
নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ জুমার নামাজ আদায় করার নাম করে শুক্রবার গুলশানে মিছিল করেছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল, তবে পুলিশ বুঝে উঠতে পারেনি। এ বিষয়ে কারো কোন গাফিলতি ছিল কী না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সম্মেলন কক্ষে ঢাকার যানজট নিরসন ও সেবামূলক কাজে সমন্বয়ের লক্ষে আয়োজিত বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
শুক্রবার গুলশানে আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মিছিলে গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতা ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মাঝে মধ্যে অপতৎপরতা চালায়। তারা বিভিন্ন স্থানে ফজরের নামাজের পর মিছিল করে। শুক্রবারে মিছিলের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল, তবে পুলিশ আন্দাজ করতে পারেনি ওই সময়েই সেখানে কেউ মিছিল করতে পারে। এটাকে ব্যর্থতা বলা যাবে না। সরকার পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে দেশের মানুষ সুবিচার পেয়েছে। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সড়কসংলগ্ন মূল ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে বিস্ফোরণকারী দু’জনকে চিহ্নিত করা গেছে। তারা আওয়ামী লীগের দুষ্কৃতকারী কেউ হতে পারেন। সরকার এ বিষয়ে তদন্ত করছে।
মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রায়ের পর এই প্রতিক্রিয়া এসেছে। সাতজনের ফাঁসির রায়ের প্রতিক্রিয়ায় একটা ককটেল ফুটেছে। এটা বড় কোনো বিষয় নয়।
রায়ের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যে রায় ঘোষণা করেছেন, তাতে সুবিচার পেয়েছি বলে আমরা মনে করি। আদালতের রায়ের ওপরে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দুই ধরনের তথ্যের বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন সোমবার একটি সম্ভাব্য সময় দিয়েছে। পরিকল্পনার কথা বলেছে। এটাকে গণমাধ্যমে অন্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বলেছে এটা সম্ভাব্য পরিকল্পনা, চূড়ান্ত কিছু নয়। ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা হবে। সেখানে সংশ্লিষ্ট সবার সাথে বসে নির্বাচনের সময় ঠিক করা হবে। সে পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে বলে জানান মন্ত্রী।
বৈঠকে ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীতে চলমান ও গৃহীতব্য মেগা প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজের কারণে উদ্ভূত যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও অংশীজনদের সমন্বয়ে ১৫ দিন পর পর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে।
মন্ত্রী বলেন, ঢাকা সিটি ও এর আশপাশের সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ যাতে সমন্বিতভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কর্তৃপক্ষের সাথে এই সমন্বয় সভা করা হয়েছে। এক সংস্থা কাজ শেষ করার পরপরই আরেক সংস্থা একই স্থানে যাতে পুনরায় খোঁড়াখুঁড়ি না করে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য নগরবাসীকে স্বস্তি দেয়া, ভোগান্তি কমানো এবং জনস্বার্থে সময় ও অর্থের অপচয় রোধ করা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির প্রবণতা প্রকট আকার ধারণ করে। আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে একই সময়ে ইউটিলিটি শিফটিং বা অন্যান্য নির্মাণকাজ যাতে একসাথে সম্পন্ন করা যায়, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, চলমান এমআরটি, সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক বিভাগ, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা ও ডেসাসহ অন্যান্য সংস্থার মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ তদারকির জন্য ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। সার্বিক কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য প্রতি ১৫ দিন পর পর এই সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তা পর্যায়ে সাব-কমিটির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হবে।
মন্ত্রী এলন, নগরীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলায় আনতে এবং যানজট নিরসনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (অও)-ভিত্তিক আধুনিক ট্রাফিক সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এর ফলে যান চলাচলে দৃশ্যমান শৃঙ্খলা আসছে এবং নগরবাসী এর সুফল পাচ্ছেন। পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগের সাথে সমন্বয় করে ইউটিলিটি শিফটিংয়ের কাজ পরিচালনা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলকে চিহ্নিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মূল সড়কে থ্রি-হুইলার বা ছোট যানবাহন চলাচল শৃঙ্খলাবহির্ভূত। তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে একটি নীতিমালার মধ্যে আনার প্রক্রিয়া চলছে, তবে আকস্মিকভাবে কাউকে পুরোপুরি বেকার না করে পর্যায়ক্রমে ডিসিপ্লিনে আনা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন পিলারের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে যেসব চার্জিং পয়েন্ট গড়ে উঠেছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে সরকার ইতোমধ্যে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে এবং অসংখ্য অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।







