বাংলাদেশ-ইইউ বৈঠক, অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচার প্রতিরোধ, আরিফুল হক চৌধুরী, ম্যাগনাস ব্রুনার, দক্ষ কর্মী নিয়োগ, ইউরোপের শ্রমবাজার, বাংলাদেশ-ইইউ ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ
অবৈধ অভিবাসন রোধে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত বাংলাদেশ ও ইইউ। সংগৃহীত

বৈধ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করা, অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার রোধ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে দ্বিপক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Advertisement

সোমবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ বিষয় ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার।

সভায় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। অনিয়মিত অভিবাসন রোধ ও অভিবাসন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৫২টি রিক্রুটিং অ্যাজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশ ইইউর ‘ট্যালেন্ট পার্টনার’ হিসেবে কাজ করছে। ইউরোপের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীদের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণে তিনি ইইউর সহযোগিতা কামনা করেন।’

মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মোখতার আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ‘বাংলাদেশ-ইইউ ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’-এর আওতায় তথ্যপ্রযুক্তি, নির্মাণ, টেক্সটাইল, জাহাজ নির্মাণ, কৃষি ও হসপিটালিটি খাতে বাংলাদেশী দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে তিনি ইইউর সহযোগিতা চান।’

এছাড়া ইউরোপীয় মানদণ্ড অনুযায়ী দক্ষতা মূল্যায়ন, সনদ প্রদান, ভাষা প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল নিয়োগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ‘জাতীয় পুনর্বাসন নীতি ২০২৫’ অনুযায়ী প্রত্যাগত কর্মীদের পুনর্বাসনে ইইউর সহায়তা চাওয়া হয়।

ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বলেন, ‘অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার দমনের পাশাপাশি বৈধ পথে অভিবাসন নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’

তিনি জানান, ‘বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশী বৈধভাবে বসবাস করছেন।’

ব্রুনার আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে স্থিতিশীল সরকার ও পরিস্থিতি বিরাজ করায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং বাংলাদেশকে ‘সেইফ কান্ট্রি’ বা নিরাপদ দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।’

সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: নুরুল হক, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো: শাকিরুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত সচিব মো: সাইফুল ইসলাম, বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক, যুগ্মসচিব মো: শহিদুল ইসলাম চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইইউ প্রতিনিধিদলে কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার ছাড়াও পরিচালক হেনরিক নীলসেন, ক্যাবিনেট সদস্য গ্রিগোরিওস ডেলাভেকোরাস এবং কমিশনারের যোগাযোগ উপদেষ্টা লুকাস গাসনার উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা এবং ফার্স্ট কাউন্সেলর ও পলিটিক্যাল অফিসার কামিলা পার্টিস্কা সভায় উপস্থিত ছিলেন।