
ক্রীড়া প্রতিবেদক
৪ নভেম্বর সাফের উদ্বোধনী ম্যাচেই বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভুটান। ফিফা র্যাংকিংয়ে ১৯২ তে থাকা দলটির বিপরীতে লাল সবুজদের র্যাংকিং ১৮২। ২০০৮ সালের কলম্বো-মালে সাফে বাংলাদেশ উদ্বোধনী ম্যাচেই ১-১ গোলে ড্র করেছিল এই পাহাড়ি দেশটির সাথে। তখন কোচ ছিলেন আবু ইউসুফ। এরপর এই দেশটির বিপক্ষে দুইবার হেরেছে বাংলাদেশ। শুরু সিনিয়র লেভেলেই নয়। জুনিয়র লেভেলেও আছে হারের লজ্জা। এবার সেই ভুটানই হতে পারে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বড় বাধা। কারণ ওই ম্যাচে বাংলাদেশ দল পাবে না হামজা চৌধুরী, শমিত শোমসহ অন্য প্রবাসী ফুটবলারদের। কারণ সাফ শুরু হবে ফিফা উইন্ডোর আগে। অবশ্য ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচের আগেই টমাস ডুলি পেয়ে যাবেন হামজা চৌধুরীদের। এখন স্থানীয় ফুটবলাররা কি পারবেন ভুটানকে হারাতে।
২০০৮ সালে একবারই সাফের সেমিফাইনালে খেলেছিল ভুটান। এই ভুটানের কাছে বাংলাদেশ ২০১৬ সালে ভুটানের মাঠে হারের আগে ঢাকায় গোলশূন্য ড্র করেছিল গোল মিসের মহড়া দিয়ে। এরপর থিম্পুর মাঠে ১-৩ গোলে হারের টমাস সেইন্টফিটের দল। ২০২৪ সালে আবার নিজ মাঠে বাঘ হিসেবে আবির্ভূত হয় ভুটান। সেবার ফিফা প্রীতি ম্যাচে হাভিয়ার কাবরেরার দল ০-১ গোলে হারে। যদিও প্রথম ম্যাচে ১-০তে জিতেছিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ দল সর্বশেষ ম্যাচে ২-০ গোলে হারিয়েছিল ভুটানকে। তা হামজা চৌধুরীর উপস্থিতিতে। হামজা সেই ম্যাচে গোলও করেন। টমাস ডুলির দল আসিয়ান কাপের বিপর্যয় কাটিয়ে সাফে ভালো করার চেষ্টা করছে। আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ জামাল ভূঁইয়া-তারিক কাজী, হামজা চৌধুরী, শমিত শোম, ফারহান আলী ওয়াহিদ, জায়ান আহমেদদের নিয়ে তিন ম্যাচে ১৩ গোল হজম করে। বিপরীতে দুই গোল দিয়েছিল ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে। ২-৯ গোলে হারের ওই ম্যাচে গোল দু’টি করেছিলেন শাহরিয়ার ইমন ও ফারহান আলী ওয়াহিদ।
বিদেশী লিগে খেলা প্রবাসী ফুটবলাদের না পেলে দেশী ফুটবলাররাই হবেন টমাস ডুলির প্রধান ভরসা। তা তিনি উল্লেখও করেছেন। তবে এই দেশী ফুটবলাররাই অতীতে ভুটানকে হারিয়েছিল। এই শতাব্দীতে ২০০৩-এ ঢাকা সাফে বাংলাদেশ ৩-০তে, ২০০৫-এর করাচি সাফে ৩-০তে ভুটানীদের পরাজিত করে। ২০০৯-এর ঢাকা সাফে ৪-১ গোলে এবং ২০১৫ কেরালা সাফে তাদের ৩-০তে হারানো। এমনকি ২০১৮ ঢাকা সাফে ২-০ এবং ২০২৩-এর ব্যাঙ্গালোর সাফেও তাদের বিপক্ষে ৩-১ এ জয়। তখন হামজারা ছিলেন না।
এখন ফিফা উইন্ডোর আগে সাফের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে হারানোটা দেশী ফুটবলারদের বড় দায়িত্ব। প্রবাসী ফুটবলার না থাকলেও তারা যে পারেন লাল-সবুজ পতাকা উচিয়ে ধরতে তা ফের প্রমাণ করতে হবে। তা ছাড়া ৪ নভেম্বরের সেই ম্যাচে দেশী ফুটবলাররা স্বাধীনভাবেই খেলতে পারবেন। তবে কোচ ডুলির জন্য সেই ম্যাচে একাদশ গঠনটা একটু হলেও কঠিন হয়ে যাবে। কারণ গত দেড় বছরে বাংলাদেশ দলের প্রথম একাদশ মানেই চার-পাঁচ প্রবাসী ফুটবলারের উপস্থিতি।
বাফুফের পরিকল্পনা আছে সাফের আগে অন্য কোনো বিদেশী দলের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলানো। যাতে ইন্দোনেশিয়ার মাটিতে করা মারাত্মক ভুলগুলো শুধরানো যায়। সেই সাথে স্থানীয়দের নিয়ে গড়া একাদশও ভালো মতো পরখ করা যায়। বাফুফের ন্যাশনাল টিমস কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত সাফের আগে ২৫ অক্টোবর থেকে জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু করা। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভুটান ১৭টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে ১৩টি ম্যাচ। দুই খেলায় জয় ভুটানের। ড্র হয়েছে দুই ম্যাচ। এই ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশে বড় জয় ছিল ২০০৯ সালেই ৪-১ এ।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








