
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ও সোনারগাঁও সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, ফতুল্লা ও দেওভোগে শনিবার রাত থেকে রোববার ভোরের মধ্যে পৃথক তিনটি বিস্ফোরণ ও রাসায়নিক দুর্ঘটনায় নারীসহ অন্তত ৯ জন দগ্ধ ও আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন ও দুই কারখানা শ্রমিকসহ ছয়জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি তিনজনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
কাঁচপুরে কম্প্রেসার বিস্ফোরণ
শনিবার রাত দেড়টার দিকে সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর সোনাপুর উত্তরপাড়ার ‘ইসলাম টাওয়ারে’ অবৈধ গ্যাসের কম্প্রেসার বিস্ফোরণে চারজন দগ্ধ হন। দগ্ধরা হলেন- শরীফ হোসেন (৩৪), তার স্ত্রী রোজিনা আক্তার (৩০), শ্যালক রিয়াজ হোসেন (২২) এবং ভবনের তত্ত্বাবধায়ক রনি মিয়া (১৯)। ফায়ার সার্ভিস জানায়, লাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে কম্প্রেসার চালানো হচ্ছিল। এর লিকেজ থেকে জমানো গ্যাসে স্ফুলিঙ্গ তৈরি হয়ে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার পর থেকে ভবনমালিক শাহ আলম মোবাইল বন্ধ করে পলাতক রয়েছেন।
এদিকে, একই দিন ফতুল্লার একটি রাসায়নিক কারখানায় কাজ করার সময় দুই শ্রমিক দগ্ধ হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা না গেলেও আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
অন্য দিকে গতকাল ভোরে শহরের দেওভোগ এলাকায় একটি বাসার রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে শিখা রানী, মনা আচার্য ও তার মা আহত হন। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের নারায়ণগঞ্জ উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরিফিন জানান, খবর পেয়ে আহতদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, কাঁচপুরের রনির ৭০%, রোজিনার ৬০%, শরীফ ও রিয়াজের ৪০% এবং ফতুল্লার দুই শ্রমিকের যথাক্রমে ৫৪% ও ৫৫% শ্বাসনালীসহ শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেছে। তাদের ছয়জনকেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
সোনারগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল বারিক জানান, কাঁচপুরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং ভবনমালিকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








