
বর্ষায় হাওর দেখার ধুম পড়ে যায়। ঢাকা থেকে সহজ যাতায়াত কিশোরগঞ্জের নিকলী। ওখানে একটা বেড়িবাঁধ আছে। বাঁধের পরে থইথই পানি। ঘাটে বাঁধা ইঞ্জিনের নাও। এসব নাও ভাড়া করেন পর্যটকরা। হাওরে ‘হই’ করেন, ‘হল্লা’ করেন। বেড়িবাঁধে দাঁড়িয়ে হাওর দেখেন। আসলে তারা কি হাওর দেখতে যান, নাকি মানুষ দেখেন?
মানুষের সমাগম দেখারও আনন্দ আছে! হাওরে অনেকে যান মানুষ দেখতে, ইঞ্জিনের নাও ভাসিয়ে ‘ধুম্বাচালে’ গান বাজাতে। গানের ব্যবস্থা নাওয়ের ভেতরে থাকে। থরে থরে সাজানো সাউন্ডবক্স। ছইয়ের ওপর শামিয়ানা টানানো। তার নিচে গানের বিটে নাচ ওঠে। নাচতে নাচতে নাও ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনা আছে। পর্যটকবাহী ‘পাগলা নাও’ যখন হাওরের কোনো গ্রাম ঘেঁষে যায়, তখন স্থানীয়দের তেড়ে যাওয়ার ঘটনাও আছে। স্থানীয়দের যদি সরাদিন নাচা-গানায় ‘মুখর’ রাখা হয়, তাহলে তাদেরইবা করার কী আছে?
আসলে পর্যটন কি? প্রকৃতিতে তোলপাড় তুলে দেওয়া! নাকি ক্লান্তি ঝেড়ে প্রকৃতির কাছে যাওয়া? প্রকৃতিকে ভালোবেসে ছুঁয়ে দেখা, মানুষ ও সংস্কৃতির ভেতর ঢুকে যাওয়া! ধুম্বাচালে নাচ বাদ দিয়ে হাওরের সাথে একটু বন্ধুত্ব করে দেখুন— আফাল থেকে ঢেউ ছুটে আসবে, আপনাকে শুনাবে দ্রোহের গান। পাখিরা আসবে, কথা বলবে। আকাশ উপুড় হবে কেবল আপনার জন্য।
এবার কেউ হয়তো বলে বসতে পারেন— ভ্রমণে যাই আনন্দ করতে, কাব্য করতে নয়। কিন্তু ভ্রমণে যাওয়া মানে নতুন ভূমি, নতুন জীবনের মুখোমুখি হওয়া। সেখানে আপনি যদি বিনীত অতিথি না হন, ‘আনন্দ’ করার নামে অনাহূত নিপীড়ক হয়ে ওঠেন, তাহলে আসল আনন্দটাই বাকি থেকে যাবে। পর্যটনের এ সুস্থ ধারণা আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে ‘ইকো-ট্যুরিজম’ বা পরিবেশবান্ধব পর্যটন। ভ্রমণে সত্যিকারের আনন্দ নেয়ার কৌশল শেখায় ‘ইকো-ট্যুরিজম’। এবারো হয়তো কেউ বলে বসতে পারেন— বিদেশীদের এসব ‘লুতুপুতু’ ধারণা আমাদের দেশে চলবে না।
কেন চলবে না! আমাদের তো ‘হাওর বেসিন’ আছে। বেসিন বা গামলার মতো এমন মৌসুমি ভেজাভূমি (ওয়েটল্যান্ড) অন্য অনেক দেশে দুর্লভ। গামলায় যেমন পানি জমা হয়, তেমনি পাহাড় থেকে নেমে আসা পানি জমে হাওরে। তারপর মেঘনার প্রবাহের সাথে নেমে যায় সাগরে। বর্ষায় হাওরকে সাগরের মতো দেখায়। তখন ঝড়ো বাতাস বা আফাল ছুটলে ঢেউ ছোটে। ঢেউ না থাকলে রুপালি হাওর ঝিকিমিকি করে। এমন উচ্ছল বেসিন আর কোথাও নেই।
ব্রাজিলের আমাজন অববাহিকায় মৌসুমি প্লাবনভূমি আছে। বর্ষায় প্লাবন আসে দেশটির প্যান্টানাল ওয়েটল্যান্ডেও। পানিতে ঘাস আর গাছগুলো মরে যায়, তারপর পচন ধরে। ওখানে পচে যাওয়া ঘাস-লতার বৈচিত্র্য ভিন্ন। কিন্তু সেই বৈচিত্র্যের তুলনা উচ্ছল হাওরের সাথে মেলে না। প্যান্টানালের বৈচিত্র্যের খবর সারা পৃথিবীর কাছে আছে। ওখানে পরিবেশ ও প্রকৃতির সাথে মিলিয়ে থাকা ও খাওয়ার ভালো ব্যবস্থা করে দিয়েছে সরকার। পর্যটকরা ঘুরে বেড়ান কাঠের নৌকায় করে। উপভোগ করেন প্যান্টানালের নির্জনতা। এ নির্জনতাই সেখানকার সৌন্দর্য। আর এই সৌন্দর্য বিক্রি করেই ব্রাজিল আয় করে নিচ্ছে কোটি কোটি ডলার। তাহলে আমাদের হাওর থেকে আয় বের করা কেন সম্ভব নয়! হাওরকে ইকো-ট্যুরিজম জোন বানাতে পারলে বিদেশী পর্যটক ও গবেষকদের হুমড়ি খেয়ে পড়ার কথা।
কোনো এক ভৌগোলিক রূপান্তরে তৈরি হয়েছিল হাওর-বেসিন। তারপর এই বেসিনে আসতে থাকে মানুষ। মাছ ধরে, ফসল ফলায়, জিরাত করে। ধীরে ধীরে বাড়ির ভিটা তৈরি করে স্থায়ী হয়ে যায় তারা। শুকনায় মাইলের পর মাইল হাঁটতে হতো তাদের। বর্ষায় লড়তে হতো সাগরের মতো ঢেউয়ের সাথে। যাতায়াত করতে হতো নাও দিয়ে। এ কারণে হাওরকে বলা হয়- বর্ষায় নাও, শুকনায় পাও। নাও আর পাওয়ের (পায়ের) মেলবন্ধনে গড়ে উঠেছে হাওর সংস্কৃতি— সন্ধ্যায় কুপিবাতি জ্বালিয়ে কিসসা বলা, আলো দিয়ে মাছ ধরা। বিলে পানিতে পলো উৎসব। বর্ষায় নৌকাবাইচ। বৈশাখে ফসল কাটার আয়োজন-দাওয়া ও মাড়া। এ সংস্কৃতিগুলো কী এখন আগের মতো আছে?
হাওরের ঢেউ আগের মতো নেই। আগের মতো এখনো আকাশ কালো করে আফাল আসে। কিন্তু ঢেউয়ের সাড়া পাওয়া যায় না। কারণ পানির প্রবাহ স্বাভাবিক নেই। ‘অল-ওয়েদার’ সড়কে বাধা পড়ে আছে পানি। সড়কগুলোতে বিকট শব্দ তুলে বেপরোয়া মোটরসাইকেল। রাতের হাওরে ছোটে আলোর রোশনাই, ইঞ্জিন নাওয়ের ধুকপুকানি। শব্দ, আলো আর বিষে ভেঙে পড়ছে হাওরচক্র। মরে যাচ্ছে জলজ উদ্ভিদ। সাইবেরিয়া থেকে অতিথি হয়ে আসা পাখিরা খাবার পাচ্ছে না, মারা পড়ছে শিকারিদের হাতে। পাখিদের অভয়ারণ্যে থাকে পর্যটকের কোলাহল। কারণ পর্যটন নিয়ে আমাদের মানসিকতাই এমন!
আমাদের পর্যটন খাত ডোমেস্টিক বা অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। তাও মৌসুমভিত্তিক। সম্ভাবনা থাকার পরও ‘ইনবাউন্ড ট্যুরিজম’ নিয়ে আমরা উদাসীন। এ কারণে বিদেশী পর্যটকদেরও বাংলাদেশে আসতে অনীহা। বাংলাদেশে কী আছে, সেসবের খবর নেই তাদের কাছে। যে কয়েকজনকে বাংলাদেশে আসতে দেখা যায়, তাদের বেশির ভাগ মূলত ভারত ভ্রমণে আসেন। ভারত ভ্রমণের বরাদ্দ থেকে দুই-একটি দিন কেটে বাংলাদেশের জন্য রাখেন। অনেকে শ্বাসমূলীয় বন সুন্দরবন দেখতে আসেন। বাঘের পায়ের ছাপ খোঁজেন। এরপর চলে যান চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল। বাকি যে সময়টুকু থাকে- পুরান ঢাকায় রিকশায় ঘুরে বেড়ান। হাতে আরো সময় থাকলে উত্তরবঙ্গের দিকে উঁকি মারেন। আর কক্সবাজার?
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত দেশীয় পর্যটকদের টানতে পারলেও বিদেশীদের পারে না। সেখানে বেপরোয়া কোলাহল। গড়ে ওঠেনি নান্দনিক বৈচিত্র্য। ইউরোপ আমেরিকার পর্যটকরা যান থাইল্যান্ডের ফুকেট, ইন্দোনেশিয়ার বালি অথবা মালদ্বীপের সৈকতগুলোতে। আমাদের কক্সবাজার সৈকত তাদের নির্জন আনন্দ দিতে পারে না। তারা চান ‘স্লো ট্যুরিজম’। প্রকৃতির সাথে নিভৃতে সময় কাটাতে। স্থানীয়দের জীবনযাত্রা ছুঁতে চান। আর ব্যাকপ্যাকাররা চান অ্যাডভেঞ্চার।
অ্যাডভেঞ্চার আর নির্জন আনন্দের ব্যবস্থা হাওরে গড়ে তোলা সম্ভব। এখানকার পানিতে ছিমছাম প্যাডেল বোট ভাসিয়ে দিলে ব্যাকপ্যাকাররা কায়াকিং করতে পারবেন। তাঁবু পেতে রাতের আকাশ দেখার সুযোগ আছে। খোলা হাওরে আলোর ঝলকানি থাকে না। সেখান থেকে ছায়াপথের দেখা পাওয়াও সম্ভব।
হাওরের মানুষ অতিথি ভালোবাসেন। কোনো বিদেশী অতিথি গিয়ে যদি এক পাড়া থেকে অন্য পাড়ায় বেড়াতে শুরু করেন, কার ঘরে কী পিঠা বানানো হয়েছে— খোঁজ নিতে চান, তাহলে অতিথিদের জন্য পিঠার পসরা সাজিয়ে দেবেন তারা। সাজিয়ে রাখবেন টাটকা মাছ, রাতাবোরো চালের ভাত আর হাঁসের গোশত। থাকবে স্থানীয় শাক ও সবজি। খাবারগুলো কিছুটা বিদেশীদের উপযোগী করে পরিবেশন করা হলে তারা কি জিভ সামলাতে পারবেন? ফুড লাভাররা খাবারের খোঁজে থাকেন। খাবার চেখে দেখার জন্যই তারা চলে যান ভিয়েতনামের মেকং দ্বীপে।
হাওরে সম্ভাবনা আছে। কিন্তু সম্ভাবনা কাজে লাগানোর মানসিকতা আমাদের নেই। পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিয়ে হাওরকে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা গেলে স্থানীয়দের মৌসুমভিত্তিক জীবনযাত্রা ঠিক থাকবে। প্রকৃতি টিকে যাবে। আর দেশী-বিদেশী পর্যটকদের জন্য তৈরি হবে নিভৃত সময় কাটানোর সুযোগ। এর জন্য পর্যটন নিয়ে আমাদের প্রচলিত ধারণা ঝেরে ফেলতে হবে। প্রকৃতি ধ্বংসের সব উপাদান বাদ দিয়ে প্রকৃতিকে ভালোবেসে উপভোগের উপাদান যোগ করতে হবে। সবার আগে দরকার অবকাঠামোগত পরিবর্তন। নতুন করে পাকা ইমারত বা বহুতল হোটেল বানানোর চিন্তা বাদ দিতে হবে। বাঁশ, কাঠ, খড়ের মতো পরিবেশবান্ধব উপাদান দিয়ে গড়ে তোলা যেতে পারে ‘কমিউনিটি বেসড কটেজ’। এগুলোতে আলো দেবে সৌরবিদ্যুৎ। জৈব শৌচাগার করে বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
উদ্যোগগুলো একটি গ্রাম থেকে শুরু হোক না। তারপর কমিউনিটি বেসড কটেজগুলো পর্যটনের পরিচিত প্ল্যাটফর্মগুলোর তালিকায় তুলে দিন। প্রচার করুন। দেখুন সাড়া পাওয়া যায় কি না। বিদেশী পর্যটকরা যখন সাড়া দিতে শুরু করবেন, এর লাভ জমা হতে থাকবে কমিউনিটিতে। তারপর এ ধারণা ছড়িয়ে যাবে গ্রামের পর গ্রামে। তখন এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাওয়ার ‘অল-ওয়েদার সড়ক’গুলো ভেঙে ফেলা হবে। বর্ষায় চলাচল করবে সৌরবিদ্যুৎ চালিত ইকো-হাউজবোট বা ওয়াটারবাস। থাকবে ভাসমান জেটি। এতে শব্দ ও তেল দূষণ নেমে আসবে শূন্যে। মেকং দ্বীপের প্লাবনভূমির সাথে হাওরের কিছুটা মিল আছে। সেখানে স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকরা পরিবেশবান্ধব নৌকায় যাতায়াত করেন। প্যান্টানালেও কঠোর নীতিমালা মেনে বোট সাফারি হয়। এগুলো হাওরের জন্য উদাহরণ হতে পারে।
খুব জরুরি যাতায়াতে পিলারের ওপর ‘উড়াল সড়ক’ বা ‘ভায়াডাক্ট’ বানানো যেতে পারে। এগুলোর নিচ দিয়ে অবাধে পানি চলাচল করতে পারবে। পানির নিচের প্রাণীদের চলাচলেও বাধা তৈরি হবে না। জরুরি চিকিৎসা অথবা দ্রুত যোগাযোগে পরিবেশবান্ধব উড্ডয়ন মাধ্যম বা ওয়াটার-অ্যান্ড-ল্যান্ডভিত্তিক ছোট প্যাসেঞ্জার ড্রোনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ উভচর যানের জন্য বানানো যেতে পারে ছোট রানওয়ে। দূরের উপজেলা বা জেলা সদরে রোগী বা জরুরি পণ্য দ্রুত পরিবহনে হাইড্রোফয়েল বোট ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো কম ঢেউ তৈরি করে।
শুকনো মৌসুমের চলাচলে উঁচু সড়কের দরকার হবে না। জমি বরাবর সড়ক ধরে চলতে পারে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক কার্ট বা বাইক। এতে মাটির উর্বরতা নষ্ট হবে না। সেইসাথে পর্যটকরাও নিঃশব্দে উপভোগ করতে পারবেন হাওর। পরিবেশ ঠিকঠাক রাখতে চালু করা যেতে পারে ‘জিরো প্লাস্টিক পলিসি’। প্রতিটি নৌকায়, রিসোর্ট ও কটেজে বাধ্যতামূলক বর্জ্য সংগ্রহের বিন রাখা যেতে পারে। প্রজনন মৌসুমে হাওরের নির্দিষ্ট কিছু এলাকাকে মাছ ও পাখিদের অভয়াশ্রম ঘোষণা করতে হবে।
এসব আয়োজন ঠিকঠাক রাখতে প্রশিক্ষণ দিতে হবে স্থানীয় যুবকদের। তাদের গড়ে তুলতে হবে ‘ইকো-গাইড’ হিসেবে। তারা পর্যটকদের সাথে হাওরের পাখি, মাছ ও গাছের পরিচয় করিয়ে দেবে। এতে যুবকদের কাজের ব্যবস্থা হবে। স্থানীয়রা যখন বুঝতে পারবেন, প্রকৃতি টিকলে তাদের আয় বাড়বে, তখন নিজেরা পরিবেশের পাহারাদার হয়ে উঠবেন। পর্যটন থেকে আসা আয়ের একটা অংশ হাওরের বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবেলায় খরচ করা যেতে পারে।
পর্যটন খাতের সাথে কৃষি ও উৎপাদন যোগ করে দিতে পারলে অর্থনীতির চেহারা পাল্টে ফেলা সম্ভব। পর্যটকরা চাইলে কৃষকের সাথে জমিতে ধান লাগানো দেখতে পারবেন। নারীদের সেলাই করা কাঁথা কিনতে পারবেন। তারা দেখবেন নৌকাবাইচ, লাঠিখেলা। শীতে বসবে কিসসার জলসা, বর্ষায় ভাটিয়ালি গান। এই ইভেন্টগুলোকে পর্যটন ক্যালেন্ডারে রেখে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার করা যায়।
চাইলে শুকনার হাওর দিয়েও মাত করা সম্ভব। শুকনার সময় হাওর কেমন থাকে, সেটা দেশের ভেতরেও অনেকে জানেন না। হাওর মানে তারা বুঝেন পানি আর ঢেউ। হাওরের পানি যখন নেমে যায়, তখন পলি পড়ে জমি উর্বর হয়। এ সময় শত শত একর জমিতে বোরো ধানের সবুজ চারা জেগে ওঠে। খোলা এই সবুজ চোখের ক্লান্তি দূর করে। পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর উঁচু কান্দাগুলোতে গজায় ঘাস। তৃণভূমিতে চড়ে বেড়ায় গরু, মহিষ এবং ছাগলের পাল। ‘টইটই’ করে শামুক খোঁজে হাঁসের ঝাঁক। ওই সময়ের হাওর অনেকটা ইউরোপের তৃণভূমির মতো।
শীতে হাওরে আসে অতিথি পাখি। ভোরে অথবা গোধূলিতে ডানা ঝাপটায়। কখনো আকাশে তীর এঁকে রওনা করে দূর-পথে। হাওরের ওই সময়টা মনোরম। অথচ শুকনার হাওর নিয়ে আমাদের কোনো প্রচার নেই। শুকনা আর বর্ষার হাওরে ইকো-ট্যুরিজম গড়ে তুলতে পারলে কমে আসবে জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকিগুলোও। তখন মাটি ও পানি স্বাভাবিক থাকবে। প্রকৃতি ফিরে পেতে শুরু করবে ভারসাম্য।
লেখক : সহকারী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত
smmoshahid@gmail.com
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








