সংবিধান সংশোধন, চিফ হুইপ, জাতীয় সংসদ, অধিবেশন
জাতীয় সংসদ। ইন্টারনেট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনের মেয়াদ মাত্র ১০ দিন হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। আগামী ৯ নভেম্বর (সোমবার) থেকে অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। 

Advertisement

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির জানান, চতুর্থ অধিবেশনের মেয়াদ কতদিন হবে, তা এখনো আমরা ঠিক করিনি। আগামী ৮ নভেম্বর (রোববার) বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির সভা হবে। সভায় সিদ্ধান্ত নেব, আমরা কতদিন এই অধিবেশন চালাব। তবে সম্ভাবনা আছে আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত অধিবেশন চালানোর।
  
চতুর্থ অধিবেশনে কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, এই অধিবেশনে আমাদের পাঁচ থেকে ছয়টা বিল আসবে। এই বিলগুলোর ওপর আলোচনা হবে।
 
অন্যদিকে বিরোধী দল যদি কোনো ইস্যু নিয়ে আসে আলোচনার জন্য, সেটার ওপর আলোচনা হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। 

চিফ হুইপ বলেন, এই অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হবে। 

চতুর্থ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে কোনো বিল আসবে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না, সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে বিল আসবে না। এই বিলগুলো হবে অন্যান্য বিষয়ে।

চিফ হুইপ বলেন, ‘সংবিধানের আলোকে ৬০ দিন পরপর সংসদ বসতে হবে, সেই কারণে অধিবেশন বসবে।’
 
সংবিধান সংশোধনের বিল কবে নাগাদ আসতে পারে- এ প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি আগামী ডিসেম্বর মাসে একটা সুপারিশমালা তৈরি করতে। এই সুপারিশমালা আমরা জানুয়ারিতে সংসদ অধিবেশনে দিতে চাই, যদি বিরোধীদল এগিয়ে আসে। 

আগামী সোমবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন বসবে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো: গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এটি ২০২৬ সালের চতুর্থ অধিবেশন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ পর্যন্ত তিনটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় সংসদের তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় অধিবেশন ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়।

প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল শেষ হয়। ২৫ কার্যদিবসের ওই অধিবেশনে ৯৪টি বিল পাস হয়। 

দ্বিতীয় অধিবেশন ৭ জুন শুরু হয়ে ১৫ জুলাই শেষ হয় এবং ২৬ কার্যদিবস চলে। বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা ১৪ কার্যদিবসে মোট ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিট স্থায়ী হয়। এতে ৩১৬ জন সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন। এ অধিবেশনে ১০টি সরকারি বিল পাস হয়। 

তৃতীয় অধিবেশন ২৭ আগস্ট শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। ৯ কার্যদিবসের এ অধিবেশনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬; গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬; সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬; ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬ সহ ছয়টি বিল পাস হয়।

এ অধিবেশনে ৩৫টি সংসদীয় কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন করা হয় এবং একটি বিশেষ কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়।