
নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের একটির মুখোমুখি দেশটি। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি ছিল রাজনৈতিক আলোচনার প্রধান বিষয়।
দেশটির সাধারণ মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনো অনেক বেশি। অন্যদিকে, বেকারত্বের হার গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
শনিবার ভোটগ্রহণের দিন। বিভিন্ন জনমত জরিপের পূর্বাভাস বলছে, ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পার্টি কিংবা বিরোধী লেবার পার্টি— কোনোটিই এককভাবে সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসন পাওয়ার অবস্থানে নেই।
প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাকসন আশা করছেন, নতুন কোনো কর আরোপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার ডানপন্থী জোট ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে। তবে গত তিন বছরে জোটের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ, নিজ দলের নেতাদের তাকে নেতৃত্ব থেকে সরানোর দু’টি ব্যর্থ চেষ্টা ও অর্থনীতির স্থবিরতা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লাকসনকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রী হতে চান বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার হিপকিন্স। তার নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক চাপ কমাতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তবে দুই প্রধান দলের মধ্যে জনসমর্থনের ব্যবধান খুবই কম হওয়ায় নজর এখন দেশটির ছোট দলগুলোর দিকে। বিশেষ করে নতুন মধ্যপন্থী দল অপরচুনিটি পার্টিকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
ওয়েলিংটনের ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড ক্যাপি বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই এটি সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনগুলোর একটি। আমার পেশাগত জীবনে এত কঠিন কোনো নির্বাচন অনুমান করা যায়নি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ মুহূর্তে কে জিতবে, তা বলা সত্যিই কঠিন। পরিস্থিতি অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে।’
সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ
রাজধানী ওয়েলিংটনের রাস্তায় অনেক ভোটার এএফপিকে জানিয়েছেন, তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে যেসব প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে খুব বেশি ভাবতে হতো না, এখন সেগুলো কেনার আগেও দু’বার চিন্তা করতে হচ্ছে।
সাংস্কৃতিক পরামর্শক জে ইকাউয়া বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি। কোনো কিছু কেনার আগে আমাকে এখন সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিনব, নাকি কিনব না— তা ভাবতে হয়।’
২৬ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা র্যাচেল শার্ডলো জীবনযাত্রার ব্যয়কে ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমার সব আয় বাসাভাড়া ও অন্যান্য বিল পরিশোধ করতেই চলে যাচ্ছে। ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করা তো দূরের কথা, কিছু টাকা জমাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
ভোটারদের প্রত্যাশা নতুন আশার
শুক্রবার প্রকাশিত সর্বশেষ জনমত জরিপে লেবার পার্টি ৩০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে ন্যাশনাল পার্টির চেয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছে।
নিউজিল্যান্ডে মিশ্র সদস্য আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (এমএমপি) পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ ব্যবস্থায় ভোটারদের দু’টি ভোট দিতে হয়। একটি ভোট দিতে হয় পছন্দের রাজনৈতিক দলকে এবং অন্যটি নিজ নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য।
তবে তথাকথিত ‘ওভারহ্যাং’ ব্যবস্থার কারণে ক্ষমতাসীন দল শেষ পর্যন্ত বেশি আসন পেতে পারে। এ ব্যবস্থায় সংসদে নির্ধারিত ১২০টি আসনের চেয়েও বেশি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
জনমত জরিপে অপরচুনিটি পার্টির সমর্থন ৫ শতাংশের বেশি দেখা গেছে। এর ফলে দলটি সংসদে আসন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে যাচ্ছে।
নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবিরের সাথে কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই— এমন একটি ছোট দলও সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেতে পারে।
সাবেক কেপিএমজি পরামর্শক কিউলে ওংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে দলটি। নির্বাচিত হলে ন্যাশনাল কিংবা লেবার— উভয় দলের সাথেই কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








