ফিজির সমুদ্রসীমা
ফিজির সমুদ্রসীমা। সংগৃহীত ছবি

মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ ও নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলায় ফিজির সমুদ্রসীমায় টহল দেবে সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তিচালিত সামুদ্রিক ড্রোন। এসব ড্রোন একটানা কয়েক মাস সমুদ্রে অবস্থান করতে সক্ষম। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অস্ট্রেলিয়ার সাথে একটি চুক্তির আওতায় এ উদ্যোগের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনে বৃহস্পতিবার একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা কৌশল অনুমোদন করেছে ফিজি। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মেথামফেটামিন ও কোকেনসহ বিভিন্ন মাদকের চোরাচালান বেড়ে যাওয়ায় এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে তৈরি ‘ব্লুবটল’ নামের ড্রোনটির নামকরণ করা হয়েছে একধরনের ছোট জেলিফিশের নাম অনুসারে। এ জেলিফিশের বিষাক্ত হুলে তীব্র ব্যথা হয় এবং এটি প্রায়ই অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রসৈকতে ভেসে আসে।

অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনী দেশটির বিস্তৃত উত্তরাঞ্চলীয় উপকূল নজরদারিতে রাখতে এ ধরনের ছোট চালকবিহীন নৌযান ব্যবহার করে। ড্রোনগুলো সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তির সাহায্যে পরিচালিত হয়।

কর্মকর্তারা জানান, গত মাসে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোকে সমুদ্রে সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবেলায় সহায়তার জন্য অস্ট্রেলিয়া ৬০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার আওতায় ফিজিকে ব্লুবটল ড্রোন ও প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

শুক্রবার সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পমন্ত্রী প্যাট কনরয় বলেন, ‘নিজ দেশসহ এ অঞ্চলের প্রতিটি দেশের স্বার্থে অবৈধ মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে আমাদের একসাথে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ জন্য গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, তথ্য আদান-প্রদান এবং অপরাধীদের আটক ও চোরাচালান বন্ধে সমন্বিতভাবে কাজ করা জরুরি।’

এ সপ্তাহে ফিজি তাদের গোয়েন্দা সংস্থার কাঠামো পুনর্গঠনেরও ঘোষণা দিয়েছে। এ লক্ষ্যে নিউজিল্যান্ডের গোয়েন্দা সংস্থা ছয় মাসব্যাপী একটি পর্যালোচনা পরিচালনা করবে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠান ওসিয়াস দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর ডারউইনের একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে ব্লুবটল ড্রোনের বহর পরিচালনা করে আসছে। উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে শুক্রবার সিডনিতে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ব উপকূলে তাদের নতুন কারখানা চালু করেছে।

কর্মকর্তারা জানান, ফিজির জন্য বরাদ্দ করা ড্রোনগুলো আগামী বছর মোতায়েন করা হবে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর জনসংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও তাদের বিশাল সমুদ্রসীমা পাহারা দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অবৈধভাবে মাছ ধরতে আসা এশীয় জাহাজ এবং দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আসা মাদক পাচারকারী ডুবোজাহাজের চলাচল ঠেকাতে এসব দেশকে কয়েক মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকায় নজরদারি চালাতে হয়।

এদিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের প্রতিযোগিতা বাড়ছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ অঞ্চলে চীনা যুদ্ধজাহাজের সফর এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ডের টহলও বেড়েছে।

সূত্র : বাসস