সৌদি আরব থেকে অস্কারে যাচ্ছে যে সিনেমা
সৌদি আরব থেকে অস্কারে যাচ্ছে যে সিনেমা।

বিনোদন রিপোর্ট 
৯৯তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে (অস্কার) সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে সৌদি আরবের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে আনাস বা তাহাফ পরিচালিত ‘আ ম্যাটার অব লাইফ অ্যান্ড ডেথ’। দেশটির ফিল্ম কমিশন ছবিটিকে অস্কারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করেছে। ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন সারা তাইবাহ। অভিনয়ও করেছেন তিনি। তার সাথে রয়েছেন ইয়াকুব আল-ফারহান। ছবিটি প্রযোজনা করেছে ফিল্ম ক্লিনিক, ফ্রন্ট রো ফিল্মড এন্টারটেইনমেন্ট ও অ্যারাবিয়া পিকচার্স। সমসাময়িক জেদ্দার পটভূমিতে নির্মিত ছবিটিতে প্রেম, কল্পনা ও ডার্ক কমেডির মিশেল রয়েছে। ব্যতিক্রমী দৃশ্যায়ন ও শৈল্পিক উপস্থাপনায় এগিয়ে গেছে এর গল্প। ছবিটির মূল উপজীব্য প্রেম, তবে তা গতানুগতিক বা নির্ঝঞ্ঝাট কোনো প্রেমের গল্প নয়। ছবিটির পরিচিতিতে বলা হয়েছে, ‘এটি মূলত একটি প্রেমের গল্প, তবে সেই প্রেম নিরাপদ বা নির্ঝঞ্ঝাট নয়।’
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হায়াত। স্বাধীনচেতা এই তরুণী বিশ্বাস করে, বংশপরম্পরায় চলে আসা এক অভিশাপের কারণে ৩০তম জন্মদিনেই তার মৃত্যু হবে। মৃত্যুর বিষয়টি মেনে নিয়ে সে যখন জীবন কাটাচ্ছে, তখন তার পরিচয় হয় ইউসুফের সাথে। ইউসুফ মেধাবী একজন হৃদ্রোগ শল্যচিকিৎসক। তবে আবেগ-অনুভূতি প্রকাশে সে ভীষণ নির্লিপ্ত। তার হৃদ্স্পন্দন অস্বাভাবিক ধীর। আশ্চর্যের বিষয়, মৃত্যুর মুখোমুখি হলে কিংবা কাউকে হত্যা করার পরিস্থিতি তৈরি হলেই কেবল তার হৃদ্স্পন্দন দ্রুত হয়। একজন শল্যচিকিৎসক হিসেবে ইউসুফকে প্রতিদিনই জীবন ও মৃত্যুর মাঝের সূক্ষ্ম সীমারেখার মুখোমুখি হতে হয়। এই বাস্তবতার মধ্যেই তার মনে নানা প্রলোভনও ভর করে। এর আগে আরব নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক আনাস বা তাহাফ ছবিটির গল্প সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘এটি এমন দুজন মানুষের গল্প, যারা নিজেদের মোহে আচ্ছন্ন থাকতে গিয়ে সত্যিকার অর্থে বেঁচে থাকার মানেটাই ভুলে গেছে। এরপর ভালোবাসা তাদের জীবনে ফিরে আসে এবং তারা বুঝতে পারে, বেঁচে থাকার মতো আরও অনেক কিছুই রয়েছে।’
ডার্ক কমেডির প্রতি নিজের ভালো লাগার কথা জানিয়ে সারা তাইবাহ বলেন, ‘ডার্ক কমেডি আমার সবচেয়ে প্রিয় ঘরানা। অনেক কমেডি ছবিতে শুধু হাস্যকর কৌতুক থাকে, কোনো কিছুই যেন গুরুত্বের সাথে নেয়া হয় না। আবার আমাদের অনেক আরবি নাটকে দেখা যায়, পরকীয়া, মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে কান্নাকাটি আর বিষাদ।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডার্ক কমেডি আমার ভালো লাগে, কারণ বাস্তব জীবনের সঙ্গে এর মিল সবচেয়ে বেশি।

Advertisement