
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ বিতরণের ক্ষেত্রে নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন না করায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিরূদ্ধে প্রযোজ্য সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সাথে বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) লভ্যাংশ সংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপনের কমপক্ষে এক দিন আগে ঘোষিত লভ্যাংশের সম্পূর্ণ অর্থ পৃথক ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা এবং ব্যাংকের প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ ও সভায় উপস্থাপন বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যে বিদ্যমান নির্দেশনা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের এক হাজার ৩৩তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কমিশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় লভ্যাংশ বিতরণ সংক্রান্ত নির্দেশনা পরিপালনের পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। গতকাল কমিশনের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো: আবুল কালামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কমিশনের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি বার্ষিক বা চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করলে সেই লভ্যাংশের সম্পূর্ণ অর্থ বিতরণের উদ্দেশ্যে বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠানের অন্তত এক দিন আগে একটি পৃথক ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হয়। এ অর্থ স্থানান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করাও বাধ্যতামূলক। ব্যাংকের ওই প্রত্যয়নপত্র কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা এবং কোম্পানি সচিবের মাধ্যমে সত্যায়িত করতে হয়। পরে প্রত্যয়নপত্রটি বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থাপনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জগুলোতে জমা দিতে হয়।
বিএসইসি’র প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি কিছু কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে কমিশনের নজরে এসেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন সভায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিরূদ্ধে প্রযোজ্য সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিবিধান অনুসারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া লভ্যাংশ সংক্রান্ত প্রস্তাব বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আরো কঠোর শর্ত আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এ জন্য বিদ্যমান নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হচ্ছে।
সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ঘোষিত ডিভিডেন্ডের সম্পূর্ণ অর্থ পৃথক ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ এবং তা বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থাপন করার বিষয়গুলো নিশ্চিত না করে কোনো কোম্পানি সভায় ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারবে না। অর্থাৎ, ডিভিডেন্ডের অর্থ সংরক্ষণ ও ব্যাংকের প্রত্যয়নপত্র উপস্থাপনের শর্ত পূরণ না হলে এজিএমে ডিভিডেন্ডের প্রস্তাব উপস্থাপনের সুযোগ থাকবে না।
একই সভায় কমিশন তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং এ-সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড, ২০১৮ এবং পরবর্তী সময়ে এ কোডে আনা সংশোধনীগুলোর আওতায় কোনো স্বতন্ত্র পরিচালককে পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে হালনাগাদ ক্লিন ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদন পাওয়ার শর্তে কমিশনের সম্মতি দেয়া হবে। একই সাথে স্বতন্ত্র পরিচালকদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সংক্রান্ত শর্তে আগে দেয়া অব্যাহতির প্রয়োগ নিয়েও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড, ২০১৮-এর শর্ত ১(৩)(ঘ) অনুযায়ী, কোনো কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালককে কোডের শর্ত ১(৩)(খ) ও ১(৩)(গ)-তে উল্লিখিত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সংক্রান্ত কোনো বিধান থেকে আগে অব্যাহতি বা শিথিলতা দেয়া হয়ে থাকলে, সেই অব্যাহতি পরবর্তী নিয়োগের ক্ষেত্রেও কার্যকর থাকবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ ধরনের কোনো স্বতন্ত্র পরিচালককে অন্য কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে নতুন করে নিয়োগ অথবা একই কোম্পানিতে পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে আগে দেয়া অব্যাহতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হবে। ফলে একই বিষয়ে নতুন করে অব্যাহতি নেয়ার প্রয়োজন হবে না।
বিএসইসির মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আরো দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
এ দিকে গতকাল দেশের দুই পুঁজিবাজারে সূচকের ভিন্ন আচরণ দেখা যায়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সব ক’টি সূচকেরই কমবেশি উন্নতি ঘটলেও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সব সূচকের কমবেশি অবনতি ঘটে গতকাল। ঢাকায় ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২০ দশমিক ৪৭
পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ৫ হাজার ৪০৮ দশমিক ৯০ পয়েন্ট থেকে সকালে লেনদেন শুরু করা সূচকটি বিকেলে লেনদেনশেষে স্থির হয় ৫ হাজার ৪২৯ দশমিক ৩৭ পয়েন্টে। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৩ দশমিক ১৮ ও ২ দশমিক ৩০ পয়েন্ট। অপর দিকে চট্টগ্রাম স্টকে সার্বিক মূল্যসূচক গতকাল ১৭ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৪৩ দশমিক ১২ ও ১২ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট।
ঢাকা শেয়ারবাজারে গতকাল সবচেয়ে ভালো অবস্থানে ছিল মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এ খাতে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ১ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে এ দিন। অন্য খাতগুলোর মধ্যে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ৩ দশমিক ০০, ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে ২ দশমিক ৬, বীমা খাতে ২ দশমিক ২, প্রকৌশল খাতে ১ দশমিক ০০ ও ব্যাংকিং খাতে দশমিক ১ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। অপর দিকে এ দিন সবচেয়ে বেশি দরপতনের শিকার ছিল চামড়াশিল্প। এ খাতটি ৪ দশমিক ৯ শতাংশ দরপতনের শিকার হয়। এ ছাড়া বিবিধ খাত দশমিক ৭ ও টেক্সটাইল খাতে দশমিক ২ শতাংশ দরপতন ঘটে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








