
সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব নির্ধারণ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর উদ্যোগে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ তাগিদ দেন। বৈঠকে ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন এ আইন বাস্তবায়নের প্রত্যাশা জানানো হয়।
নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদের পরিচালনায় বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। অনুষ্ঠানে কানাডা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয় বলেন, সড়কে নিরাপত্তা সুসংহত করতে নিসচার স্বপ্নদ্রষ্টা ইলিয়াস কাঞ্চনের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়ায় আমরা সাধুবাদ জানাই। অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে আগামী বছরের মধ্যেই আইনটি বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নিসচার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে সংগঠনটি সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে জনসচেতনতা তৈরি ও মাঠপর্যায়ে কাজ করে আসছে। নিসচার ইতিহাস ও অবদানকে খাটো করার বা ২২ অক্টোবরের তাৎপর্য বিকৃত করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ইতিহাস নিয়ে কোনো কথা বলতে হলে তথ্য ও সত্যের ভিত্তিতেই বলতে হবে।
বৈঠকে নিসচার পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর অভিজ্ঞতা, প্রস্তাবিত আইনের প্রয়োজনীয়তা এবং নিরাপদ ব্যবস্থা পদ্ধতি (সেফ সিস্টেম) তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, বিআরটিসিসির চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, বুয়েটের অধ্যাপক ও সড়ক বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো: আইয়ুব ভূঁইয়া, হাইওয়ে পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিআইজি মুনতাসিরুল ইসলাম, ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো: আনিছুর রহমান, সাবেক সচিব ড. শরীফুল আলম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব খালেদ মাহমুদ, সড়ক বিশেষজ্ঞ তাইফুর রহমান, আইইউবির ডিন ড. কামরান উল বাসেত এবং বিআরটিএর পরিচালক মো: জিয়াউর রহমান।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সড়ক, নৌ, রেলপথ ও বিমানপথ একই মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনতে হবে। বাংলাদেশ ও ভারত ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশ এই নীতি অনুসরণ করে সাফল্য পেয়েছে। নিরাপদ ব্যবস্থা পদ্ধতি, গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের নিরাপত্তা, পথচারী সুরক্ষা এবং দুর্ঘটনার পর উদ্ধার কার্যক্রমের ওপর জোর দেয়া হয়। পাশাপাশি তথ্য বিনিময়ের জন্য একটি কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা ডেটা সেল গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়। বৈঠক শেষে নিসচার পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রস্তাবিত আইন পর্যালোচনা এবং অংশীজনদের মতামত বাস্তবায়নে সংগঠনটি সরকারের সাথে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে। বিজ্ঞপ্তি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








