
নিকলী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
একসময় সন্ধ্যা নামলেই হাওরাঞ্চলের ঘরে ঘরে বসত টেলিভিশন দেখার আসর। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনও একসঙ্গে বসে দেখতেন সংবাদ, নাটক, সিনেমা কিংবা খেলার অনুষ্ঠান। আর রেডিও ছিল খবর, গান ও বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনভিত্তিক ভিডিও কনটেন্টের বিস্তারে নিকলীসহ কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে কমছে রেডিও শ্রোতা ও টেলিভিশন দর্শকের সংখ্যা বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
একসময় ঘরে ঘরে রেডিও থাকলেও এখন তা খুঁজে পাওয়া কঠিন। স্থানীয় বাজারের ইলেকট্রনিকসের দোকানগুলোতেও রেডিও বিক্রি প্রায় নেই বললেই চলে। একইভাবে কমেছে টেলিভিশন বিক্রি ও ডিশ সংযোগের চাহিদা। নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের মজলিশপুর গ্রামের বাসিন্দা বদরুল আলম বাচ্চু বলেন, আগে বিশ্বকাপ ফুটবল সামনে রেখে টেলিভিশন কেনার ধুম পড়ত। এবার শোরুমগুলোতে টেলিভিশন বিক্রি প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি; বরং বড় পর্দায় খেলা দেখার জন্য প্রজেক্টরের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে।
নিকলী সদরের হারিছ ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী হারিছ মিয়া বলেন, মানুষের হাতে হাতে স্মার্টফোন পৌঁছে যাওয়ায় আগের মতো টেলিভিশন বিক্রি হচ্ছে না। স্থানীয় সাংবাদিক নুরুল ইসলাম, খাইরুল ইসলাম, যুবরাজ ও হেলাল উদ্দিনের মতে, এখন মানুষ সংবাদ, গান, নাটক ও সিনেমাসহ নানা ধরনের কনটেন্ট মুঠোফোনেই দেখছেন। দীর্ঘ সময়ের অনুষ্ঠান বা নাটকের পরিবর্তে অনেকেই ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ডের ছোট ভিডিওতে বিনোদন খুঁজছেন। তবে শুধু প্রযুক্তির বিস্তারই টেলিভিশন থেকে দর্শক কমার একমাত্র কারণ নয় বলে মনে করছেন স্থানীয় কয়েকজন দর্শক।
নিকলী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রধান এস এম আসাদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তথ্যপ্রবাহ দ্রুত করেছে। তবে যাচাই না করা তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বেড়েছে। ফলে পেশাদার সাংবাদিকতা ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের গুরুত্ব আরো বেড়েছে।
কিশোরগঞ্জ পৌর মহিলা কলেজের অধ্যাপক এম আজিজুল হক বলেন, আগে সংবাদ ও বিনোদনের প্রধান মাধ্যম ছিল টেলিভিশন। এখন স্মার্টফোনের মাধ্যমে সহজেই খবর দেখা ও শোনা যায়। ফলে টেলিভিশনের ওপর নির্ভরতা কমেছে।
গচিহাটা কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রধান কারার লোকমান হোসেনের মতে, প্রযুক্তির পরিবর্তনে রেডিও ও টেলিভিশনের প্রচলিত ব্যবহার কমে এসেছে। প্রযুক্তির এই পরিবর্তন সংবাদ ও বিনোদন গ্রহণকে সহজ করেছে। তবে দ্রুতগতির অনলাইন কনটেন্টের ভিড়ে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা এখন আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








