
শাহেদ মতিউর রহমান
সময়স্বল্পতা আর ধরাবাঁধা কিছু নিয়মের কারণে বেসরকারি স্কুল তথা কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের চলতি বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সারা বছর প্রস্তুতি নেয়ার পরেও এবারের বৃত্তি পরীা থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় পড়েছে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের কয়েক লাখ শিার্থী। সম্প্রতি প্রাথমিক শিা অধিদফতরের (ডিপিই) জারিকৃত এক পত্রের আলোকে সৃষ্ট জটিলতার কারণে তাদের বৃত্তি পরীায় অংশগ্রহণ নিয়ে এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ডিপিইর উপপরিচালক (উপবৃত্তি) নিখিল চন্দ্র হালদার স্বারিত পত্রে বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিা অফিসার এবং উপজেলা/থানা শিা অফিসারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান অনুমতি, নিবন্ধন ও নিবন্ধন নবায়নসংক্রান্ত পেন্ডিং আবেদনগুলো আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ওচঊগওঝ সফটওয়্যারের ঘএচঝজ মডিউলের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। পত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক বৃত্তি পরীা নীতিমালা ২০২৬-এর ৫.৩ নম্বর শর্তানুযায়ী বৃত্তি পরীায় অংশগ্রহণের জন্য বেসরকারি বিদ্যালয়ের পাঠদানের অনুমতি বা নিবন্ধন থাকা বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন না থাকলে প্রাথমিক বৃত্তি পরীার ডিআর (উবংপৎরঢ়ঃরাব জড়ষষ) জমা নেয়া হবে না।
এ দিকে বেসরকারি শিাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা বলছেন, এত স্বল্পসময়ের মধ্যে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা কার্যত অসম্ভব। একটি স্কুলের নিবন্ধন পেতে উপজেলা থেকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত তদন্ত, জমির দলিল যাচাই, অবকাঠামো পরিদর্শনসহ দীর্ঘ প্রক্রিয়া রয়েছে। ওচঊগওঝ সফটওয়্যারে অনেক আবেদন দীর্ঘ দিন ধরে পেন্ডিং পড়ে আছে সার্ভার জটিলতা ও জনবল সঙ্কটের কারণে। কেরানীগঞ্জের একটি বেসরকারি স্কুলের প্রধান শিক বলেন, আমরা দুই বছর আগে আবেদন করেছি, এখনো পরিদর্শনই হয়নি। এখন ১০-১৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন না হলে আমার ৪২ জন মেধাবী শিার্থী বৃত্তি পরীা দিতে পারবে নাÑ এটি তাদের প্রতি অবিচার।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর হাইকোর্ট এক রায়ে সরকারি-বেসরকারি সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিার্থীদের বৃত্তি পরীায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ডিপিইর ১৭ জুলাই এর যে স্মারকে শুধু সরকারি স্কুলের শিার্থীদের সুযোগ দেয়া হয়েছিল, তা অবৈধ ঘোষণা করা হয়। অভিভাবক ও শিকদের দাবি, শিার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে নিবন্ধনের সময়সীমা অন্তত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং এবারের জন্য শর্ত শিথিল করে বিশেষ বিবেচনায় উজ জমা নেয়ার সুযোগ দেয়া হোক। অন্যথায় লাখো দরিদ্র ও প্রান্তিক শিার্থী মেধা যাচাইয়ের এই জাতীয় পরীা থেকে বঞ্চিত হবে।
ঢাকার কয়েকটি বেসরকারি প্রাথমিকের বিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, প্রাথমিক শিা অধিদফতর কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনার আলোকে পঞ্চম শ্রেণীর শিার্থীদের নিবন্ধন জমা দেয়ার সময়সীমা আগামী ১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নির্দেশনার কারণে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর বিপুলসংখ্যক শিার্থী আসন্ন বৃত্তি পরীায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। শিক্ষকদের মতে বিদ্যালয়ের নিবন্ধন একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক বিষয়, আর বৃত্তি পরীা শিার্থীদের মেধা যাচাই ও উৎসাহিত করার একটি পৃথক কার্যক্রম। ফলে বিদ্যালয়ের নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার সাথে একজন শিার্থীর বৃত্তি পরীায় অংশগ্রহণের অধিকারকে সরাসরি সম্পৃক্ত করা যৌক্তিক নয়।
অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারাও সরকারের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। তারা মনে করেন একটি বিদ্যালয়ের নিবন্ধন প্রক্রিয়া কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না হলে তার প্রভাব যেন ওই বিদ্যালয়ের শিার্থীদের ওপর না পড়ে। কারণ নিবন্ধনের বিষয়টি বিদ্যালয়কেন্দ্রিক হলেও বৃত্তি পরীাটি মূলত শিার্থীকেন্দ্রিক। একজন শিার্থী তার মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পরীায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়ার অধিকার রাখে। এ বিষয়ে শিাবিদ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ বিষয়ে প্রাথমিক শিা অধিদফতরের পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। কোনো প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে যেন একজন শিার্থী তার মেধা প্রদর্শনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মো: মিজানুর রহমান সরকার গতকাল নয়া দিগন্তকে জানান, বিদ্যালয়ের নিবন্ধন একটি প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়, আর বৃত্তি পরীা সম্পূর্ণভাবে শিার্থীর মেধা ও যোগ্যতার সাথে সম্পর্কিত। তাই বিদ্যালয়ের নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সাথে পঞ্চম শ্রেণীর শিার্থীর বৃত্তি পরীায় অংশগ্রহণের সুযোগকে কোনোভাবেই এক করে দেখা উচিত নয়। প্রশাসনিক কোনো জটিলতার কারণে যেন মেধাবী শিার্থীরা বৃত্তি পরীা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে প্রাথমিক শিা অধিদফতরের দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরি। শিার্থীদের স্বার্থে নিবন্ধনের বিষয়টি পৃথক রেখে সকল যোগ্য শিার্থীর বৃত্তি পরীায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি। দক্ষ সংগঠক ও শিক্ষাবিদ মিজানুর রহমান আরো জানান, বিদ্যালয়ের নিবন্ধন একটি প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়, আর বৃত্তি পরীা সম্পূর্ণভাবে শিার্থীর মেধা ও যোগ্যতার সাথে সম্পর্কিত। তাই বিদ্যালয়ের নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সাথে পঞ্চম শ্রেণীর শিার্থীর বৃত্তি পরীায় অংশগ্রহণের সুযোগকে কোনোভাবেই এক করে দেখা উচিত নয়। প্রশাসনিক কোনো জটিলতার কারণে যেন মেধাবী শিার্থীরা বৃত্তি পরীা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে প্রাথমিক শিা অধিদফতরের দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরি।








