
রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কের পাশে মরা গাছ এখন সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকা এই গাছ যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানি বা যানচলাচল বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গ্লাস এন্ড সিরামিক এর বাউন্ডারির ভেতরে থাকা বিশাল আকৃতির একটি গাছ ডালপালাহীন ও কঙ্কালসার অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। বৃষ্টির দিনে বা সামান্য ঝড়ো বাতাসে এই গাছটির পচা ডাল ভেঙে নিচে পড়ছে। বিশেষ করে বাস, সিএনজি এবং মোটরসাইকেল চালকরা এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় চরম আতঙ্কে থাকেন।
এই পথে নিয়মিত যাতায়াতকারী, পথচারি এবং স্থানীয়দের অভিযোগ, গাছটি মরে যাওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, 'আমরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে ভয়ে ভয়ে চলি। গত সপ্তাহেও একটি ডাল অল্পের জন্য একটি রিকশার ওপর পড়েনি। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কি প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে?'
মেইন সড়কটি ব্যস্ত হওয়ায় সারাদিন এখানে শত শত যানবাহন চলাচল করে। মরা গাছের ডাল ভেঙে রাস্তার ওপর পড়লে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া রাতের বেলা অপর্যাপ্ত আলোয় মরা গাছটি আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ঝড়ো হাওয়ায় মাটির বাঁধন আলগা হয়ে গেলে পুরো গাছটিই রাস্তার ওপর উপড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গ্লাস এন্ড সিরামিক এর রেজিস্টার রুহুল আমিন আরটিএনএন-কে জানান, আমাদের ইনস্টিটিউটের ভেতরে থাকা মরা গাছটি আমরা অনেকদিন থেকেই দেখে আসছি। কিন্তু গাছটি সরকারি হওয়ায় আমরা চাইলেই কেটে ফেলতে পারি না। এ জন্য সরকারি অনুমতি লাগবে ফলে চাইলেই হুট করে আমরা কেটে ফেলতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী মরা গাছ কাটার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। তবে জনস্বার্থ ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত গাছগুলো অপসারণের পদক্ষেপ নেয়া হবে।
নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত এই 'ঝুঁকিপূর্ণ' মরা গাছগুলো কেটে ফেলার দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও চালক সাধারণ।
এমএসএন/এসএস/আরটিএনএন







