ছিল স্বাগতিকরা। তবে দ্বিতীয় দিন থেকে বদলাতে শুরু করে ম্যাচের চিত্র। ব্যাটারদের জন্য যেন দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছে মিরপুরের উইকেট। 
প্রথম তিন দিনেই দাপট দেখিয়েছেন দুই দলের স্পিনাররা। প্রথম টেস্টের প্রথম দিনই শুরু করেছিলেন জোমেল ওয়ারিকান। দ্বিতীয় দিন তার সাথে যোগ দেন জশুয়া বিশপ। দু’জনে মিলে বাংলাদেশের সাত ব্যাটারকে পাঠান সাজঘরে। এরপর প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামা উইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপে এবার আক্রমণ চালান মেহেদী হাসান মিরাজ, কখনো নাঈম হাসান, কখনো তাইজুল ইসলাম। তিনজনের ঝুলিতে পুড়েছেন আট উইকেট। আবার টাইগারদের দ্বিতীয় ইনিংসে আঘাত হানেন ক্যারিবীয় স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান ও রোস্টন চেজ- বল হাতে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়েছেন তারা। বাংলাদেশী পাঁচ ব্যাটারকে আউট করেন তারা দু’জন। দুই দলের তিন দিনেই পতন হয়েছে ২৬টি উইকেট। এর মধ্যে ২০ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে বেশি অবদান স্পিনারদের।
দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলাদেশের ইনিংসে বল হাতে শুরু রোস্টন চেজ ও জোমেল ওয়ারিকানের ঘূর্ণি। দু’জনের তাণ্ডবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। মাত্র ২৮ রানের মধ্যে তিনটি উইকেট হারায় দল। দ্রুতই ফিরে যান তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত ও তৌহিদ হৃদয়। এরপর বেশিক্ষণ টেকেননি লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজও। ক্যারিবীয় দুই স্পিনারের ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। চেজ তুলে নেন তিনটি উইকেট, ওয়ারিকান শিকার করেন দু’টি।
জাকের আলী ও নাঈম হাসান ১৮ রান করে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রানে। হাতে রয়েছে মাত্র চার উইকেট। ফলে চতুর্থ দিন সকালে এই দুই ব্যাটারের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে বাংলাদেশের ইনিংসের ভবিষ্যৎ।
মিরপুরের উইকেটে তিন দিনেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে স্পিনারদের কার্যকারিতা। নাঈম হাসান প্রথম ইনিংসে চার উইকেট নিয়ে দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছেন। অন্য দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেজ ও ওয়ারিকান দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটারদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছেন। ফলে উইকেটের যে আচরণ, তাতে চতুর্থ দিনেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন স্পিনাররা।

Advertisement