
আবুল কালাম নিউ ইয়র্ক থেকে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে নিউ ইয়র্কে বিএনপির নেতাকর্মীরা ব্যানার-পোস্টার লাগান। পরে সেগুলো আওয়ামী লীগের কে বা কারা ছিঁড়ে ফেলে। এ নিয়ে রোববার স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে ইত্যাদি বাজারের সামনে এই ঘটনা ঘটে। তবে নিউ ইয়র্ক সিটির বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত ও বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা জ্যাকসন হাইটস। প্রতিদিন সেখানে স্থানীয় বাংলাদেশীদের প্রাণবন্ত আড্ডা জমে ওঠে। এরই মধ্যে দুই পক্ষের উত্তেজনার মধ্যে সেখানে কিছুটা ভীতিকর পরিস্থতির সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ ২০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে ৩৫ সদস্য নিয়ে তিনি নিউ ইয়র্কে আসছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল ৫টার দিকে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও সফরসঙ্গীদের। তাদেরকে স্বাগত জানাবেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী। এবার প্রধানমন্ত্রীর নিউ ইয়র্ক সফর ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর স্মরণীয় করে রাখতে নিউ ইয়র্কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিভিন্ন ধরনের পোস্টার ও ব্যানার লাগিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তা ছাড়া গত এক মাস ধরে বিভিন্ন রকম প্রস্তুতি সভা করেছেন।
অন্যদিকে তারেক রহমানের সফর ঠেকাতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নেতাকর্মীরাও কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়দিন ধরে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে রোববার বিকেলে জ্যাকসন হাইটসের ইত্যাদি বাজারের সামনে একটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কেউ। এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। এতে নেতৃত্ব দেন নিউ ইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা ও যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তোফায়েল চৌধুরী লিটনসহ কয়েকজন।
যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাবেক সহসভাপতি আতিকুল হক আহাদ জানান, বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে দুই ঘণ্টাব্যাপী পাল্টাপাল্টি স্লোগান চলে।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ, যুবলীগ নেতা মিজানসহ আরো অনেকে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, তারা তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এমনকি জাতিসঙ্ঘের অধিবেশনে ভাষণ দেয়ার সময় তারা বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবেন।
নিউ ইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছে। সেজন্য আমার নেতৃত্বে নিউ ইয়র্ক বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল বের করি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগও বিক্ষোভ করতে থাকে। তবে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি বলেন, আমি পতিত আএয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বলব- শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে। কিন্তু তারা যদি গায়ের জোরে কোনো কিছু করার চেষ্টা করে তা যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে।
বিশ^মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে নিউ ইয়র্কজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল
জাতিসঙ্ঘের বিশ^মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য ঘিরে নিউ ইয়র্কজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এই প্রথম জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বিশ^নেতাদের সামনে তার প্রথম ভাষণে নতুন বাংলাদেশ নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বার্তা কী হবে তা এখন প্রবাসীদের আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান পেয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসঙ্ঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলায় তার ঐতিহাসিক ভাষণ দেবেন। এই ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সঙ্কটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।
এবারের জাতিসঙ্ঘ সফরটি প্রবাসীদের কাছে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তার প্রথম জাতিসঙ্ঘ সফর। একই সাথে তিনি জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসঙ্ঘে ভাষণ দিয়েছিলেন।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য মতে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসঙ্ঘের অধিবেশনে যোগদানে নিউ ইয়র্ক এলেও জাতিসঙ্ঘের বাইরে কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন না। ফলে তাকে ঘিরে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনাও হচ্ছে না। এমনকি ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোতে উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীগণের সাথে যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল সেটিও বাতিল হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রী সফরসূচি কিছুটা সংক্ষিপ্ত করে ঢাকার উদ্দেশে ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্ক ত্যাগ করবেন।








