
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের কৌশলগত রুট হরমুজ প্রণালীতে সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠায় বাণিজ্যিক পণ্য ও তেলবাহী জাহাজের চলাচল আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। সি শিপমেন্ট ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্যানুযায়ী, যেখানে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১২০টি জাহাজ এই সমুদ্রপথ অতিক্রম করত, সেখানে গত সোমবার মাত্র চারটি জাহাজ চলাচল করতে সক্ষম হয়েছে। খবর আলজাজিরা ও মেহের নিউজের। এর আগের দিনও এই সংখ্যা ছিল মাত্র ১০টি। এরই মধ্যে ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাই স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরানের সুনির্দিষ্ট শর্তগুলো বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন সঙ্কেতে কান দেয়া কিংবা আলোচনায় বসার সুযোগ নেই। জলসীমার এই অচলাবস্থায় বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম দুই শতাংশেরও বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই তেলের দামও ১০৩ ডলার অতিক্রম করেছে, যার ফলে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারে খুচরা ডিজেলের মূল্য এখন রেকর্ড পর্যায়ে।
জলসীমার পূর্বাঞ্চলীয় আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের আরো একটি ‘এমকিউ-১’ ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত হেনে ভূপাতিত করার দাবি জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। দেশটির গণমাধ্যম মেহর নিউজ জানায়, সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীর তৈরি মোট চারটি এমকিউ-১ নজরদারি ড্রোন ধ্বংস করল তেহরান। ইরান যুদ্ধে ব্যাপক ব্যবহৃত গোলাবারুদের কারণে আমেরিকার সামরিক শক্তিতে বড় ধরনের ‘কৌশলগত ঘাটতি’ তৈরি হওয়া সংক্রান্ত পেন্টাগনের মহাপরিদর্শকের প্রতিবেদনের পর বেইজিং সংঘাতের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমাধানের তাগিদ দিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন জানান, বেইজিং গোটা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যুদ্ধ থামিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানাচ্ছে। মার্কিন মহাপরিদর্শকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সলিড রকেট মোটর, উচ্চমানের বিস্ফোরক এবং প্রপেল্যান্ট বা রকেট জ্বালানির জোগানের ঘাটতির কারণে মার্কিন অস্ত্র উৎপাদন খাত কঠিন বাধার মুখে পড়েছে, যা কাটাতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন।
এই যুদ্ধ ও বৈশ্বিক উত্তেজনার আবহেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক দিনের সংক্ষিপ্ত সফরে আজ চীন পৌঁছাচ্ছেন। সফরকালে তিনি চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সাথে চলমান আমেরিকা-ইসরাইল সঙ্ঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন মার্কিন সফরের প্রাক্কালে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যকার এই দ্বিতীয় মুখোমুখি আলোচনা কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে লোহিত সাগরে মুক্ত নৌ চলাচল বহাল রাখার ইস্যুতে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ও সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান গতকাল দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাব আল-মানদেব প্রণালীর নিরাপত্তার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। বৈঠকে সিসি সৌদি আরবের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি পূর্ণ সংহতি জানানোর পাশাপাশি ইয়েমেন সঙ্কটের একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অন্য এক অনুষ্ঠানে তেহরানে সেনাসদর দফতরে আইআরজিসি মুখপাত্রের সাথে যৌথ সমন্বয় সভায় ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া দাবি করেছেন, বিপুল প্রযুক্তিসমৃদ্ধ দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে আঘাত করে ইরান নজির স্থাপন করেছে, যা বিশ্বের আর কোনো দেশ করার সাহস দেখায়নি। সভায় আইআরজিসি মুখপাত্র মোহেব্বি চলমান সঙ্ঘাতকে ‘দ্বিতীয় ও তৃতীয় পবিত্র প্রতিরক্ষা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, শত্রুপক্ষ ইরানিদের মধ্যে যে বিভেদ তৈরি করতে চেয়েছিল, যৌথ সামরিক ও সামাজিক ঐক্য তা নস্যাৎ করে দিয়েছে।







