জবিতে জ্যেষ্ঠদের টপকে আ’লীগ ঘনিষ্ঠ ১২ কর্মকর্তার পদোন্নতির উদ্যোগ

জবি সংবাদদাতা

Advertisement

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি এক বছর ধরে আটকে থাকলেও হাসিনা সরকারের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের ঘনিষ্ঠ এবং ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা ১২ কর্মকর্তার পদোন্নতির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পছন্দের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ করে দিতে জ্যেষ্ঠদের বাদ দিয়ে জুনিয়রদের মৌখিক পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সাবেক ভিসি মিজানুর রহমানের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ১২ কর্মকর্তা এখন পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাউকে কাউকে বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এ কর্মকর্তাদের মধ্যে আইটি সেলের চারজনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। যাচাই-বাছাই বোর্ডের সুপারিশের পর চলতি মাসের ১৩ ও ১৪ তারিখে তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।
অন্যদিকে, ২০১৯ সালে ৮০তম সিন্ডিকেটের প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে প্রায় ৭০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী পদোন্নতির আবেদন করেছিলেন। তবে ২০২৫ সালের ২ জুন ১০১তম সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে ওই প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়। এর আগে, প্রজ্ঞাপন বাতিলের মাত্র এক মাস আগে একই নিয়মে ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দফতরের ছয় কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়। বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, পছন্দের ব্যক্তিদের পদোন্নতি নিশ্চিত করার পরই প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হয়েছে।
২০০৭-০৮ সালে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়া অনেক কর্মকর্তা এখনো পদোন্নতি পাননি। তাদের আশঙ্কা, জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে পদোন্নতি দেয়া হলে একসময় তাদের জুনিয়রদের অধীনে কাজ করতে হবে।
পদোন্নতি সুপারিশ কমিটির সদস্যসচিব ও কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম প্রজ্ঞাপন বাতিলের সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে দাবি করেছেন। তবে সাধারণ কর্মকর্তাদের একাংশ তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগের  অভিযোগ তুলেছেন। কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি খন্দকার হাবিবুর রহমান বলেন, বঞ্চিত কর্মকর্তাদের বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন বাতিলের ঘটনায় নীতিমালা প্রণয়নের দায়িত্বে থাকা কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমিনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বঞ্চিত কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে কোষাধ্যক্ষ বলেন, আগে নিয়ম লঙ্ঘন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। ফলে যে কেউ শীর্ষ পদে যাওয়ার সুযোগ পেতেন।তবে প্রজ্ঞাপন বাতিলের এক মাস আগে পদোন্নতি পাওয়া ছয় কর্মকর্তার বিষয়ে জানতে চাইলে ভিসি অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। তিনি বলেন, প্রজ্ঞাপনটি বিতর্কিত হওয়ায় বাতিল করা হয়েছে। আগে যারা এর আওতায় পদোন্নতি পেয়েছেন, তাদের বিষয়েও তথ্যানুসন্ধান প্রয়োজন।