
গ্রামীণ গ্রুপের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে ‘সুখী’ সবার জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করছে বলে মন্তব্য করেছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। স্বাস্থ্যসেবায় জনস্বাস্থ্য ও সুস্থতাবিষয়ক কার্যক্রম সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ‘সিং ফর হোপে’র সাথে অংশীদারত্বের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এটি শুধু তাত্ত্বিক ধারণা নয়, বরং বাস্তব ও কার্যকর সেবা প্রদানের উদ্যোগ।
নিউ ইয়র্কের লিংকন সেন্টারের লিংকন রিস্তোরান্তে সিং ফর হোপের ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে এ অংশীদারত্বের ঘোষণা দেয়া হয়। বাংলাদেশের গ্রামীণ হেলথ টেক লিমিটেডের ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম ‘সুখী’র সাথে এ আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব গড়ে উঠেছে।
অনুষ্ঠানে সিং ফর হোপের প্রতিষ্ঠাতা বোর্ড সদস্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, গ্রামীণ গ্রুপের কাজের অংশ হিসেবে বিশ^জুড়ে কয়েকটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে সুখী সবার জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করছে। চলমান কার্যক্রমে সিং ফর হোপের জনস্বাস্থ্য ও সুস্থতাবিষয়ক মডেল যুক্ত করতে তাদের সাথে অংশীদারত্ব করা হচ্ছে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলার পর সঙ্গীতের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আশা, উদ্যম ও সংযোগ তৈরির উদ্যোগ থেকে সিং ফর হোপের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাতা মনিকা ইউনূস ও ক্যামিল জামোরা গত ২৫ বছর ধরে শিল্পকলাকে জনস্বাস্থ্য, সামাজিক সংহতি ও মানুষের সামগ্রিক সুস্থতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন।
২০২৪ সালে যাত্রা শুরু করা সুখী একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রোগী, চিকিৎসক, ফার্মেসি, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হাসপাতাল ও কমিউনিটিভিত্তিক লিংক ওয়ার্কারদের সংযুক্ত করছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও স্বাস্থ্যসেবাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছে দেয়ায় গুরুত্ব দিচ্ছে প্ল্যাটফর্মটি। বর্তমানে বাংলাদেশে ৫০ লাখের বেশি মানুষ সুখীর সেবা গ্রহণ করছেন।
২০২৬ সালে এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডসে এসডিজি-৩: সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ বিভাগে বাংলাদেশ কান্ট্রি উইনার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে সুখীর কার্যালয় পরিদর্শনের সময় শুরু হওয়া আলোচনার ভিত্তিতে এ অংশীদারত্ব গড়ে উঠেছে। এর আওতায় সিং ফর হোপের ‘ক্রিয়েটিভ ওয়ার্কফোর্স ডেভেলপমেন্ট’ কর্মসূচির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশী শিল্পী ও স্থানীয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ‘ট্রেন দ্য ট্রেইনার’ মডেলে প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগ নেয়া হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবায় শিল্পকলার ভূমিকা সম্প্রসারণে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এনওয়াইসি হেলথ + হসপিটালসের আর্টস ইন মেডিসিন বিভাগের নির্বাহী পরিচালক লারিসা ডব্লিউ. ট্রিন্ডারকে ২০২৬ সালের ‘আর্ট ফর অল অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।
সিং ফর হোপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও কো-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মনিকা ইউনূস বলেন, তারা শিল্পকলাকে স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিক ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ হিসেবে দেখেন। সৃজনশীল কর্মকাণ্ড রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী ও তাদের পরিবারের সামগ্রিক সুস্থতায় সহায়তা করে।
সিং ফর হোপ হাসপাতাল, প্রবীণদের সেবাকেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার ও জনপরিসরে শিল্পকলাভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
সংস্থাটির মতে, অংশগ্রহণমূলক সঙ্গীতচর্চা মানসিক চাপ ও রক্তচাপ কমাতে, মেজাজ উন্নত করতে এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতে সহায়তা করতে পারে। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীদের বিশ^ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক অংশীদার সিং ফর হোপ বিশ^াস করে, শিল্পকলা মানুষকে অনুপ্রাণিত, ঐক্যবদ্ধ ও নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিজ্ঞপ্তি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








