গ্যাস সঙ্কট, পেট্রোবাংলা, শিল্পকারখানা
পেট্রোবাংলা। ইন্টারনেট

 

দেশে গ্যাসের সঙ্কট এখন দীর্ঘস্থায়ী বাস্তবতা। শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছে না, নতুনসংযোগ নিয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তি রয়েছে। ঘাটতি পূরণে বাড়ছে ব্যয়বহুল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি। কিন্তু এই সঙ্কটের আড়ালে আরো একটি বড় প্রশ্ন ক্রমেই সামনে আসছে- দেশে যে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, তার কতটুকু শেষ পর্যন্ত প্রকৃত উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হচ্ছে?
সাম্প্রতিক বিভিন্ন তথ্য বলছে, সরবরাহ ঘাটতির পাশাপাশি বিতরণ ব্যবস্থায় বিপুল পরিমাণ গ্যাস হিসাবের বাইরে চলে যাচ্ছে। কোথাও অবৈধ সংযোগ, কোথাও অবৈধ পাইপলাইন, কোথাও পাইপলাইনের লিকেজ, আবার কোথাও মিটার ও পরিমাপ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এর কারণ। এর সাথে যুক্ত হচ্ছে শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে পুরনো ও অদক্ষ প্রযুক্তির ব্যবহার। ফলে বাংলাদেশের গ্যাসসঙ্কটকে শুধু ‘গ্যাস কম’-এই একটি কারণে ব্যাখ্যা করলে সমস্যার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না।
গ্যাসের চুরি, সিস্টেম লস, হিসাবের ত্রুটি এবং বৈধ ব্যবহারের মধ্যেও অদক্ষতা- সবকিছুকে একই সাথে বিবেচনায় নিতে হবে।
এক বছরে হিসাবের বাইরে ১ হাজার ৫৯৭ মিলিয়ন ঘনমিটার
পেট্রোবাংলার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে প্রায় এক হাজার ৫৯৭ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস হিসাবের বাইরে ছিল। এর আগের অর্থবছর ২০২২-২৩-এ এ পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৭৯ মিলিয়ন ঘনমিটার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে হিসাবের বাইরে থাকা গ্যাসের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরেও প্রতিদিন প্রায় ১৭৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস হিসাবের বাইরে যাওয়ার তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর আর্থিক মূল্য বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ‘হিসাবের বাইরে’ থাকা পুরো গ্যাসকে সরাসরি চুরি বলা যাবে না। এর মধ্যে পাইপলাইনের লিকেজ, মিটারিংয়ের ত্রুটি, চাপ ও তাপমাত্রার পার্থক্য, মিটারবিহীন ব্যবহার, পরিমাপের সীমাবদ্ধতা এবং অবৈধ সংযোগ- বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই প্রকৃত চুরি নিরূপণের জন্য সরবরাহের প্রতিটি ধাপে নির্ভুল পরিমাপ ও অডিট প্রয়োজন।
তিতাসে ক্ষতি গ্রহণযোগ্য মাত্রার কয়েক গুণ
দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাসের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহ ব্যবস্থায় ক্ষতির হার ছিল ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের বিবেচনায় গ্রহণযোগ্য মাত্রা প্রায় ২ শতাংশ। অর্থাৎ তিতাসের ক্ষতির হার গ্রহণযোগ্য সীমার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।
ওই অর্থবছরে এই ক্ষতির আর্থিক মূল্য প্রায় ২ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা বলে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিতাসের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতির হার আরো বেড়ে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ হয়েছে বলে পেট্রোবাংলার তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এখানেই বড় প্রশ্ন- দেশে গ্যাসের উৎপাদন ও আমদানি বাড়াতে যখন বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তখন বিতরণ পর্যায়ে এত গ্যাস কিভাবে হিসাবের বাইরে যাচ্ছে?
অবৈধ সংযোগের বিস্তার কতটা?
গ্যাস চুরির সবচেয়ে দৃশ্যমান চিত্র পাওয়া যায় অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযানে। পেট্রোবাংলার বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ছয়টি গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ৬৯৮টি অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে ৭ হাজার ১৭০টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর মধ্যে ৬ হাজার ৯১২টি ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ সংযোগ। একই সময়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার অবৈধ পাইপলাইন অপসারণ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রায় ৫১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের ঘটনায় মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনাও ঘটেছে।
এর আগে সরকারি বক্তব্যে জানানো হয়েছিল, দুই বছরে প্রায় ৮ লাখ ৬৫ হাজার অবৈধ গ্যাসসংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং প্রায় ৯৮৯ কিলোমিটার অবৈধ পাইপলাইন অপসারণ করা হয়েছে।
তবে ৮ লাখ ৬৫ হাজার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অর্থ এই নয় যে বর্তমানে সমসংখ্যক অবৈধ সংযোগ সক্রিয় রয়েছে। এটি নির্দিষ্ট সময়ে পরিচালিত অভিযানে বিচ্ছিন্ন করা সংযোগের মোট সংখ্যা। বরং একই এলাকায় বারবার অবৈধ সংযোগ তৈরি হচ্ছে কি না এবং বিচ্ছিন্ন করার পর পুনঃসংযোগ হচ্ছে কি না- সেটিও নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন।
বৈধ ব্যবহারেও গ্যাসের অপচয়
গ্যাস অপচয়ের আরেকটি বড় ক্ষেত্র শিল্পকারখানা। কোনো কারখানায় গ্যাস ব্যবহার করে বাষ্প, তাপ বা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। কিন্তু পুরনো ও অদক্ষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে একই পরিমাণ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি গ্যাস পোড়াতে হয়।
পুরনো বয়লার, অদক্ষ দহন ব্যবস্থা, অতিরিক্ত বায়ু ব্যবহার, বাষ্পের লিকেজ, দুর্বল তাপ নিরোধক, ব্যবহৃত বাষ্পের পানি পুনরুদ্ধার না করা এবং উৎপন্ন অতিরিক্ত তাপ কাজে না লাগানোর কারণে জ্বালানি ব্যবহার বেড়ে যায়।
এখানে গ্যাস চুরি হচ্ছে না; কিন্তু একই উৎপাদনের জন্য বেশি গ্যাস খরচ হচ্ছে। জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিতে এটিও বড় ধরনের অর্থনৈতিক অপচয়।
নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনে দক্ষতার ঘাটতি
শিল্পকারখানার নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাতেও গ্যাস সাশ্রয়ের বড় সুযোগ রয়েছে। একটি গবেষণায় ৫১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ১২৪টি গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র পরীক্ষা করা হয়। এসব যন্ত্রের মোট ক্ষমতা ছিল প্রায় ২৫০ মেগাওয়াট। গবেষণায় এসব যন্ত্রের গড় জ্বালানি দক্ষতা পাওয়া যায় ৩৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অন্য দিকে বাজারে প্রায় ৪৫ দশমিক ২ শতাংশ দক্ষতার বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র পাওয়া যায় বলে গবেষণাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ আধুনিক ও দক্ষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে একই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে কম গ্যাস প্রয়োজন হতে পারে। একই সাথে উৎপাদনের সময় তৈরি অতিরিক্ত তাপ শিল্পের অন্য কাজে ব্যবহার করা গেলে জ্বালানি সাশ্রয়ের সুযোগ আরো বাড়ে।
গবেষণাটিতে হিসাব করা হয়েছে, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত তাপ পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৫০ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানির প্রয়োজন কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটি সম্ভাব্য সাশ্রয়ের হিসাব; বাস্তবে পুরো পরিমাণ গ্যাস সাশ্রয় হবে- এমন নিশ্চয়তা নেই।
বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রযুক্তির পার্থক্য
গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রযুক্তি গ্যাস ব্যবহারের দক্ষতায় বড় ভূমিকা রাখে। একক-চক্র বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস পোড়ানোর পর উৎপন্ন শক্তি দিয়ে সরাসরি টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়। এতে উৎপন্ন অতিরিক্ত তাপের বড় অংশ পরিবেশে চলে যায়।
অন্য দিকে সম্মিলিত-চক্র বিদ্যুৎকেন্দ্রে ওই অতিরিক্ত তাপ ব্যবহার করে বাষ্প তৈরি করা হয়। সেই বাষ্প দিয়ে আবার টারবাইন চালিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। ফলে একই পরিমাণ গ্যাস থেকে তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব।
প্রযুক্তিগত বিভিন্ন নথি অনুযায়ী, আধুনিক একক-চক্র গ্যাস টারবাইনের দক্ষতা প্রায় ৩৬ থেকে ৩৮ শতাংশ হতে পারে। সম্মিলিত-চক্র প্রযুক্তিতে তা প্রায় ৫৩ থেকে ৫৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন বা পুরনো কেন্দ্র প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে শুধু উৎপাদন ক্ষমতা নয়, প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে কত গ্যাস লাগছে- সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হওয়া প্রয়োজন।
তিন খাতেই ব্যবহৃত হয় প্রায় ৭৮ শতাংশ গ্যাস
পেট্রোবাংলার ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ব্যবহৃত গ্যাসের প্রায় ৩৭ শতাংশ যায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে। শিল্প খাতে ব্যবহার প্রায় ২৩ শতাংশ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১৮ শতাংশ। গৃহস্থালি খাতে প্রায় ১০ শতাংশ, সার উৎপাদনে ৭ শতাংশ এবং যানবাহনে সঙ্কুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) হিসেবে প্রায় ৪ শতাংশ ব্যবহার হয়।
অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন- এই তিন খাতেই মোট প্রায় ৭৮ শতাংশ গ্যাস ব্যবহৃত হয়। ফলে জাতীয়পর্যায়ে গ্যাস সাশ্রয়ের সবচেয়ে বড় সুযোগও রয়েছে এই তিন খাতে।
শুধু আমদানি বাড়িয়ে সমাধান হবে না
দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ ক্রমেই আমদানিনির্ভর হয়ে পড়ছে। এলএনজি আমদানির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত এলএনজি থেকে এসেছে বলে পেট্রোবাংলার তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় শুধু নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান কিংবা এলএনজি আমদানি বাড়ানোর দিকে নজর দিলে সমস্যার একটি অংশই সমাধান হবে। একই সাথে সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষতি কমানো এবং পাওয়া গ্যাসের প্রতিটি ঘনমিটারের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
যা করা জরুরি
প্রথমত, গ্যাসের প্রতিটি পর্যায়ে নির্ভুল হিসাব নিশ্চিত করতে হবে। কোথা থেকে কত গ্যাস সরবরাহ করা হলো এবং গ্রাহকের কাছে কত গ্যাস বিক্রি বা ব্যবহার হলো- এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য কোথায় তৈরি হচ্ছে, তা নিয়মিত শনাক্ত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বড় শিল্পগ্রাহকদের আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় মিটার স্থাপন করতে হবে। গ্যাসের চাপ, প্রবাহ ও ব্যবহার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ পাইপলাইন দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
তৃতীয়ত, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি এসব সংযোগ স্থাপনের সাথে জড়িত ব্যক্তি, দালালচক্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
চতুর্থত, শিল্প ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানোর জন্য সুনির্দিষ্ট নীতি প্রয়োজন। পুরনো যন্ত্রপাতি পরিবর্তন, বর্জ্য তাপ পুনর্ব্যবহার, উন্নত বয়লার ও অধিক দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রণোদনা দেয়া যেতে পারে।
সঙ্কটের পাশাপাশি অপচয়ও বন্ধ করতে হবে
বাংলাদেশের গ্যাস সঙ্কটের একটি অংশ বাস্তব সরবরাহ ঘাটতির ফল। কিন্তু এর পাশাপাশি বিতরণ ব্যবস্থার ক্ষতি, অবৈধ সংযোগ, পরিমাপের ত্রুটি এবং অদক্ষ ব্যবহার সঙ্কটকে আরো গভীর করছে।
তাই জাতীয় গ্যাস নীতির প্রশ্ন শুধু ‘আরো কত গ্যাস পাওয়া যাবে’-এখানে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। সমান গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো- যে গ্যাস ইতোমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে, তার কতটুকু চুরি ও অপ্রয়োজনীয় অপচয় ছাড়া উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে এবং প্রতি ঘনমিটার গ্যাস থেকে কত বেশি অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টি করা সম্ভব হচ্ছে।
দেশ যখন ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি করে জ্বালানি সঙ্কট সামাল দিচ্ছে, তখন দেশীয় ও আমদানিকৃত- উভয় উৎসের গ্যাসের প্রতিটি ঘনমিটারের সঠিক হিসাব এবং সর্বোচ্চ দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। গ্যাসের নতুন উৎস খোঁজার পাশাপাশি বিদ্যমান গ্যাসের অপচয় বন্ধ করাও এখন জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান শর্ত।