হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক-আইনগত উদ্যোগ অব্যাহত
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অতিথিরা : নয়া দিগন্ত

সংসদ প্রতিবেদক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনগত উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে সরকারের এ অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
একই বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যপূর্ণ রাখার পাশাপাশি প্রতিটি দেশের সাথে অংশীদারত্ব বজায় রেখে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। বৈঠকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বলা হয়, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনগত উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে।
এ দিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যপূর্ণ রাখার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয় বৈঠকে। বলা হয়, প্রতিটি দেশের সাথে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব থাকবে; তবে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে গুরুত্বারোপ করেছেন বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, বিগত সময়ে বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় গুরুতর পদ্ধতিগত দুর্বলতা ছিল। যথাযথ যাচাই-বাছাই না করার ফলে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা বর্তমানে মোকাবেলা করতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রবাসী কর্মীদের তথ্য ও নথিপত্রের যথাযথ সত্যায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। একই সাথে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রক্রিয়ায় উপযুক্ত ও যাচাই করা রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়ার সুপারিশ করা হয়।
নিরাপদ অভিবাসন ও প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ সুরায় প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মাইগ্রেশন উইং চালু করা হয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়। পাশাপাশি দালাল ও অননুমোদিত মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতারণা থেকে সম্ভাব্য অভিবাসীদের সুরায় তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। বৈঠকে ‘সামাজিক সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান’ করা এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদপে গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
একই সাথে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে কমিটি আগামী অক্টোবর মাসে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, মো: আমানউল্লাহ আমান এমপি, এস কে আজিজুল বারী এমপি, এ বি এম মোশাররফ হোসেন এমপি ও সানজিদা ইসলাম এমপি অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।