
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম দেশের সমস্যা সমাধানে যেসব গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং বাস্তÍবায়নের কাজও শুরু করেছিলেন, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো— ভূ-পৃষ্ঠের পানি এবং পানিসম্পদের ব্যবস্থাপনা। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থেই তিনি চিন্তা করেছিলেন দেশব্যাপী খাল খননের ঐতিহাসিক উদ্যোগের কথা। এই মহা উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া ভীষণ অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন পানিসম্পদ বিজ্ঞানী এস এ বারী এটি কর্তৃক।
গঙ্গা নদীর প্রবাহ বণ্টন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ এস এ বারী এটি ছিলেন উজানের ভারত এবং ভাটির বাংলাদেশের মধ্যে মুখ্য আলোচক। গঙ্গা নদীর প্রবাহ বাঁটোয়ারার দক্ষতা তাকে নদী গবেষণার আন্তর্জাতিক ‘অথরিটির’ শীর্ষ পদমর্যাদায় উত্তীর্ণ করে। তার সেই গবেষণারই গ্রন্থরূপ The Granges Waters Dispute (গঙ্গা নদীর পানি বাঁটোয়ারা বিতর্ক)। এই নদী-বিশেষজ্ঞই জিয়াউর রহমানকে খাল খননের পরামর্শ দেন। জিয়ার আরো একটি প্রতিভা ছিল তালাশ করা এবং বিশেষ প্রতিভাধর মানুষগুলোকে যথাযোগ্য সম্মান দেয়া।
যেমনভাবে তিনি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতেন ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’-এর প্রথম এবং সত্যিকারের রূপকার সাংবাদিক ও গবেষক দৈনিক ইত্তেফাকের ‘মঞ্চে-নেপথ্যে’ কলামের লেখক ‘স্পষ্টভাষী’ খন্দকার আবদুল হামিদকে। জিয়া বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের রাষ্ট্রদর্শনের ঐতিহাসিক পটভূমি এবং দৈনিক ইত্তেফাকে তার কলামে লেখা ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ রাষ্ট্রদর্শনের দীর্ঘ পটভূমি, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, যৌক্তিকতা, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের রাষ্ট্রবিজ্ঞানগত পর্যালোচনা— এগুলো নিবিড়ভাবে পড়তেন এবং বুঝতেন; হৃদয় দিয়ে অনুধাবনের চেষ্টা করতেন।
জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের চার্লস ডি গল। ডি গল দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ধকল কাটিয়ে আধুনিক ফরাসি রাষ্ট্রের ভাবমর্যাদা পুনরুদ্ধারে ইতিহাস গড়েন। তেমনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াও যুদ্ধবিধ্বস্ত এবং সদ্য স্বাধীন দেশে গেড়ে বসা স্বৈরাচারী একদলীয় শাসনব্যবস্থায় পরিণত হলে বাংলাদেশকে নতুন ও বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার দার্শনিক রাষ্ট্রনায়কের মর্যাদায় অভিষিক্ত হন। জিয়ার আর একটি বড় গুণ বা বৈশিষ্ট্য ছিল জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে তার আন্তরিক অঙ্গীকার। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যে জাতীয় ঐক্য রচনার কাজটি ছিল শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগের, তিনি বা তারা সেটি করতে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হন। ভারতের আজ্ঞাবহ পুতুল সরকার সেদিন জাতীয় ঐক্য গড়ার বদলে আইন করে এবং রাজনৈতিক কারসাজির মাধ্যমে জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করে তোলে।
শেখ মুজিব পাকিস্তানকে কথা দিয়ে এসেছিলেন, তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের নেতা হলেও দুই অঞ্চলের মধ্যে ‘কনফেডারেসি’ টাইপের সমঝোতায় উপনীত হবেন। মুক্ত হয়ে তাই তিনি দেশে না ফিরে বিলাত গেলেন সমঝোতার বন্দোবস্ত করতে। অথচ দেশে ফিরেই তিনি তার দীর্ঘ দিনের মদদদাতা মুসলিম লীগ, পিডিপি, নেজামে ইসলাম, জামায়াতে ইসলামের নেতাদের কারাগারে পাঠালেন। ‘রাজাকার’ ট্যাগ দিয়ে তার গুণ্ডারা হাজার হাজার বিহারি ও পাকিস্তানের অখণ্ডতায় বিশ্বাসী নেতা ও বুদ্ধিজীবীকে প্রকাশ্যে খুন করেছে, বিনাবিচারে সম্পদ দখল করেছে, তার কোনো হিসাব আজতক কেউ করেনি। জাতীয় ঐক্য রচনার সেই কাজটি করেছেন শহীদ জিয়া, যিনি শুধু মুক্তিযুদ্ধে বিশিষ্ট সেক্টর কমান্ডারই ছিলেন না, মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর যে তিনটি স্বাধীন ব্রিগেড হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম তার নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে তৈরি একটি ব্রিগেড জেড-ফোর্সের যুদ্ধ চলাকালীন অধিনায়ক ছিলেন তিনি।
অথচ এ নিয়ে জিয়াকে কেউ কখনোই গর্ব বা অহঙ্কার করতে দেখেনি। এমনকি চট্টগ্রাম বেতার থেকে স্বাধীনতাযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েও কোনো দিন ক্রেডিট নিতে চাননি। খুনি পিশাচ হাসিনা জিয়ার ‘বীর উত্তম’ খেতাবটি পর্যন্ত কেড়ে নেয়। জেলে বিষ প্রয়োগ করে শেষ পর্যন্ত মেরেই ফেলে দেশনেত্রী বেগম জিয়াকে। তারই লেলিয়ে দেয়া সেনাবাহিনীতে ঘাপটি মেরে থাকা কুশীলবরা তাদের সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অকথ্য ও নিষ্ঠুর দৈহিক নির্যাতন করে কোমরের হাড় ভেঙে দেয়। দেশের জন্য, জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যকে এমন নিপীড়নের কোনো দৃষ্টান্ত নেই গোটা বিশ্বে।
খাল খননের দেশাত্মবোধক ও মনোজাগতিক পটভূমি
জিয়ার দেশপ্রেম ও দেশের স্বার্থ সমুন্নত করার রাজনীতি তাকে চিরকাল বাংলাদেশের সমাজ-মানসে অমর করে রাখবে। তিনি ভারতীয় গোলাম কুচক্রীদের হাত থেকে দেশ বাঁচানোর সাহসী ভূমিকা রাখেন। এ কাজগুলোর মধ্যে অসাধারণ বৈশিষ্ট্যে মহিমান্বিত হয়ে আছে তার খাল খনন কর্মসূচি। তিনি সামরিক পটভূমি থেকে উঠে আসা সত্ত্বেও একজন বিজ্ঞানীর সূক্ষ্ম ধীশক্তি দিয়ে অনুধাবন করেছিলেন, ভারত যেভাবে গঙ্গাসহ মোট ৫৪টি অভিন্ন নদ-নদীর উজানে বাঁধ, ব্যারাজ, রিভেটমেন্ট বা কৃত্রিম খাল খনন করে উজানে স্রোত আটকিয়ে বা নদীর পানি লুট করে ভাটির বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করে সুজলা-সুফলা এই দেশকে মরুভূমিতে পরিণত করছে, সেই মনুষ্যনির্মিত মরুকরণ প্রক্রিয়া থেকে বাঁচতে হলে ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানির যথোচিত সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। তাই তিনি ঠিক করলেন, দেশের বুকে যত খাল, নালা, বিল, পতিত হাওর বা প্রাকৃতিক জলাধার রয়েছে, সেগুলোর পলি সরিয়ে ও নাব্যতা বাড়িয়েই সম্ভব হবে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার মতো প্রাকৃতিক জলাধার নিশ্চিত করা। তার এই মহৎ উদ্যোগের প্রেরণা এসেছিল চীন থেকে। চীনের হোয়াংহো নদীকে বলা হয় ‘চীনের দুঃখ’। সেই দুঃখ জয় করতে চান চেয়ারম্যান মাও সেতুং। চেয়ারম্যান মাও যেভাবে হোয়াংহো নদীর স্রোত দমনের পরিবেশগত বিপ্লবকে সাফল্যমণ্ডিত করেছিলেন, জিয়াও সেই একই মনোবল এবং ইস্পাতদৃঢ় সঙ্কল্প নিয়ে দেশজুড়ে খাল খননের গণজোয়ার তৈরি করেছিলেন। যশোরের উলসি-যদুনাথপুর খাল খননের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল সেই ঐতিহাসিক পানি-বিপ্লবের গণজোয়ার। তিনি দেশের শীর্ষ পানিসম্পদ-বিজ্ঞানীদেরকে এক কাতারে দাঁড় করিয়েছিলেন এবং তাদের নেতৃত্বে রেখেছিলেন এস এ বারী এটি কে। কিন্তু আগ্রাসনবাদী ভারত ও তাদের এতদ্দেশীয় দালালরা বাঁচতে দেয়নি জিয়াকে। আর ১০টি বছর হায়াত পেলে তিনি ফারাক্কার অভিশাপ মোচন করে দেশকে সুজলা-সুফলা করে ছাড়তেন।
শুকনোর দেশ পশ্চিম পাকিস্তানে তার শৈশব ও লেখাপড়া। সেনাবাহিনীতে ঢুকে পশ্চিম পাকিস্তানেই হয় তার পোস্টিং। অথচ তার হৃদয়মুকুরে সবসময় উছল ছিল তার প্রাণপ্রিয় স্বদেশ, বাংলাদেশ। তিনি বুঝেছিলেন বাংলাদেশ কৃষি উৎপাদন দ্বিগুণ, এমনকি তিনগুণও করা সম্ভব, যদি বর্ষার বানভাসি এবং গ্রীষ্মের খরচ থেকে ফসলি জমি রক্ষা করা যায়। পানি সমস্যা সমাধানকে তাই তিনি সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেন। দিনের রাষ্ট্র পরিচালনার জটিল সময় পার করে গভীর রাত পর্যন্ত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার উপর বিজ্ঞানী বিশারদদের বই পড়তেন এবং প্রয়োজনীয় বা প্রাসঙ্গিক পর্যবেক্ষণ এবং মতামতগুলোর সারসংক্ষেপ লিখে রাখতেন।
মোট কথা— ফারাক্কাসহ যে ৪০টি সীমান্ত নদীর উজানে ভারতের নদীশাসন এবং পানি লুট, যার কারণে বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি এবং পরিবেশের উপর জুলুমের হাহাকার, সেই হাহাকার বিলাপই প্রতিকারের বিকল্প সমাধানে শহীদ জিয়াকে এতটা ব্যাকুল করে তুুলেছিল। (দেশের জন্য দেশের পরিবেশের জন্য এটি সত্যিই এক সুসংবাদ যে, শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিতার অসম্পূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজেই কোদাল ধরে দেশব্যাপী খাল খননের বিপ্লবের সূচনা করেছেন)।
এই খাল খনন মহাকর্মোদ্যোগ ইস্যুটিকে জিয়া পরিবার অন্তরে ধারণ করে আছে। এটি যে শুধু চীনের হোয়াংহো নদী বর্ণীকরণের চেতনা কিংবা পানিবিজ্ঞানী এস এ বারী এটির অনুপ্রেরণা, সেটিই নয়। জিয়া পরিবার দিব্যদৃষ্টিতেই দেখেছে, বাংলাদেশের প্রধান জীবন-জীবিকার সাথেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে প্রধান প্রধান নদ-নদী, বিশেষ করে সীমান্ত নদীগুলোর উজানে আমাদের দুশমন প্রতিবেশী দেশটির পানি লুণ্ঠন এবং জল অবরোধের নির্মম, হিংসাত্মক ও বিদ্বেষমূলক আচরণ। ভারতের একতরফা জললুণ্ঠনের কাছে পদদলিত হয়েছে প্রবাহ বাঁটোয়ারা-বিষয়ক হেলসিংকি প্রটোকল, ১৯৯২ এবং জাতিসঙ্ঘের এ সংক্রান্ত সর্বসম্মত প্রস্তাব, ১৯৯৭। জললুণ্ঠন কেবল বাংলাদেশকে সর্বস্বান্তÍ করাই ভারতের অপকৌশল নয়, এটি তাদের খাসলত। যে জন্য নিজ দেশের মধ্যেও তারা এক রাজ্যকে ঠকিয়ে অন্য রাজ্যের সুবিধা করে দিতে পরিবেশবিরোধী এবং মানুষের জীবন-জীবিকাবিরোধী অপকর্ম করে থাকে। উদাহরণ টেনে বলা যায়— নর্মদা ব্যারাজ প্রকল্পের কথা। গুজরাটে ৩.৯ বিলিয়ন ডলার খরচ করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এই জলাধার বানাতে গিয়ে হাজার হাজার মানুষকে গৃহহারা করেছে, শস্যহানি ঘটছে বেশুমার। ধ্বংস হয়েছে বনাঞ্চল, প্রাণিসম্পদ এবং প্রাকৃতিক প্রাণচাঞ্চল্য। (ভারতের প্রতিবাদী লেখিকা অরুন্ধতী রায়ের লেখা একটি বইতে এই নর্মদা প্রকল্পের বিনাশী ক্ষতির কথা সবিস্তারে উঠে এসেছে)। এই বিশ্ববরেণ্য ভারতীয় লেখিকা, যাকে যথার্থই তুলনা করা হয়ে থাকে মার্কিন বুদ্ধিজীবী ও মানবাধিকার নেতা নোয়াম চমস্কির সাথে, ভারতের বাংলাদেশের ন্যায্য পানি থেকে ঠকানোর প্রতিবাদেও বহুবার কলম ধরেছেন।
স্বৈরাচারের ১৭ বছরে কিংবা তার আগেও বাংলাদেশের জীবন-মরণের প্রশ্ন জড়িত পানি সমস্যা, উজানের শত্রুরাষ্ট্র কর্তৃক পানি লুণ্ঠন এবং দেশের কৃষি, নৌচলাচল ও পরিবেশগত এত বড় গজব নিয়ে আইনসভায় (জাতীয় সংসদে) তেমন কোনো আলোচন বা প্রস্তাব পাস হতে দেখিনি। বিষয়টিকে তথাকথিত ‘যৌথ নদী কমিশন বিশেষজ্ঞদের লেখালেখি, গবেষণাপত্র বা আমলাতান্ত্রিক গতানুগতিক কাঠামোর মধ্যে শিকলবন্দী রাখা হয়েছে। জেআরসির বৈঠকগুলো ছিল নিতান্তই আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। সভাগুলোয় ভারতীয় পক্ষ বরাবরই ‘আরো তথ্য লাগবে— এ ধরনের কালক্ষেপণকারী তাচ্ছিল্য দেখিয়ে এসেছে। কোনো জেআরসি বৈঠক অর্থপূর্ণ ও ভাটির দেশের সর্বনাশ কমানোর কোনো উদ্যোগের সূত্রপাত বা কার্যকর প্রস্তাবের মুখ দেখতে পারেনি। বারবারই খালি হাতে ভগ্ন হৃদয়ে দেশে ফিরে আসতে হয়েছে বাংলাদেশপক্ষের বিজ্ঞানী, বিশ্লেষক এবং আমলাদের।
প্রসঙ্গক্রমে একটি চমৎকার ও হৃদয়গ্রাহী উদ্ধৃতি দিতে হচ্ছে। ‘নদীশাসন ও রাজ্যশাসন শিরোনামে মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান এহেন একটি বিপর্যয়র প্রাকৃতিক গজব মোকাবেলায় ক্ষমতাসীন এবং বিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে একটি জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়ে লিখতে গিয়ে ‘স্বপ্নের ভূমিকা’ অনুচ্ছেদে লিখেছেন : ‘ফিনল্যান্ডে পড়াশোনা করা যে বাংলাদেশী ছাত্রটি দেশের পানিসঙ্কটকে গভীরভাবে বিবেচনা করে একটি তথ্যমূলক আলোচনা ও সময়োচিত সতর্কীকরণ করেছেন, তিনি একটি স্বপ্ন দেখেছেন। স্বপ্নটি এরকম— আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতা, দু’জনে একসাথে ভাসানীর ফারাক্কা লংমার্চের মতো (গণজোয়ার সৃষ্টি করে) ভারতের কাছে আমাদের দুঃখ-কষ্ট জানাচ্ছেন। (সূত্র : যায়যায়দিন, ১২ আগস্ট, ২০০৩)
এই স্বপ্নের রেশ ধরে এই লেখক তার নিজের একটি স্বপ্ন জুড়ে দিয়ে লিখেন— ওই বাংলাদেশী ছাত্রের স্বপ্নের রেশ মিলানোর আগেই ‘আমি আরেকটি স্বপ্ন দেখতে চাই : আমাদের সংসদে বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করে সংসদে একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে এবং সেই প্রস্তাবটি ভারত সরকারের কাছে পাঠানো হচ্ছে এবং ৩০০ জন সংসদ সদস্য হেঁটে নদীর সীমান্ত পর্যন্ত মিছিল নিয়ে যাচ্ছেন, আর তাদের এই অপূর্ব দৃষ্টান্তে অনুপ্রাণিত হয়ে লাখ লাখ মানুষ তাদের সঙ্গী হয়েছেন ও দৃশ্যটি টিভির পর্দায় বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক দেখছেন।’
এখন চলছে ভাদ্র-আশ্বিন মাস, বানভাসির মাস। এখনই তো উপযুক্ত সময়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শাফিকুর রহমানসহ ট্রেজারি ও অপজিশন সারিতে বসা সব সংসদ সদস্য, অন্যান্য রাজনৈতিক নেতা, ছাত্র-জনতা ইতিহাসের আরেকটি ‘ফারাক্কা লংমার্চ বের করুন’। ব্যানার নিয়ে সবাই রাজশাহী ছুটে চলুন। পাশে ও সাথে লাখ লাখ জনতা। এটিই হবে সেদিনের বিশ্ব ও জাতীয় গণমাধ্যমের প্রধান সংবাদ শিরোনাম। মানুষ বুঝবে— সমস্যাটি জাতীয় পর্যায়ের এবং এই ইস্যুতে সব দলমতের মানুষ এক হয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বিশ্ব সমীপে তুলে ধরছে তাদের সর্বসম্মত অনুভূতি এবং প্রতিবাদের গগনবিদারী আওয়াজ। এটিই হবে জাতীয় প্রশ্নে জাতীয় ঐক্যের একটি দৃশ্যমান শুভসূচনা।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক







