
সংসদ প্রতিবেদক
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া ডিসেম্বরের মধ্যেই সংসদে নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশেষ কমিটি। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা শেষ করে ওই সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। এরপর রিপোর্টের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় থেকে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী বিল সংসদে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ আলোচনায় অনুপস্থিত রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে কিভাবে প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হবে। আর উচ্চকক্ষ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নির্বাহী ক্ষমতার ভারসাম্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য কিভাবে দূর হবে- তা এখনো বড় প্রশ্ন হয়ে আছে।
গতকাল রোববার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুতগতিতে এগোতে চাই।’ জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি। একই সাথে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর ‘সবার সম্মতির মধ্য দিয়ে’ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত গ্রহণ, প্রস্তাব যাচাই, কমিটির রিপোর্ট তৈরি, সংসদে তা উপস্থাপন এবং এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশোধনী বিল আনা- পুরো প্রক্রিয়াই দ্রুত শেষ করতে চায় সরকার। এদিকে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে বিরোধী শক্তিগুলোকেও আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় যুক্ত করার দাবি উঠেছে।
২৬ দলকে আমন্ত্রণ, আলোচনায় ১৫, একটি দলের ওয়াকআউট :
সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৭টি দল আলোচনায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৫টি দল সরাসরি বৈঠকে অংশ নেয়। একটি দল লিখিত বক্তব্য দেয় এবং অপর একটি দলের প্রতিনিধিরা অসুস্থতা ও পারিবারিক কারণে উপস্থিত হতে পারেননি।
আলোচনায় অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামী ঐক্যজোট, গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), নাগরিক ঐক্য, আমজনতার দল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণফোরাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও ভাসানী জনশক্তি পার্টি। এর মধ্যে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করে।
ডিসেম্বরেই শেষ রাজনৈতিক আলোচনা :
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ইতোমধ্যে কমিটির রিপোর্ট প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে এসব আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে কোন সংস্কার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এবং কোনগুলো আইন, অধ্যাদেশ, বিধি বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে, তা স্পষ্ট করা হয়েছে। অধিকাংশ রাজনৈতিক দল দ্রুত আলোচনা শেষ করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেয়ার পক্ষে মত দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
আলোচনা শেষে বিশেষ কমিটির রিপোর্ট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। এরপর ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে আনবে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই সনদের সব স্টেকহোল্ডারের সাথে আলোচনা এবং তাদের মতামতের ভিত্তিতেই সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হবে। তার ভাষায়, ‘আমরা জুলাই জাতীয় সনদ করেছি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করার জন্য। যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই এটি বাস্তবায়ন করব।’
স্বাক্ষর না করা দলকেও প্রস্তাব দেয়ার সুযোগ :
বিরোধী দল ও কিছু রাজনৈতিক দল আলোচনায় অংশ না নেয়ায় প্রক্রিয়াটি একপক্ষীয় হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি একপক্ষীয় নয়। তিনি বলেন, যারা জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেনি, তারাও আলোচনায় অংশ নিতে চাইলে তাদের বক্তব্য বিবেচনা করা হবে। নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত যেকোনো রাজনৈতিক দল লিখিত প্রস্তাব দিলে তা কমিটি বিবেচনা করবে।
ক্ষমতার ভারসাম্য থেকে নির্বাচনব্যবস্থা :
বিশেষ কমিটির আলোচনায় শুধু কয়েকটি অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিষয় নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো ও ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্নও সামনে এসেছে। জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক পরিবর্তনের অংশে মোট ৪৭টি পরিবর্তনের কথা উল্লেখ রয়েছে বলে প্রকাশিত নথি ও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও ভূমিকা পুনর্বিন্যাস, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠা, নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংসদীয় জবাবদিহি, নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় সরকারকে অধিক ক্ষমতা দেয়ার বিষয়।
অর্থাৎ বিশেষ কমিটির সামনে মূল প্রশ্ন শুধু কোন অনুচ্ছেদ সংশোধন হবে তা নয়; বরং রাষ্ট্রের নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য কিভাবে নির্ধারিত হবে, ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর ক্ষমতা ব্যবহারের সীমা কোথায় থাকবে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে অধিক জবাবদিহির মধ্যে আসবে- এসব বিষয়ও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
উচ্চকক্ষ নিয়ে মতপার্থক্য আসন না ভোটের অনুপাতে প্রতিনিধিত্ব :
বর্তমান এককক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদের পরিবর্তে নি¤œকক্ষ ও উচ্চকক্ষ নিয়ে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। তবে উচ্চকক্ষ কিভাবে গঠিত হবে, সদস্যরা সরাসরি নির্বাচিত হবেন নাকি অন্য কোনো পদ্ধতিতে আসবেন এবং এর ক্ষমতা কতটুকু হবে- এসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোথাও সংসদে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে, আবার কোথাও ভোটের অনুপাতে প্রতিনিধিত্বের কথা এসেছে।
তিনি জানান, বিএনপির অবস্থান হলো উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা হবে ১০০ জন এবং এর গঠনপদ্ধতি নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহারে অবস্থান জানানো হয়েছে। উচ্চকক্ষ সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হলে সংবিধান সংশোধনের মতো বিষয় নি¤œকক্ষের এখতিয়ারে রাখার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা : নির্বাহী ক্ষমতার কাঠামো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব
নির্বাহী ক্ষমতার কাঠামো সংস্কারও বিশেষ কমিটির আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা ও ক্ষমতা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা একটি কেন্দ্রে অতিরিক্তভাবে কেন্দ্রীভূত না রেখে নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির বিষয়টি সংস্কার আলোচনার সাথে যুক্ত হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সীমা, রাষ্ট্রপতির ভূমিকা এবং সংসদের কার্যকর নজরদারির কাঠামো নিয়ে আগামী আলোচনাগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন :
নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা সংস্কার বিশেষ কমিটির আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার কাঠামো, মেয়াদ, দায়িত্বের সীমা এবং নির্বাচন কমিশনের সাথে এর সাংবিধানিক সম্পর্ক নিয়ে প্রস্তাব রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও কমিশনের নিয়োগ, আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা, নির্বাচন পরিচালনা এবং নির্বাচনকালীন প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক নির্ধারণের বিষয় সামনে এসেছে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, জুলাই সনদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে সবাই একমত হলেও এর জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জবাবদিহিতার বিধান সংবিধানে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নির্বাহী প্রভাবমুক্ত বিচারব্যবস্থার দাবি :
বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে বিচারক নিয়োগ, প্রশাসনিক কাঠামো, সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক স্বাধীনতা এবং নির্বাহী বিভাগের প্রভাব থেকে বিচারব্যবস্থাকে দূরে রাখার বিষয়গুলো আলোচনায় রয়েছে।
সাইফুল হক বলেন, স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে একটি বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সাথে নির্বাহী বিভাগ, সংসদ ও বিচার বিভাগের মধ্যে যৌক্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্থায়ী কমিটির ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব
সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর ক্ষমতা বাড়ানো, সরকারের ওপর সংসদীয় নজরদারি কার্যকর করা এবং সংসদ সদস্যদের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। বর্তমান মূলনীতির সাথে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়গুলো যুক্ত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে জানান সাইফুল হক।
এ ছাড়া মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, স্থানীয় সরকারকে অধিক ক্ষমতা ও আর্থিক সক্ষমতা দেয়া এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ও বৃহত্তর সংস্কার আলোচনায় রয়েছে।
বিরোধীদের বাদ দিয়ে বিল চায় না গণ অধিকার পরিষদ :
বৈঠক শেষে গণ অধিকার পরিষদের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহসভাপতি ফারুক হাসান বলেন, জুলাই সনদ কিভাবে ও কোন প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে কমিটি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রস্তাবনা চেয়েছে। তাদের পক্ষ থেকেও বেশ কিছু প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি দলের বক্তব্য হলো জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। বিরোধী দলগুলোর বক্তব্য হলো তারা জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চায়। দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে মূলত একটি ‘শব্দগত দূরত্ব’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই দূরত্ব কমিয়ে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে সরকারের উদ্যোগ চেয়ে ফারুক হাসান বলেন, বিরোধী দলগুলোকে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক যেকোনো উপায়ে আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।
‘বিরোধী দলগুলোকে বাদ দিয়ে সংবিধান-সংক্রান্ত কোনো বিল সংসদে আসুক, আমরা তা চাই না’- বলেন তিনি।
সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি :
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, গণভোটের রায়ের পর সংসদকে ১৮০ দিনের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করানোর সুযোগ ছিল। তার মতে, ওই উদ্যোগ নেয়া হলে বর্তমান সংবিধান সংশোধনের কাজ একই কাঠামোর মধ্যে করা যেত। তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কাজ শেষ করা প্রয়োজন। সরকার ও কমিটিকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সাথে আলোচনা করে উপস্থাপনা তৈরি করতে হবে। এরপর কমিটির রিপোর্ট আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে এবং পরবর্তীতে বিল আকারে অষ্টাদশ সংশোধনী হিসেবে সংসদে উপস্থাপন করা যেতে পারে।
ভবিষ্যতে সংবিধান পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। ‘আমরা চাই সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি সবার সম্মতির মধ্য দিয়ে হোক’- বলেন তিনি। ভবিষ্যতে সরকার পরিবর্তনের পর কোনো রাজনৈতিক দল বর্তমান সরকারের দেয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা অবস্থানের সাথে ভিন্নমত পোষণ করলে সংস্কার পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে কোনো দল সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে সংবিধানের বিধান পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে পারে।







