
নিজস্ব প্রতিবেদক
পতিত স্বৈরাচারের বিদায়ের পর দেশে নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, তরুণ সমাজ ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পতিত ও নব্য স্বৈরাচারকে পরাজিত করতে হবে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এনসিপি আয়োজিত গণবিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের শীর্ষ নেতারা এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সব ইউনীটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সরকারের নিকট চার দফা দাবি পেশ করে দলটি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকার ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কোনো পরিকল্পনা নেই। লন্ডন থেকে দেশে ফিরে তারা লুটপাটের রাজনীতি কায়েম করছেন। তাদের মূল পরিকল্পনা হচ্ছে দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলদারত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন, ‘শুনছি আগামী ডিসেম্বরে পতিত স্বৈরাচার দেশে আসবে। আমরা জানি, এই নতুন স্বৈরাচার (বিএনপি) তাকে কোনোভাবেই মোকাবেলা করতে পারবে না। যারা বিগত ১৬ বছরেও পারেনি, তারা জনগণকে কীভাবে রক্ষা করবে? হাজারো মানুষের রক্তদানের পর পতিত স্বৈরাচারকে বিদায় করে আমরা এখন নতুন এক স্বৈরাচারের উত্থান দেখছি। তবে আপনাদের সামনে আমাদের ওয়াদা, পতিত এবং নব্য- এই দুই স্বৈরাচারকেই আমরা পরাজিত করব।’
বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করার সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষায় আয়োজিত গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছিলেন। অথচ সেই গণভোটের রায় উপেক্ষা করে সালাহউদ্দিন আহমেদ সংবিধান কাটাছেঁড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন। এ জন্য তিনি সালাহউদ্দিন আহমেদ ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, একতরফা সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। বিএনপি নির্বাচনের প্রথম দিন থেকেই জুলাই সনদ, ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে আসছে।
সীমান্ত হত্যা ও ভারতের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত চলছে। সীমান্তে হত্যা করা হচ্ছে, পাহাড়ে অশান্তি তৈরি করা হচ্ছে। ভারতের চক্রান্ত থেকে বর্তমান সরকার দেশকে রক্ষা করতে পারবে না। তিনি বলেন,জাপান সফরে গিয়ে তারেক রহমান ভারতের হাতে অবৈধ করিডোর তুলে দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ এমন কোনো অবৈধ করিডোর মেনে নেবে না। আগামী ডিসেম্বরে গঙ্গা চুক্তি ন্যায্যভাবে করা না হলে আমরা একবিন্দুও ছাড় দেবো না।’
সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা, গণতন্ত্র কিংবা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা- কোনো কিছুই ঠিক নেই। নির্বাচনের পর দেশ ঠিক হওয়া তো দূরের কথা, দল হিসেবে বিএনপিও সংযত হয়নি।
তিনি বলেন, গত নয় মাসে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মারামারিতে দলটির ৪০ জনের বেশি নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। দেশজুড়ে খুন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও দখলদারত্বের ঘটনা ঘটছে। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব অপরাধ বন্ধ ও অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত না করে সংবিধান রক্ষার মিশনে নেমেছেন। আপনারা যে ব্যর্থ রাষ্ট্র তৈরি করেছেন, তার সরাসরি দায় তারেক রহমানকেই নিতে হবে।’
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। আখতার বলেন, বাজেট ঘোষণার পর সরকার দাবি করেছিল, জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। অথচ বাস্তবে বাজেটের আগে ও পরে প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে।
তিনি বলেন, ‘আজ কলকাতায় যেখানে এক হাজার টাকায় গ্যাস পাওয়া যায়, সেখানে বাংলাদেশে কেন আড়াই হাজার টাকায় গ্যাস কিনতে হবে? পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে যদি যুদ্ধের প্রভাব না পড়ে, তবে এ দেশের জনগণকে কেন এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে- জ্বালানিমন্ত্রীকে এর সুস্পষ্ট জবাব দিতে হবে।’
মানবাধিকার সুরক্ষার আইন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির সদস্যসচিব। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর মানবাধিকার সুরক্ষায় শক্তিশালী আইন প্রণয়নের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সরকার এমন দুর্বল আইন তৈরি করেছে, যাতে নির্বিচারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পথ সুগম হয়।
উল্লেখ্য, গণবিক্ষোভে উত্থাপিত এনসিপির চার দফা দাবি হলো- ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ; একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের গণরায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন; মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা পরিপন্থী সব আইন বাতিল এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী পাস না করা; জুলাই গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করে অবিলম্বে তা কার্যকর করা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








