
নিজস্ব প্রতিবেদক
হজরত শাহজালাল (রহ:) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সঙ্কট এবং ওমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের গালাগাল ও নিরাপত্তা সদস্যকে শারীরিকভাবে আঘাতের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব:) আখতারুজ্জামানকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল শনিবার রিমান্ড শুনানির জন্য তাকে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হলে পুলিশকে প্রিজনভ্যানে আঙুল উঁচিয়ে শাসানো, মাথায় দেয়া নিরাপত্তা হেলমেট ছুড়ে ফেলা এবং সরকারবিরোধী সেøাগান দেয়াকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি সপরিবারে মদিনা থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। ওই সময় বিমানবন্দরে আগমনী যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ থাকায় ট্রলি সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাময়িক সঙ্কট ও দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়া এবং জমজমের পানি পেতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে কিছুটা অস্থিতিশীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো: শাহরিয়ার আলম সজিব বাদি হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পরদিন ২ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন ধামালকোটের ১০ নম্বর রোডের ৩৫ নম্বরের নিজ বাসা থেকে ডিবি পুলিশ আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করে রাতেই বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করে। গতকাল বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার সিএমএম আদালতে প্রাঙ্গণে প্রিজনভ্যান থেকে নামানোর সময় আখতারুজ্জামান চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মাথায় পরানো নিরাপত্তা হেলমেটটি ছুড়ে ফেলে তিনি বলেন, ‘কেন হেলমেট পরব? সরকারের অবৈধ আদেশ মানি না’। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি বিমানের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেছি। জুলুম-নির্যাতন করে আমাদের থামানো যাবে না’। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী জানান, আসামি আদালতে এবং পুলিশের প্রতি আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রদান করেছেন এবং কোনো ধরনের শৃঙ্খলার পরিচয় দেননি।
অন্য দিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, মামলাটি রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে করা একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডিসি প্রসিকিউশন বেআইনিভাবে সাংবাদিক ও সাধারণ আইনজীবীদের এজলাস ও আদালত চত্বরে প্রবেশে বাধা দিয়েছেন, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
শুনানি শেষে এজলাস থেকে বের করার সময়ও আখতারুজ্জামান অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এ সময় সিএমএম আদালত চত্বরে জড়ো হওয়া জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সেøাগান দেন এবং রিমান্ড মঞ্জুরের পর প্রিজনভ্যানের পেছনে ছোটেন।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








