
পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সাবেক প্রধান ও পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মো: মনিরুল ইসলাম এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ৮৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী এ আদেশ দেন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজির আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ পাওয়া অন্যরা হলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও মনিরুল ইসলামের স্ত্রী সায়লা ফারজানা, মনিরুলের শ্যালক রেজাউল আলম শাহীন ও শ্যালকের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পা।
এর মধ্যে মনিরুল ইসলামের ১১টি, সায়লা ফারজানার পাঁচটি, রেজাউল আলম শাহীনের ৪০টি ও সানজিদা খানম টুম্পার ২৭টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, মনিরুল ইসলাম ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ, জঙ্গিবাদের তকমা দিয়ে ‘কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ’ ও ‘শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল’ নামক এনজিওর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণপূর্বক অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা (স্ত্রী সায়লা ফারজানা, শ্যালক রেজাউল আলম শাহীন, শ্যালকের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পা) অবৈধ সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে আছেন মর্মে তথ্য পাওয়া গেছে। তারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।
আবেদনে আরো বলা হয়েছে, অনুসন্ধানকালে সংগৃহীত রেকর্ডপত্র অনুযায়ী অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে অসংখ্য ব্যাংক হিসাব পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, বর্তমানে এসব হিসাবে স্থিতির পরিমাণ সর্বমোট ১৪ কোটি ২৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। উক্ত অর্থ তারা উত্তোলন করে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে, যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭ ধারা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ ধারার অপরাধ বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে। অনুসন্ধানকালে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তার ও পরিবারের সদস্যদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট যে অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে, তা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ১০ ও ১৪ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ এর ১৮ ধারার বিধানমতে অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করা একান্ত আবশ্যক।
সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








