
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাউছি বিদ্রোহীদের হামলায় দুই বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত চার বাংলাদেশী রিয়াদের কিং খালেদ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হতাহত বাংলাদেশীদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে সরকার।
গতকাল রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এ কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিগত দিনে ১৪ জন বাংলাদেশী প্রাণ হারিয়েছে। আমরা আশা করব, এই বিপর্যয় বন্ধ হবে, এই আক্রমণ বন্ধ হবে। এই ধরনের মৃত্যু মেনে নেয়া অত্যন্ত কষ্টকর। তিনি বলেন, আমাদের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী বিদেশে চাকরি করেন। এ সব রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের নিরাপত্তা, তাদের দেখভাল করাটা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করছি। রিয়াদে আমাদের দূতাবাস আরো যারা বাংলাদেশীরা আছেন, তাদের সাথে যোগাযোগ করছে, হতাহতের অবস্থা জানার চেষ্টা করছে। সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশীরা যাতে যতদূর সম্ভব নিরাপদে থাকতে পারেন, সে নির্দেশনা আমাদের মিশনকে দেয়া হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কোনো এয়ারক্রাফট ঘটনার সময়ে কিং খালেদ এয়ারপোর্টে ছিল কি না বা আমাদের কোনো এয়ারক্রাফট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা-জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে এরকম কোনো তথ্য নেই। হামলার খবর পাওয়ার সাথে সাথে ফ্লাইট বন্ধ করা হয়েছে। আমরা আশা করব এরকম কোনো ঘটনা যেন আর না ঘটে।
নিহত বাংলাদেশীদের লাশ দেশে ফেরত আনা এবং আহতদের চিকিৎসা দেয়ার ব্যাপারে সরকারের কোনো দিকনির্দেশনা আছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাত্র দুর্ঘটনাটা ঘটেছে। আমরা অবশ্যই সৌদি সরকারের সাথে এবং বাংলাদেশী ভাইয়েরা যারা ওখানে বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরি করেন, সেই কোম্পানিগুলোর মালিকদের সাথে কথা বলব। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নিহতদের লাশ যত দ্রুত সম্ভব তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া যায়, সে ব্যবস্থাটা আমরা অবশ্যই করব।
হামলার নিন্দা : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাউছিদে চালানো প্রাণঘাতী হামলার তীব্র ও দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাচ্ছে বাংলাদেশ। এই হামলায় দু’জন বাংলাদেশী নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যুসহ বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নিহত ও আহত বাংলাদেশীদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখছে। নিহত বাংলাদেশীদের পরিবারসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সরকার গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহানুভূতি জানাচ্ছে এবং আহতদের দ্রুত ও সম্পূর্ণ আরোগ্য কামনা করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বেসামরিক নাগরিকদের জীবন বিপন্নকারী এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা অগ্রহণযোগ্য এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। এ হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব সরকার এবং সে দেশের ভাইদের মতো সাধারণ মানুষের প্রতি দৃঢ় সংহতি জানাচ্ছে বাংলাদেশ। আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ, বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর সুরক্ষা এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে চলমান সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে।
হাউছিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি গত রোববার রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এটি তৃতীয় হামলা। এ হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সব ফ্লাইট অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ৪১ জন ওমরাহ যাত্রীর একটি বড় গ্রুপ রিয়াদ থেকে জেদ্দা যাওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ ছিলেন। তারা সবাই বাংলাদেশী। হঠাৎ রিয়াদ বিমানবন্দরের ভবন বিস্ফোরণে কেঁপে উঠে। হামলার পর যারা সুস্থ আছেন, তাদের দু’টি হোটেলে স্থানান্তর করা হয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








