ঋণ নয়, আমরা বিনিয়োগ চাই : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু

বিশেষ প্রতিনিধি ব্যাংকক থেকে

Advertisement

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ এখন ঋণনির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে যাচ্ছে। চীনের এক্সিম ব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারির সাথে সাম্প্রতিক আলোচনায় এই বিষয়টিই প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি জানান, এক্সিম ব্যাংক অব চায়নার সাথে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের সার্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি এবং চীনা সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে আর্থিক কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তাব। শুধু সার্বভৌম ঋণ বা ওডিএ ঋণের ওপর নির্ভর না করে ইক্যুইটি বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে নজর দিতে বলেছে চীন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণ থেকে সরে গিয়ে আস্তে আস্তে আমরা বিনিয়োগের দিকে যাচ্ছি। এটা একটা পার্টনারশিপ।
গতকাল থাইল্যান্ডে চলমান আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের  বার্ষিক সভায় চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব জানিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে চীনা বিনিয়োগ যেন ঋণের বদলে সরাসরি বিনিয়োগে রূপ নেয়, সে ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতেও বিনিয়োগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারির সাথেও বৈঠক হয়েছে বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন। সেখানে ঋণ ব্যবস্থাপনা, সফট সার্ভিসিং এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গ্র্যান্ট সহায়তা বাড়ানোর বিষয়টিও উঠে আসে। 
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান, তেল, সয়াবিনসহ নানা পণ্য কিনছে। এমন সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরো সমর্থন আসা উচিত বলে বাংলাদেশ জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। তিনি বলেন, এখন যদি না আসে, তাহলে কবে আসবে? ব্যালেন্স অব পেমেন্টের চাপ কমাতে এই সাপোর্টগুলো আসা উচিত। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ঋণের বোঝা কমিয়ে বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র- দুই পক্ষের সাথেই এই লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।