সাবেক এমপি রশীদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত দুদকের

নিজস্ব প্রতিবেদক 

Advertisement

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে খুলনা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো: রশীদুজ্জামান মোড়লের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 
গত বৃহস্পতিবার দুদক মহাপরিচালক নাজমুল হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন। একই সাথে জাতীয় সংসদ ভবনের শব্দযন্ত্র মেরামত ও স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধানের অগ্রগতিও তুলে ধরেন। 
রশীদুজ্জামান মোড়ল ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে খুলনা-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আসনটি খুলনার কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত। 
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৬ অক্টোবর পটুয়াখালীর মহিপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। সে সময় র‌্যাব জানিয়েছিল, সহিংসতা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের তিনটি মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। এবার তার বিরুদ্ধে আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। 
সংসদের শব্দযন্ত্র নিয়ে দুর্নীতির অনুসন্ধান : জাতীয় সংসদ ভবনের প্লেনারি হলে স্থাপিত শব্দযন্ত্র পরিচালনা, মেরামত ও সংস্কারের নামে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। দুদক জানায়, এমন অভিযোগে কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাহিদুর রহিম জোয়ারদারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে। 
দুদকের অভিযোগ, জাতীয় সংসদের শব্দযন্ত্র পরিচালনা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর সাথে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। এর আগে গত ৯ এপ্রিল দুদক জানিয়েছিল, সংসদ ভবনের শব্দযন্ত্রের অনিয়ম নিয়ে ১৩ জানুয়ারি অনুসন্ধান শুরু হয়। এ অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয় সংস্থাটির সহকারী পরিচালক প্রবীর কুমার দাসকে। 
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গণপূর্ত অধিদফতরের কাছে দরপত্র, ব্যয়ের হিসাব, বিল-ভাউচার, নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের তথ্য চায় দুদক। নির্ধারিত সময়ে নথি না পাওয়ায় গত ৭ এপ্রিল আবারো তাগিদ দেয়া হয়। 
দুদকের আগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষের এসআইএস (সাউন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেটি সচল করতে উদ্যোগ নেয় গণপূর্ত অধিদফতর। কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড শব্দযন্ত্রটি পরীক্ষা করে মেরামতের মাধ্যমে চালু করা সম্ভব বলে মত দেয়। এ জন্য প্রায় ৯ কোটি ৪ লাখ টাকার ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়। প্রকৌশলীদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও সম্মানী বাবদ আরো ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা চেয়ে আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি। 
গত ১৬ এপ্রিল এসব অভিযোগে জাহিদুর রহিম জোয়ারদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। সেদিন সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করেন, বিদ্যুতের তারের সংযোগ ঢিলা হয়ে যাওয়ায় সংসদের শব্দযন্ত্রে বিভ্রাট ঘটছিল। সংস্কারকাজের প্রথম ধাপে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের কারিগরি অভিজ্ঞতার ঘাটতিকেও দায়ী করেন তিনি।