
এস এম রহমান পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)
সাগর, নদী, খাল-বিল, ঘনসবুজ বন ও পাহাড়বেষ্টিত চট্টগ্রাম জেলাজুড়ে শাকসবজি ও ফলমূল উৎপাদনে মাত্রাতিরিক্তভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকর রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও কৃত্রিম হরমোন। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এসব ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করার ফলে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। একই সাথে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসাবিজ্ঞান।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের চাষিরা এক সময় দেশী জাতের শাকসবজি ও ফলমূল চাষে অভ্যস্ত ছিলেন। তবে বর্তমানে অধিক ফলন ও বাড়তি লাভের আশায় তারা ব্যাপকভাবে ঝুঁকে পড়েছেন হাইব্রিড জাতের কৃষিপণ্যের দিকে। অধিক উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণ করতে চাষিরা যথেচ্ছভাবে রাসায়নিক সার, বিষাক্ত কীটনাশক ও কৃত্রিম হরমোন প্রয়োগ করছেন। ক্ষেতে ব্যবহৃত এসব কেমিক্যাল বৃষ্টির পানির সাথে গড়িয়ে খাল-বিল, পুকুর, নালা ও ডোবায় গিয়ে পড়ছে। এতে পানি দূষিত হয়ে দেশী জাতের মাছ ও জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব চরম সঙ্কটে পড়েছে। অন্য দিকে, হাইব্রিড চাষের দাপটে বিলুপ্ত হতে বসেছে প্রায় ৮০ শতাংশ দেশী জাতের শাকসবজি ও সেগুলোর ঐতিহ্যবাহী বীজ।
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারীর শঙ্খ নদীর তীরবর্তী সবজিচাষিরা জানান, এক সময় এই এলাকায় দেশী জাতের বাঁধাকপি, ফুলকপি, মুলা, ঢ্যাঁড়স, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো, বেগুন, খিরা, শালগম ও বিভিন্ন লালশাক-পালংশাক চাষ হতো। কিন্তু হাইব্রিড জাতের তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় এখন তারা পুরোপুরি হাইব্রিডের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। কৃষকদের মতে, এই অঞ্চলে এখন কেবল ঐতিহ্যবাহী ‘দোহাজারী জাতের’ শিম ও আলু টিকে আছে। অন্য সবজি চাষ করতে গেলে চড়া দামে বিদেশী বীজ কেনার পাশাপাশি রাসায়নিক সার ও কেমিক্যাল ব্যবহার ছাড়া কোনো উপায় থাকে না।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, মাঠপর্যায়ে কৃষি অফিসারদের মাধ্যমে পরিমিত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্যোগে জৈব বালাইনাশক ও অর্গানিক সার ব্যবহারে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। তবে খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞানীরা মনে করেন, কীটনাশক প্রয়োগের পর নির্দিষ্ট সময় পার না হতেই শাকসবজি বাজারে আনা হচ্ছে, যা সরাসরি গ্রহণের ফলে শরীরে রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে। এতে ক্যানসার, ডায়াবেটিস, ফুসফুস ও লিভারের জটিল রোগে আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হাইব্রিড সবজি উৎপাদনে পরিমিত ও নিরাপদ মাত্রায় রাসায়নিক ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। কৃষক পর্যায়ে কীটনাশক ও কৃত্রিম হরমোনের অতিরিক্ত ব্যবহার কঠোরভাবে মনিটরিং করার পাশাপাশি জৈব সার ব্যবহারের আন্দোলন জোরদার না করলে টেকসই জনস্বাস্থ্য রক্ষা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








