জালিয়াতিতে নিয়োগ পাওয়া ৩ উপসচিবকে ওএসডি

শামছুল ইসলাম

Advertisement

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার ছয় মাস পর অবশেষে জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নেয়া তিন উপসচিবকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা তিনটি প্রজ্ঞাপনে তাদের ওএসডি করার বিষয়টি জানানো হয়।
এই তিন উপসচিব হলেনÑ জামালপুর জোনের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মো: তোফাজ্জল হোসেন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপরে (আইডিআরএ) পরিচালক রকিবুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের সচিব নাহিদা বারিক। এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত ২ এপ্রিল নির্দেশনা দিয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এরপর নানা তালবাহানায় সময়পেণের পর এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
অভিযুক্তরা সবাই ২৯তম বিসিএসের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছিলেন। সরকারি নথি অনুযায়ী তারা মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেলেও দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিসিএস পরীার সময় তাদের কেউ-ই মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেননি।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই তিন উপসচিবসহ মোট ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটা জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পায় দুদক। অন্য তিন কর্মকর্তা ভিন্ন ক্যাডারে কর্মরত রয়েছেন। অনুসন্ধানে জালিয়াতির প্রমাণ মেলায় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে দুদক।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মতার অপব্যবহার, নথিপত্রে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজশে ২৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের প্রায় ছয় মাস পর ওই ছয় প্রার্থীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের কোটায় প্রশাসন, পুলিশ, পরিবার পরিকল্পনা ও সাধারণ শিা ক্যাডারে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। সেই মামলার ধারাবাহিকতায় এবার অভিযুক্ত তিন উপসচিবের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদপে নিলো সরকার।
এর মধ্যে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের সচিব হিসেবে চাকরি করছিলেন নাহিদা বারিক। এই কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগদান করেন। এরপর সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেল, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবের একান্ত সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় চাকরি করেন। অন্তর্বর্তী সরকার মতায় আসার পর তাকে বনশিল্প করপোরেশনে বদলি করা হয়।
একইভাবে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপরে পরিচালক (উপসচিব) রকিবুর রহমান খান চাকরিতে যোগদান করেন। ছাত্রলীগের প্রভাব খাটিয়ে পদায়ন বাগিয়ে নেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে মতিঝিল ও ক্যান্টনমেন্ট সার্কেলের মতো জায়গায়। রাজউকের উপপরিচালক, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও ও ফরিদপুরের ভাঙ্গার ইউএনও, কৃষি মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পদায়ন ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকার মতায় আসার পর তাকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়।
একইভাবে ছাত্রলীগের সুপারিশে ভুয়া মুক্তিযুদ্ধা কোটায় নিয়োগ পাওয়া তোফাজ্জল হোসেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কাজ করেছেন মোহাম্মদপুর রাজস্ব সার্কেল, রমনা সার্কেল, ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার, ঢাকার নবাবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের একান্ত সচিব, নারায়ণগঞ্জের এডিসি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে। অন্তর্বর্তী সরকার মতায় আসার পর তাকে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার হিসেবে জামালপুরে বদলি করা হয়।