ড. আবদুল লতিফ মাসুম
ড. আবদুল লতিফ মাসুম। নয়া দিগন্ত

ইংরেজ রোমান্টিক কবি উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ তার অমর পঙ্ক্তিতে লিখেছিলেন, শিশুই মানুষের পিতা। এই একটি পঙ্ক্তি আধুনিক শিশু-দর্শনের ভিত্তিপ্রস্তর। কবি গোলাম মোস্তফা সেই দর্শনকেই বাংলা কবিতার শরীরে অনুবাদ করে লিখেছিলেন, ‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।’ এই পঙ্ক্তিতে একটি গভীর রাজনৈতিক সত্য প্রোথিত, আজকের শিশুর ভেতরেই ঘুমিয়ে আছে আগামীর নেতা, চিন্তাবিদ, শ্রমজীবী, নাগরিক। জাঁ-জাক রুশো তার ‘এমিল’ গ্রন্থে শিশুকে প্রকৃতির সবচেয়ে পবিত্র সৃষ্টি বলে অভিহিত করে ঘোষণা করেছিলেন, শিশু জন্মগতভাবে সৎ ও মঙ্গলময়— সমাজই তাকে কলুষিত করে। জন লক তার ‘ট্যাবুলা রাসা’ তত্ত্বে শিশুর মনকে ‘অলিখিত ফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন — পরিবেশ, শিক্ষা ও রাষ্ট্রীয় নীতিই নির্ধারণ করে সেই ফলকে কী লেখা হবে। বাংলাদেশে বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার দিবস উদযাপনের প্রেক্ষাপটে এই তাত্ত্বিক প্রশ্নগুলো নিছক দার্শনিক অনুশীলন নয়— এগুলো রাষ্ট্রের অস্তিত্বের সাথে জড়িত জীবন্ত প্রশ্ন। একটি রাষ্ট্র তার শিশুদের সাথে কেমন আচরণ করে, তা সেই রাষ্ট্রের সভ্যতার মাপকাঠি— নেলসন ম্যান্ডেলা এই কথাটি বলেছিলেন এবং এটি চিরন্তন সত্য।
বাংলাদেশে অক্টোবরের প্রথম সোমবার বিশ্বশিশু দিবস এবং শিশু অধিকার দিবস পালিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’— এটি একটি আশাবাদী স্লোগান, কিন্তু প্রশ্ন হলো বাস্তবতা এই আশাবাদকে কতটুকু সমর্থন করে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি এ বছর তার সুবর্ণজয়ন্তী পূর্ণ করেছে— ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিশুদের সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক বিকাশের লক্ষ্যে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন। পঞ্চাশ বছরে শিশু একাডেমি একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিশুসাহিত্য, চিত্রকলা, সঙ্গীত ও নাট্যকলায় অসংখ্য প্রতিভার বিকাশে ভূমিকা রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে উপস্থিত থেকে শিশুদের মেধা বিকাশে সুযোগ দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং প্রতিটি শিশুকে ‘একেকটি ফুল’ বলে অভিহিত করেছেন— যে ফুলকে বিকশিত হতে দেয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান অনুষ্ঠানেও তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনারা মানুষ গড়ার কারিগর’— শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তোলাই জাতিগঠনের মূল ভিত্তি। এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ, কিন্তু অঙ্গীকার ও বাস্তবতার মধ্যে যে বিশাল ফারাক— সেদিকে দৃষ্টি দেয়া বেশি প্রয়োজন।
পোলিশ শিশু-অধিকার চিন্তাবিদ ইয়ানুশ কর্চাক বলেছিলেন, ‘শিশু ভবিষ্যতের মানুষ নয়, সে বর্তমানের মানুষ — তার অধিকার এখনই।’ কর্চাকের এই দর্শনই ১৯৮৯ সালে জাতিসঙ্ঘ শিশু অধিকার সনদে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে, যেখানে শিশুর বেঁচে থাকার অধিকার, সুরক্ষার অধিকার, বিকাশের অধিকার এবং অংশগ্রহণের অধিকার— এই চারটি মৌলিক স্তম্ভ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ১৯৯০ সালে এই সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং ২০১৩ সালে শিশু আইন প্রণয়ন করেছে। সংবিধানের ২৮(৪) অনুচ্ছেদে শিশুদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা রাষ্ট্রকে দেয়া হয়েছে এবং ১৭ অনুচ্ছেদে সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার অঙ্গীকার করা হয়েছে। কিন্তু আইন ও বাস্তবতার মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান, তা এদেশের শিশুদের প্রতিদিনের জীবনে ক্ষতচিহ্ন রেখে চলেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের যৌথ জরিপে প্রকাশিত তথ্য হতাশাজনক। দেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ৯.২ শতাংশ শিশুশ্রমে নিয়োজিত— যা ২০১৯ সালের ৬.৮ শতাংশ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সংখ্যার হিসাবে প্রায় ১২ লাখ অতিরিক্ত শিশু শ্রমবাজারে প্রবেশ করেছে। রাজশাহীতে এই হার ১২.৪ শতাংশ, রংপুরে ১১.৮ শতাংশ— উত্তরবঙ্গের দারিদ্র্যপীড়িত জেলাগুলোতে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। স্কুলবিচ্ছিন্ন শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা চারগুণ বেশি— অর্থাৎ দারিদ্র্য, শিক্ষাবঞ্চনা ও শিশুশ্রম একটি দুষ্টচক্রে আবদ্ধ। অমর্ত্য সেন তার ‘সক্ষমতা তত্ত্বে’ দেখিয়েছেন, উন্নয়নের প্রকৃত পরিমাপ কেবল জিডিপি নয়, বরং মানুষের সক্ষমতা ও স্বাধীনতার বিস্তার— একটি শিশু যখন শ্রমে বাধ্য হয়, তখন তার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিকাশের সক্ষমতা চিরতরে খর্ব হয়। সুকান্তের সেই ঘুমন্ত পিতা আর কখনো জেগে ওঠে না— শিশুশ্রম তাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে। ইটভাটায়, গার্মেন্টস কারখানায়, চায়ের দোকানে, গৃহকর্মে— লাখ লাখ শিশুর শৈশব ধ্বংস হচ্ছে নীরবে। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এই হার ১৪ শতাংশ— অর্থাৎ কৈশোরে পদার্পণের আগেই তারা শ্রমিকের জীবনে প্রবেশ করছে।
ইউনিসেফের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৪৭ শতাংশ মেয়ে ১৮ বছরের আগে বিয়ে হয়— এশিয়ায় সর্বোচ্চ এবং বিশ্বে অষ্টম। ২০১৭ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে ‘বিশেষ ক্ষেত্রে’ ১৮ বছরের নিচে বিয়ের অনুমতি রাখা হয়েছে। মার্থা নাসবম তার ‘সক্ষমতা তত্ত্বে’ নারী ও শিশুর সক্ষমতা বিকাশের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন— তার মতে, রাষ্ট্রের প্রথম কর্তব্য হলো প্রতিটি নাগরিকের জন্য ন্যূনতম সক্ষমতার নিশ্চয়তা দেয়া, যার মধ্যে শিক্ষা, শারীরিক অখণ্ডতা ও আত্মমর্যাদা অন্তর্ভুক্ত। একটি মেয়ে যখন ১৪ বা ১৫ বছরে সংসারে ঢোকে, সে আর জেগে ওঠার সুযোগ পায় না। গ্রামবাংলায় আজও কন্যাসন্তানকে ‘পরের ঘরের ধন’ বলে বিবেচনা করা হয়— এই মানসিকতা পরিবর্তন হওয়া দরকার।
আরো উদ্বেগের বিষয় হলো শিশুদের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি। পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের ওই জরিপে দেখা গেছে, ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ৩৮ শতাংশের রক্তে বিপজ্জনক মাত্রায় সিসা রয়েছে— ঢাকায় এই হার ৬৫ শতাংশ। সিসাদূষণ শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে স্থায়ী ক্ষতি করে, বুদ্ধিমত্তা হ্রাস করে, আচরণগত সমস্যা তৈরি করে। এটি একটি নীরব মহামারী যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানবসম্পদকে ধ্বংস করছে। শিল্পকারখানার বর্জ্য, ব্যাটারি রিসাইক্লিং এবং ভেজাল মসলা— সিসাদূষণের এই উৎসগুলো প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেই বললেই চলে। বিশ্বব্যাংকের হিউম্যান ক্যাপিটাল ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ইতোমধ্যে উদ্বেগজনক— শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে ও সিসাদূষণের এই ত্রিমুখী সঙ্কট দেশটিকে আরো পিছিয়ে দিচ্ছে। ঢাকা ট্রিবিউনের একটি সম্পাদকীয় এই তিনটি সমস্যাকে একত্রে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ বলে অভিহিত করেছে।
পথশিশুদের কথা আলাদাভাবে বলতে হয়। ঢাকা শহরে আনুমানিক সাড়ে ছয় লাখ পথশিশু রয়েছে— যারা খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। এই শিশুরা মাদকের ঝুঁকিতে, যৌন নিপীড়নের শিকার এবং অপরাধ জগতের সহজ টার্গেট। ফরাসি ইতিহাসবিদ ফিলিপ আরিয়েস তার ‘Centuries of Childhood’ গ্রন্থে দেখিয়েছিলেন, শিশু ধারণাটিই একটি সামাজিক নির্মাণ (social construction)— মধ্যযুগে শিশুকে ক্ষুদ্র প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখা হতো, আধুনিক সভ্যতা শিশুকে পৃথক সত্তা ও বিশেষ যত্নের অধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশের পথশিশুদের বাস্তবতা দেখলে মনে হয়, আমরা সেই মধ্যযুগীয় দৃষ্টিভঙ্গিতেই আটকে আছি— শিশুকে উৎপাদনের হাতিয়ার বা বোঝা হিসেবে দেখা হচ্ছে, অধিকারের বাহক হিসেবে নয়। রাজধানীর চকচকে অট্টালিকার ছায়ায় যে শিশু কাগজ কুড়াচ্ছে, ফুটপাথে ঘুমাচ্ছে, ট্রাফিক সিগন্যালে ফুল বিক্রি করছে— সে এই রাষ্ট্রের সবচেয়ে উপেক্ষিত নাগরিক।
ইবনে খালদুন তার ‘আল-মুকাদ্দিমা’ গ্রন্থে সভ্যতার উত্থান ও পতন বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখিয়েছিলেন, কোনো জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে পরবর্তী প্রজন্মকে সে কতটা যোগ্য ও সক্ষম করে গড়ে তুলতে পারে। যে সমাজ তার শিশুদের প্রতি উদাসীন, সে সমাজের আসাবিয়া— সামাজিক সংহতি ও শক্তি ক্রমশ ক্ষয়ে যায়। জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে যে তরুণরা রাজপথে নেমেছিল, তাদের অনেকেই ছিল বঞ্চিত শৈশবের সন্তান— তাদের ক্ষোভের মূলে ছিল সুযোগের অভাব, বৈষম্য ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা। একটি শিশুর প্রতি রাষ্ট্রের অবহেলা পনেরো-বিশ বছর পর সামাজিক অস্থিরতা হয়ে ফিরে আসে— এটি ইতিহাসের শিক্ষা। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে সেই ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে হবে— আর সেটি শুরু হবে আজকের শিশুদের কাছ থেকে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী নিক্কোলো মেকিয়াভেলি বলেছিলেন, রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব নির্ভর করে তার প্রতিষ্ঠানের শক্তির ওপর এবং শিশু-অধিকার সুরক্ষা সেই প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুদের ‘নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত শৈশব’ নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, তা বাস্তবায়নে কয়েকটি পদক্ষেপ অবিলম্বে প্রয়োজন। প্রথমত, শিশুশ্রম নিরসনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে— শুধু আইন নয়, দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারগুলোতে সামাজিক সুরক্ষা বাড়াতে হবে যাতে পরিবার শিশুকে শ্রমে পাঠাতে বাধ্য না হয়। দ্বিতীয়ত, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের ‘বিশেষ বিধান’ বাতিল করে আইনকে প্রকৃত অর্থে কার্যকর করতে হবে। তৃতীয়ত, শিশু বাজেটে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে— বর্তমানে জাতীয় বাজেটের মাত্র ১৫ শতাংশের মতো শিশু-সম্পর্কিত খাতে ব্যয় হয়, যা ইউনিসেফের সুপারিশের তুলনায় অপর্যাপ্ত। চতুর্থত, পথশিশু পুনর্বাসনে একটি জাতীয় কমিশন গঠন করা প্রয়োজন— কেবল তাদের আশ্রয় নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানসিক সহায়তার সমন্বিত কাঠামো দরকার। পঞ্চমত, সিসাদূষণ প্রতিরোধে শিল্পকারখানার বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, ব্যাটারি রিসাইক্লিং নিয়মিতকরণ ও খাদ্যে ভেজাল রোধে কঠোর পদক্ষেপ জরুরি।
শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত— কিন্তু এই উদযাপন তখনই অর্থবহ হবে যখন প্রতিটি শিশুর জন্য সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত হবে। জিয়াউর রহমান যে দূরদৃষ্টি নিয়ে শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই দূরদৃষ্টির পূর্ণ বাস্তবায়ন আজও সুদূরপরাহত। দেশের ৬৪ জেলায় শিশু একাডেমির শাখা থাকলেও অধিকাংশই অবকাঠামোগত দুর্বলতা, জনবল সঙ্কট ও বাজেট স্বল্পতায় কার্যত নিষ্ক্রিয়। প্রতিটি শিশুর অন্তরে যে পিতা ঘুমিয়ে আছে— সেই পিতাকে জাগাতে হলে রাষ্ট্রকে ঘুম ভাঙাতে হবে। শিশুর প্রতি বিনিয়োগ কেবল মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বুদ্ধিমান অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তও— কারণ আজকের অবহেলিত শিশু আগামীর অসক্ষম নাগরিক, আর আজকের সুরক্ষিত শিশু আগামীর সমৃদ্ধ জাতির স্থপতি। যে জাতি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছে, সেই স্বপ্নের সার্থক রূপায়ণ নির্ভর করে প্রতিটি শিশুর অন্তরে ঘুমিয়ে থাকা পিতাকে জাগিয়ে তোলার ওপর এবং সেই দায়িত্ব রাষ্ট্রের, সমাজের, আমাদের সবার। 
লেখক : অধ্যাপক (অব:), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় 
Mal55ju@yahoo.com

Advertisement