
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি লি জে-মিয়ংয়ের প্রস্তাবিত ঢাকা সফরে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) সই করতে চায় বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির গতকাল সিউলে দণি কোরিয়ার বাণিজ্য, শিল্প ও সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মিস হাইজিন কোওনের সাথে বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানান। তিনি কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) ভাইস- প্রেসিডেন্ট মিস ডো ইয়ং-আহের নেতৃত্বে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন। বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন েেত্র বাংলাদেশ ও দণি কোরিয়ার মধ্যে সহযোগিতা আরো জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। উপমন্ত্রী কোওনের সাথে বৈঠকে হুমায়ুন কবির গত আগস্টে সেপা নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সমঝোতার সফল সমাপ্তির কথা উল্লেখ করে। তিনি আশা করেন, বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় থাকা বাংলাদেশের জন্য এই চুক্তিটি কোরিয়ান ও আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সাথে আরো নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে। প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দণি কোরিয়ার রাষ্ট্রপতির প্রস্তাবিত বাংলাদেশ সফরের সময় চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে দ্বিপীয় বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান ধারা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশী পণ্য ও সেবার েেত্র কোরিয়ার আমদানি বৃদ্ধি এবং পর্যায়ক্রমে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসের ল্েয সুনির্দিষ্ট পদপে গ্রহণের আহ্বান জানান। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশী কৃষি, মৎস্য ও খাদ্যপণ্যের েেত্র খাদ্যনিরাপত্তা পরিদর্শন ও কোয়ারেন্টাইন প্রক্রিয়া সহজীকরণের অনুরোধ জানান। হুমায়ুন কবির আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কোরিয়ার সমর্থন কামনা করেন এবং আরো বেশি কোরিয়ান বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
উপমন্ত্রী কোওন বাংলাদেশ-কোরিয়া অর্থনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতিকে স্বাগত জানান এবং ‘সেপা’ কাঠামোর আওতাসহ দ্বিপীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণে কোরিয়ার আগ্রহের কথা জানান।
কোইকার ভাইস প্রেসিডেন্ট মিস ডো ইয়ং-আহের সাথে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী অনুদান সহায়তা, সমতা বৃদ্ধি, কারিগরিকে সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কোইকার দীর্ঘদিনের অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি তিন কোটি ৯০ লাখ ডলারের ‘সায়েমাউল প্লাস অ্যান্ড প্রোভার্টি প্রোগ্রামে’র জন্য কোইকাকে ধন্যবাদ জানান এবং পানি নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা, দতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানমুখী কারিগরি শিা ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার েেত্র আরো সহযোগিতার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া হুমায়ুন কবির কোইকা ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতার পরবর্তী ধাপকে আরো বড় পরিসরের, সমন্বিত ও রূপান্তরমূলক কর্মসূচির দিকে এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান, যার মধ্যে ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল জনসেবার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের পাশাপাশি ঢাকার এমআরটি প্রকল্পগুলোর অর্থায়নের বিষয়ে কোরিয়ার দ্রুত সম্মতির অনুরোধ জানান।
কোইকার ভাইস-প্রেসিডেন্ট উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের আগ্রহকে স্বাগত জানান। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও কোরিয়ার উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক অভিজ্ঞতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন নতুন ত্রে ও কর্মসূচি নিয়ে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








