প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাকের পদত্যাগ
প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাকের পদত্যাগ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ইশরাক হোসেন। সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, তারা ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র পেয়েছেন। শিগগিরই প্রজ্ঞাপন হতে পারে। এর  আগে গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন। নিয়ম অনুযায়ী পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর সেটি রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেন। পরে সে বিষয়ে মন্ত্রপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে। বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন আহমেদ আযম খান। আর প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ইশরাক হোসেন।
উল্লেখ্য, শনিবার রাজধানীর গেণ্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ইশরাক হোসেন। তার সাথে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র ছিল। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ইশরাকের উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরদিন রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে ডেকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করতে বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নেয়ার বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, যদি আমার দ্বারা কোনো ভুল হয়ে থাকে, আমি কাউকে আঘাতপ্রাপ্ত করে থাকি এই অভিযানের মাধ্যমে, সেটার জন্য আগে আমি দুঃখপ্রকাশ করে নিচ্ছি। কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমি কোনো ভুল সেদিন করিনি। আমি কেবল আমার নিরাপত্তার জন্য আমার হাতে অস্ত্রটুকু যতটুকু সময় প্রয়োজন রেখেছিলাম, পরবর্তীকালে সেটি আর আমার দৃশ্যমান হয়নি।
ইশরাক হোসেন আরো বলেন, আজকের (সোমবার) দিন থেকে আমি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবং আমি তাকে বলেছি- পুরো সময়টাতে ঢাকা-৬ আসন, পার্শ্ববর্তী এলাকা, পরে আরো যদি এলাকা থাকে সেখানকার মাদক নির্মূল এবং আমাদের জাতীয় জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই। তিনি সম্মত হয়েছেন। সদয় সম্মত হয়েছেন। এবং আমাকে সুযোগ করে দিয়েছেন, ঠিক আছে যাও এলাকা ঠিক করে এলাকায় কাজ কর।
সংবাদ সম্মেলনের নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা আগেই প্রেস ক্লাবে আসেন ইশরাক। এ সময় তার সাথে কয়েক শত নেতাকর্মী ছিলেন। প্রেস ক্লাবে আসার পর নেতাকর্মীরা ইশরাকের পক্ষে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। তারা ‘ইশরাক ভাইয়ের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘ইশরাক ভাই এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে’ স্লোগান দেন। নেতাকর্মীদের কারো কারো হাতে ফুলের তোড়াও দেখা যায়। এরপর নেতাকর্মীদের দ্বারা বেষ্টিত হয়ে প্রেস ক্লাবের তৃতীয় তলায় আবদুস সালাম হলে যান ইশরাক। তখনো হলের ভেতরে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন নেতাকর্মীরা। বেলা পৌনে দুইটার দিকে ইশরাক হোসেন কালো রঙের গাড়িতে করে প্রেস ক্লাবের ফটক দিয়ে ঢোকেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে ইশরাক হোসেন জানান, তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন। পোস্টে ইশরাক হোসেন লিখেছেন, তিনি বেলা ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন বলে জানান। 
সংবাদ সম্মেলনের শুরু থেকে ঘটনার দীর্ঘ বর্ণনা দিতে থাকেন ইশরাক হোসেন। বক্তব্যে নিজের অবস্থান সঠিক থাকার দাবিই বারবার তুলে ধরেন তিনি। পদত্যাগের বিষয়টি জানানোর পর ইশরাক হোসেন সাংবাদিকদের কাছ থেকে কয়েকটি প্রশ্ন নেন। এ সময় সাংবাদিকেরা তাকে নানা বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সরকারি বাহিনী থাকার পরেও ইশরাক হোসেনের ‘অভিযানের’ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো আগের স্বাভাবিক কার্যক্রমে পুরোপুরি ফিরতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে ছয়-সাত মাস পর তারা নিজেরাই কিছু উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়েছেন। ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বিভিন্ন বাহিনীর কাছে বারবার ধরনা দিয়েও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে আলোচনা করেছেন বলে জানান তিনি।
ইশরাক বলেন, তিনি যে নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য, সেখানে ঢাকার সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেণ্ডারিয়া এবং বংশাল ও কোতোয়ালি থানার আংশিক এলাকা নিয়ে ১১টি ওয়ার্ড রয়েছে। এসব এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যানজটসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ ও ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ও ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে প্রতি মাসে অন্তত একবার বৈঠক করেন তারা।