পাহাড় ভাঙনে ভারত ও মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর মদদ
পাহাড় ভাঙনে ভারত ও মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর মদদ। ছবি : এআই

ফল বিক্রেতা ভানু চাকমা স্ত্রীকে নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে ছিলেন খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ভার্মা স্কোয়ার মার্কেটের সামনে। গত শুক্রবার কথা হয় পাহাড়ি ও বাঙালিদের সম্পর্ক নিয়ে। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ। আমরা পাহাড়ের চাকমা সম্প্রদায়ের হলেও সবার আগে আমাদের পরিচয় বাংলাদেশী। অনেকে আদিবাসী দাবি করে। তবে আমরা কখনই আদিবাসী দাবি করি না। এখানে বাঙালিদের সাথেই আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এক সাথে ওঠাবসা।

তার কথায় পাহাড়ে কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আছে, তারা পাহাড়কে সবসময় একটা উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রাখে। সরজমিনে গত সপ্তাহে খাগড়াছড়ি এবং রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি বাসিন্দাদের কাছ থেকে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর সশস্ত্র তৎপরতার ভয়ানক খবর জানা যায়। গত শুক্রবার খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকে যাওয়ার পথে রওনা হলে দীঘিনালায় গিয়েই আটকে যেতে হয়। দীঘিনালা বাজারটির এক পাশেই সাজেকের রাস্তা। সেখানে অনেক পর্যটকের ভিড় থাকলেও গত শুক্রবার জেএসএস ও ইউপিডিএফ এই দুই সশস্ত্র সংগঠনের গোলাগুলির কারণে সেদিন অনেক ফল নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল ভানু চাকমার।

একই কথা বলছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক চাকমা সম্প্রদায়। তিনি বলেন, আমরা পাহাড়ে শান্তি চাই। যারা অস্ত্র নিয়ে পাহাড়ের গহিনে আছে তারা সন্ত্রাসী। চাঁদাবাজি এবং পাহাড়কে নিয়ন্ত্রণে রাখতেই ্তারা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। আদিবাসী এবং ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর বিতর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে বসবাস করছি। আমরা বাঙালি এটাই আমার পরিচয়। তিনি বলেন, আদিবাসী বিতর্ককে সামনে এনেই পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো চাঁদাবাজি এবং আধিপত্য নিয়ন্ত্রণের জন্য পাহাড়কে অশান্ত করে তুলছে। 

Advertisement

আমরা সাধারণ পাহাড়িরা তাদের রোষানলে পড়ে বাধ্য হচ্ছি জীবন দিতে। 

এভাবেই পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্ত পরিবেশ অশান্ত করার নতুন ছক কষা হচ্ছে বলে নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে ‘আদিবাসী’ পরিচয় নিয়ে বিতর্ককে আবার সামনে আনা হচ্ছে। একই সময়ে সীমান্তের ওপারে ভারত ও মিয়ানমারভিত্তিক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সাথে স্থানীয় কয়েকটি আঞ্চলিক সংগঠনের যোগাযোগ ও সহায়তার অভিযোগ উঠছে। অভিযোগ আছে, পাহাড়ে অস্ত্রের মজুদও বাড়ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই তিনটি বিষয় আলাদা ঘটনা নয়। এগুলো একই সূত্রে গাঁথা বৃহত্তর কৌশলের অংশ হতে পারে। 

সম্প্রতি খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে সরজমিনে গিয়ে সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালিদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তারা বলেন, পাহাড়-পর্বত বেষ্টিত অপার সম্ভাবনার পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলকে (সিএইচটি) আলাদা করার গভীর চক্রান্ত শুরু হয়েছে। অত্যাধুনিক প্রাণঘাতী অস্ত্রের মজুদ রয়েছে দেশের তিন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিতে থাকা পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের হাতে। জেএসএস (মূল), জেএসএস (সংস্কার), ইউপিডিএফ (মূল) ও ইউপিডিএফের (সংস্কার) পাশাপাশি কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) মতো সশস্ত্র সংগঠনগুলো এখন আর শুধু সাধারণ দেশীয় অস্ত্র বা পিস্তলে সীমাবদ্ধ নেই। তাদের হাতে এখন শোভা পাচ্ছে এক ধরনের মারণাস্ত্র।

আদিবাসী বিতর্কের নেপথ্যে : বাংলাদেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় নীতিতে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য ‘উপজাতি’, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ ও ‘ক্ষুদ্র জাতিসত্তা’ পরিভাষা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অথচ সম্প্রতি দেশে-বিদেশে ‘আদিবাসী’ শব্দটি নতুন করে জোরালোভাবে প্রচার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি শুধু পরিভাষাগত নয়। এর পেছনে আন্তর্জাতিক পরিসরে পাহাড়কে ‘বিশেষ ইস্যু’ হিসেবে দাঁড় করানোর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আদিবাসী দাবির ভিত্তিতে ভূমির ওপর বিশেষ অধিকার, স্বতন্ত্র শাসনব্যবস্থাও শেষ পর্যন্ত আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবি তোলার পথ তৈরি হয়। এতে পাহাড়ের বাঙালি জনগোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে অবিশ্বাস ও বিভাজন বাড়ে। তাদের ভাষ্য, এই বিভাজনই বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতার সবচেয়ে উর্বর জমি। 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, ’এমআইএসটি’ ও ‘আইবা’ সাভারের প্রফেসর অ্যাডজাংক্ট মেজর জেনারেল (অব:) ড. মো: মোস্তাফিজুর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তির লক্ষ্য ছিল সশস্ত্র সঙ্ঘাতের অবসান, তবে দীর্ঘ সময় পরও অস্ত্রধারণ, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে। সামরিক ক্যাম্প প্রত্যাহারের ফলে দুর্গম এলাকায় রাষ্ট্রের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় এসব গোষ্ঠীর সংগঠিত হওয়া, সদস্য সংগ্রহ এবং অস্ত্র ও রসদ স্থানান্তর সহজ হয়েছে। পাশাপাশি অতীতের বর্তমানে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হওয়ায় তারা এদলে যোগ দিয়ে থাকতে পারে। 

তিনি বলেন, আদিবাসী বিষয়ক বিতর্ক সম্পূর্ণ অনাহূত। বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানায় বসবাস সব জাতিগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত। পশ্চিমা ধারণার সাথে বাংলাদেশের ‘জাতি ধারণার’ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এ সমস্যার সমাধান অনেক আগেই নিশ্চিত করেছে।

তবে ‘সিএইচটি সম্প্রীতি জোট’ এর আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াইচিং মং শাক  নয়া দিগন্তকে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে (সিএইচটি) বাঙালি, চাকমা, মারমাসহ বর্তমানে ১৪টি জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর আলাদা বা স্বকীয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কিন্তু সব জাতিকে এক জাতি বলা তথা ‘আদিবাসী’ বলার চেষ্টা করে থাকে কিছু ষড়যন্ত্রকারী। আমরা কেউই উপজাতি না, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী না, আবার আদিবাসীও না। আমরা সবাই বাংলাদেশী।
 
‘সিএইচটি সম্প্রীতি জোট’ এর আহ্বায়ক থোয়াইচিং মং শাক বলেন, প্রতি জাতিগোষ্ঠীর আলাদা বা স্বতন্ত্র সাংবিধানিক স্বীকৃতি না দেয়ার কারণে পাহাড়ের কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিতর্কিত ‘আদিবাসী’ শব্দটি সামনে আনার চেষ্টা করছে। কিছু সন্ত্রাসী বা ষড়যন্ত্রকারীরা পার্বত্য অঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করলেও বাস্তবতায় সাধারণ পাহাড়িরা তা চায় না। পার্বত্য অঞ্চলের অধিকাংশ বাসিন্দা দেশকে ভালোবাসেন। কিন্তু এখানে সমস্যা হয়, যখন ঢালাওভাবে বলা হচ্ছে ‘পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা’ বা ‘উপজাতি সন্ত্রাসীরা’, তখন আমরা সবাই কষ্ট পাই। কেননা, আমাদের চেহারাকে ইঙ্গিত করে যখন ঢালাওভাবে সন্ত্রাসী বলা হয়, তখন আমিও যেন তার মধ্যে পড়ে যাই। ফলে এই জাতীয় কিছু শব্দ ও আচরণ পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সংগঠনগুলোকে অপতৎপরতা চালাতে সুযোগ করে দেয়। সাধারণ বা নিরীহ পাহাড়ি বাসিন্দাকে সহজে বিভ্রান্ত করে বিভিন্ন ইস্যুতে তারা রাজপথে নামাতে পারে। এ জন্য পরিচয় সঙ্কট দূর করা জরুরি। পাহাড়ের ভূমি আইনের জটিলতাসহ কিছু বিষয় সমাধান করা জরুরি।

‘সিএইচটি সম্প্রীতি জোট’ এর আহ্বায়ক থোয়াইচিং মং শাক বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরেই সব সরকারই পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা বা সঙ্কটগুলোকে শতভাগ গুরুত্ব দেয়নি। আমাদের চোখে বিগত সরকারগুলোর কিছু ক্ষেত্রে ‘ভুল’ দেখতে পাই। সেই ভুল থেকে আঞ্চলিক সংগঠনসহ কিছু সঙ্ঘবদ্ধ গোষ্ঠী বারবার পাহাড়কে নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছে। কিন্তু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পার্বত্য অঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র প্রথম নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন। এই অবস্থায় এসে আমাদের পাহাড়ি-বাঙালিদের মধ্যে সত্যিকারের সম্প্রীতির বন্ধন খুব জরুরি। কিন্তু সেখানে দেখা যাচ্ছে, সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের প্রচণ্ড ঘাটতি রয়েছে। ফলে পাহাড়ি-বাঙালিদের মধ্যে সাংস্কৃতিক মিলনমেলা পরিণত করতে হবে।

সীমান্তের ওপারের মদদ : পাহাড়ের তিন দিকেই সীমান্ত। দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার, পূর্ব ও উত্তরে ভারতের মিজোরাম ও ত্রিপুরা। দুর্গম পাহাড়, ঘন জঙ্গল ও অরক্ষিত বহু সীমান্তপথ এই অঞ্চলকে অবৈধ চলাচলের জন্য সহজ করে তুলেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভারত ও মিয়ানমারে সক্রিয় কয়েকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র গোষ্ঠী বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলের কিছু সংগঠনকে আশ্রয়, প্রশিক্ষণ ও রসদ দিয়ে সহায়তা করছে।

মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান সঙ্ঘাত এই ঝুঁকিকে আরো বাড়িয়েছে। সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বিস্তারের প্রভাব সীমান্ত এলাকায় পড়ছে। এই সুযোগে অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানের করিডোর সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) এম সাখাওয়াত হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, পাহাড়ের সঙ্কটকে শুধু স্থানীয় সমস্যা হিসেবে দেখা ভুল হবে। এর সাথে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি জড়িত। সীমান্তের ওপারের গোষ্ঠীগুলোর সাথে যোগসূত্র থাকলে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ফজলে এলাহী আকবর নয়া দিগন্তকে বলেন, সব পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে একই চোখে দেখা যাবে না। অধিকাংশ সাধারণ মানুষ শান্তি চান। সমাধান হতে হবে সংবিধান ও শান্তিচুক্তির কাঠামোর মধ্যে, আলোচনা ও উন্নয়নের পথে।

তিনি বলেন, অস্ত্র মজুদ ও সীমান্ত অরক্ষিত থাকা একসাথে বিপজ্জনক। সীমান্ত নজরদারি জোরদার করা এবং গোয়েন্দা সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। তিনি মনে করেন, পরিস্থিতি সামলাতে বহুমুখী পদক্ষেপ দরকার। এর মধ্যে রয়েছে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সমন্বিত অভিযান, কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে আলোচনা এবং পাহাড়ে উন্নয়ন ও আস্থা পুনর্গঠন। তিনি আরো বলেন, আস্থার সঙ্কট কাটাতে না পারলে বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রচারণা আরো ডালপালা মেলবে। পাহাড়ের মানুষের কাছে শান্তি সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। তাই যেকোনো পদক্ষেপে সব জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করাই হবে রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব।

পার্বত্য চট্টগ্রামে (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) প্রধানত ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী স্থায়ীভাবে বসবাস করে। তবে কিছু কিছু সরকারি ও বেসরকারি তথ্যসূত্রে বা ঐতিহাসিক ব্যাখ্যায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা ১৩টি হিসেবেও উল্লেখ করা হয়ে থাকে। এই জাতিগোষ্ঠীগুলোর পাশাপাশি সেখানে বিশাল সংখ্যক বাঙালি জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে, যারা বর্তমানে ওই অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান ১১টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী হলো— চাকমা (পার্বত্য চট্টগ্রামের বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী), মারমা (দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী), ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা. ম্রো বা মুরং, বম, পাংখোয়া. চাক, খিয়াং, খুমি ও লুসাই। যারা সংখ্যাটি ১৩টি উল্লেখ করেন, তারা সাধারণত এর সাথে ‘রাখাইন’ এবং খুব স্বল্প সংখ্যায় বসবাসকারী ‘সাঁওতাল’ বা ‘অহমিয়া’ জনগোষ্ঠীকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেন। এই পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলো যৌথভাবে নিজেদের অনেক সময় ‘জুম্ম’ বা পাহাড়ি জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে।

২০২২ সালের জনশুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদন মতে, তিন পার্বত্য জেলা তথা খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি এবং বান্দরবান জেলার মোট জনসংখ্যা ১৮ লাখ ৪২ হাজার ৮১৫ জন। এর মধ্যে বাঙালি ৯ লাখ দুই হাজার ৫৯৮ জন (৫০.০৬ শতাংশ), এবং অবাঙালি/ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ৯ লাখ ২০ হাজার ২১৭ অর্থৎ (৪৯.৯৪ শতাংশ) জন। ২০১১ সালের জনশুমারি অনুসারে তিন পার্বত্য জেলার মোট জনসংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৯ জন। এর মধ্যে বাঙালি সাত লাখ ৬১ হাজার ৪৪৯ (৪৭.১৮ শতাংশ) জন এবং অবাঙালি/ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী আট লাখ ৫২ হাজার ৫৪০ (৫২.৮২ শতাংশ) জন। অর্থাৎ ২০১১ সালের জনশুমারির তুলনায় শতাংশের দিক থেকে বাঙালি বেড়েছে ২.৮৮ শতাংশ, অন্যদিকে একই সময়ের ব্যবধানে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবাঙালি তথা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনসংখ্যা শতাংশের দিক থেকে কমেছে ২.৮৮ শতাংশ ।

জেলাভিত্তিক জনসংখ্যা হিসেবে খাগড়াছড়ি জেলায় প্রায় ছয় লাখ ৬৮ হাজার ৯৪৪ জন, রাঙ্গামাটি জেলায় প্রায় ছয় লাখ ৫০ হাজার ৭৯ জন ও বান্দরবান জেলায় প্রায় চার লাখ ৩৬ হাজার ৯৫০ জন।