জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি (জেজেইউ)
ফেসবুক ভিডিওতে পত্রিকা ছেঁড়ার ঘটনায় জেজেইউর নিন্দা ও প্রতিবাদ। নয়া দিগন্ত

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান ফেসবুক ভিডিওতে একটি পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি (জেজেইউ)। 

Advertisement

সংগঠনটি বলেছে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির এমন আচরণ স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য বড় অশনিসংকেত।

রোববার (১ নভেম্বর) জেজেইউর আহ্বায়ক সাইফুর সাগর ও সদস্য সচিব আহসান কামরুল স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানায় সংগঠনটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রকাশিত সংবাদ, সম্পাদকীয় অবস্থান কিংবা রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সাথে কারো দ্বিমত বা আপত্তি থাকতেই পারে। গণতান্ত্রিক সমাজে সেই দ্বিমত প্রকাশ, সমালোচনা ও প্রতিবাদের অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে। তবে মতপার্থক্য প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখা জরুরি।

এতে আরো বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির প্রকাশ্যে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা দায়িত্বশীল আচরণের প্রত্যাশার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো সংবাদমাধ্যমের বক্তব্য বা অবস্থানের সাথে দ্বিমত থাকলে তা যুক্তি, তথ্য ও পাল্টা বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকাশের সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো পক্ষেরই এমন আচরণ করা উচিত নয়, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে সংকুচিত করে।

জেজেইউ মনে করে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকা নয়; বরং স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ, মতামত তুলে ধরা এবং সমালোচনার জবাব দেয়ার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকেও সংযত ও গণতান্ত্রিক আচরণ প্রত্যাশিত।

বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমের কোনো প্রতিবেদনে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে প্রতিকারের শক্তিশালী ব্যবস্থা থাকলে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। এ জন্য প্রেস কাউন্সিলকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

একই সাথে সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশ কার্যালয়ে ককটেল হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিক যেন ভয়ভীতি, হামলা কিংবা চাপের মুখে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল স্বাধীন গণমাধ্যম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

শেষে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানায় জেজেইউ।