
ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি নগরীর খালগুলো পুনরুদ্ধার, দখলমুক্ত ও সৌন্দর্যবর্ধনে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
রোববার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন নন্দীপাড়া এলাকার জিরানী খাল পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা জানান।
পরিদর্শনকালে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, এমপি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯টি খালের দুই পাড়ে প্রয়োজন অনুযায়ী রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এর ফলে খালগুলোর পরিবেশগত সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি অবৈধ দখল রোধ করা সম্ভব হবে এবং নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত বিনোদন ও চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীর পয়ঃবর্জ্য সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে শোধন করে নদীতে ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একদিনেই দেশকে সিঙ্গাপুর বা অস্ট্রেলিয়া বানিয়ে দেয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি সরকার দিতে চায় না। বাস্তবতাকে সামনে রেখে ধাপে ধাপে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, নদী-খাল রক্ষা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ কাজে ঢাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত, কারিগরি ও সর্বাত্মক প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুস সালাম বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন যুক্ত হওয়া অঞ্চলগুলোতে বিদ্যুৎ, ড্রেনেজ ও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়েছে। তবে একটি সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় এসব এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য আরো বরাদ্দ প্রয়োজন।
পরিদর্শনকৃত ৩.৯০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৪ থেকে ২৫ মিটার প্রস্থের জিরানী খালটি ‘ডিএসসিসির কালুনগর, মান্ডা, জিরানী ও শ্যামপুর খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের অধীনে সংস্কার করা হচ্ছে।
৮৯৮.৬১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে (জিওবি ৭০ শতাংশ, ডিএসসিসি ৩০%) অক্টোবর ২০২২ থেকে জুন ২০২৭ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে এর বাস্তবায়নকারী সংস্থা ডিএসসিসি। ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ২১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। (খালভিত্তিক অগ্রগতি: মান্ডা খাল ৭.৮৩ শতাংশ, জিরানী খাল ৫.৬০ শতাংশ, কালুনগর খাল ৬.৩৬ শতাংশ এবং শ্যামপুর খাল ২.০৫ শতাংশ)।
প্রকল্পের প্রধান কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে- চার খালের প্রায় ২০ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার পুনঃখনন ও স্লাজ অপসারণ, সীমানা নির্ধারণ ও স্লোপ প্রটেকশন।
৩২ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল, ৩৮ দশমিক ০৬ কিলোমিটার সুরক্ষা বেষ্টনী এবং ৩২ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ।
ল্যান্ডস্কেপিং, সবুজায়ন এবং পরিবেশ দূষণ রোধে ৮টি ইটিপি নির্মাণ। সিএস রেকর্ড অনুযায়ী ১৪৯টি এবং পানি আইন ২০১৩ অনুযায়ী ১৫৯০ টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকরণ।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খালের সীমানা নির্ধারণ ও অবৈধ উচ্ছেদের জটিলতা, অচল কালভার্ট অপসারণ, সঠিক পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাব এবং প্রয়োজনীয় জমির সীমিত প্রাপ্যতাকে মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো: শহীদুল হাসান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম. শাহাবুদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








