মালয়েশিয়া, ভিজিট ভিসা, জিম্মি বাণিজ্য
মানবপাচার ও মানিলন্ডারিং মামলার আসামি মাসুদ করিম । ইন্টারনেট

 

Advertisement

বিদেশে ভালো বেতনের চাকরি ও উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে নিরীহ যুবকদের সর্বস্বান্ত করাই ছিল একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের কাজ। মালয়েশিয়ায় বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় চাকরির চুক্তি করে দুই ভুক্তভোগীকে দেয়া হয় ভিজিট ভিসা। মালয়েশিয়া বিমানবন্দরে অবতরণের পরপরই তাদের বের করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে জিম্মি করে আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের সদস্যরা। সেখানে গোপন ডেরায় আটকে রেখে ভুক্তভোগীদের ওপর চালানো হয় অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। 
এরপর বাংলাদেশে অবস্থানরত তাদের পরিবারের কাছে ফোনে আর্তনাদ শুনিয়ে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বিদেশে জিম্মি স্বজনের জীবন বাঁচাতে পরিবার ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দুই লাখ টাকা পাঠাতে বাধ্য হয়। পরে দেশে ফিরে এক  ভুক্তভোগী মামলা দায়ের করলে সিআইডি মানিলন্ডারিং অনুসন্ধান শুরু করে এবং অভিযোগের প্রমাণ পায়।
এই ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টন থানাধীন পলওয়েল মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় মানবপাচার ও মানিলন্ডারিং মামলার আসামি মাসুদ করিমকে (৫০)। তিনি রাজধানীর পল্টনে তাহসিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্র্যাভেলস খুলে এই প্রতারণার জাল বিস্তার করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সদস্য ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। এদিকে অপর এক অভিযানে নিজ প্রতিষ্ঠানের মোট ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলার মূল হোতা পার্থ সারথী হালদারকে (৪৩) গ্রেফতার করেছে সিআইডি। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন পশ্চিম রাজাবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি সানজি গ্রুপ অব কোম্পানিজ-এ সহকারী মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।  মামলার এজাহার ও সিআইডির তদন্তে দেখা যায়, কোম্পানির মালিকের স্বাক্ষরযুক্ত ফাঁকা চেক ব্যবহার করে প্রাপকের নাম পরিবর্তন করে নিজের ও সহযোগীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করতেন। এককভাবে বিভিন্ন তারিখে চেক জালিয়াতির মাধ্যমেই তিনি হাতিয়ে নেন প্রায় ৯ কোটি ৫৩ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৯ টাকা। প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যারে ভুয়া লেজার (খতিয়ান) তৈরি করে গ্রাহকদের অর্থ জমা দেখানো হলেও ব্যাংকে কোনো টাকা জমা হতো না। এ ছাড়া গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত নগদ টাকা সরাসরি আত্মসাৎ করা হতো। 
পার্থ সারথী তার ব্যক্তিগত ব্র্যাক ব্যাংক হিসাব এবং এনআরবিসি ব্যাংকের দু’টি হিসাব ও আরটিজিএস ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রাহকের দুই কোটি ২৭ লাখ ২২ হাজার ৮৯৭ টাকা সরিয়ে নেন। সানজি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘পানামা সিএনজি কনভার্সন’ থেকেও একই কৌশলে ৬৫ লাখ সাত হাজার ৯৫০ টাকা আত্মসাতের সত্যতা মিলেছে। এ ঘটনায় ভাটারা থানায় দায়ের করা মামলায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পার্থ সারথী হালদার অপরাধের সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।