
আহসানুল হক জুয়েল নিকলী (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের নিকলী-কিশোরগঞ্জ সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কয়েকটি উপজেলার মানুষ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গেছে, সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। সরু ও ভাঙাচোরা সড়কটিতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন। বর্ষা মৌসুমে পর্যটকদের ভিড়ে দীর্ঘ যানজটের কারণে ভোগান্তি আরো বাড়ছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) আওতাধীন ২৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ এ সড়কটি নিকলী উপজেলার সাথে জেলা সদরের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। করগাঁও, গচিহাটা ও যশোদল হয়ে যাওয়া সড়কটি দিয়ে নিকলী ছাড়াও বাজিতপুর, কটিয়াদী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন এবং কিশোরগঞ্জ সদরের একাংশের মানুষ যাতায়াত করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে সড়কটি নির্মাণ করা হলেও ১৯৯০ সালে রোদারপুড্ডা নদীর ওপর ৯০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের মাধ্যমে নিকলীর সাথে জেলা সদরের সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৩ সালে সড়কটি পুনঃসংস্কার করা হয়েছিল। এরপর উল্লেখযোগ্য সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে এর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির প্রস্থ কোথাও ১২ ফুট, কোথাও মাত্র ১০ ফুট। ফলে দু’টি বাস পাশাপাশি অতিক্রম করতে পারে না। বালিকা বিদ্যালয়ের মোড়, কুরসা মোড়, কুশা বাজার, রোদারপুড্ডা বাজার, করগাঁও বাজার, গচিহাটা মোড়, মাথিয়ার হাওর, মাঠের বাজার, ধুলদিয়া বাজার, কশা কড়িআইল উচ্চবিদ্যালয়ের মোড় ও যশোদল বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে চলাচল আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোথাও কোথাও ইটের সোলিং ও ইটের খোয়া দিয়ে সাময়িকভাবে চলাচল সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। পাশাপাশি দূরপাল্লার বাস এবং নিকলী থেকে গুরুদয়াল সরকারি কলেজগামী শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসও ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে। শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসচালক আবদুল মালেক বলেন, ভাঙাচোরা সড়কে শিক্ষার্থীদের নিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। চাকরির প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়েই তাদের যাতায়াত করতে হয়।
এদিকে হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বর্ষাকালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা নিকলীতে আসেন। কিন্তু সড়ক সরু হওয়ায় প্রায়ই ছয় থেকে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে পর্যটকদের অনেক সময় হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে অন্তত ১৮ ফুট প্রশস্ত করা হোক। তাদের মতে, পর্যটন মৌসুমে দুর্ভোগ কমানো এবং নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








