গ্রামের আমানত ঋণ যাচ্ছে কোথায়

 বিশেষ সংবাদদাতা


 এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ৫১ হাজার কোটি টাকার আমানত, ঋণ মাত্র ১২ হাজার কোটি
 ৮৫.৫ শতাংশ আউটলেট গ্রামে, অথচ ব্যাংক ঋণের মাত্র ০.৭ শতাংশ
 গ্রামে রেমিট্যান্স শহরের ১২.৯ গুণ

ব্যাংকের শাখা নেই; কিন্তু ব্যাংকিং আছে। শহরের বাইরে প্রত্যন্ত গ্রামেও এখন সঞ্চয়, টাকা তোলা, রেমিট্যান্স গ্রহণ ও অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হয়েছে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। এক দশকের কিছু বেশি সময়ে এই বিকল্প ব্যাংকিং চ্যানেল দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অন্যতম বড় অবকাঠামোতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানেই উঠে এসেছে এর বড় একটি বৈপরীত্য- গ্রাম থেকে আমানত সংগ্রহে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সাফল্য যতটা, সেই অর্থ ঋণ হিসেবে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে কার্যক্রম ততটা শক্তিশালী নয়।
জুন ২০২৬ শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেশে আমানত জমেছে ৫১ হাজার ১৪৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকার আমানতই ৪২ হাজার ৬৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। অথচ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোট ঋণ স্থিতি মাত্র ১২ হাজার ৩৭৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা। অর্থাৎ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে যত আমানত রয়েছে, তার বিপরীতে ঋণ স্থিতি মাত্র প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এপ্রিল-জুন ২০২৬ এজেন্ট ব্যাংকিং পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তার সাম্প্রতিক প্রকাশনাগুলোর মধ্যে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। 
২০ হাজার ৫৯৭ আউটলেট, ৮৫.৫ শতাংশ গ্রামে
জুন শেষে দেশের ৬২টি তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে ৩০টি এজেন্ট  ব্যাংকিং পরিচালনা করছে। এসব ব্যাংকের অধীনে ১৫ হাজার ৪২৩ জন এজেন্ট এবং ২০ হাজার ৫৯৭টি সক্রিয় আউটলেট রয়েছে। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় ১৭ হাজার ৬০৩টি এবং শহরে দুই হাজার ৯৯৪টি আউটলেট। অর্থাৎ মোট আউটলেটের ৮৫.৫ শতাংশ গ্রামে। গ্রাম ও শহরের আউটলেটের অনুপাত ৫.৯:১- বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগতভাবে নির্ধারিত ৩:১ অনুপাতের চেয়েও বেশি। ফলে ব্যাংক শাখার প্রচলিত কাঠামোর বাইরে গ্রামে আর্থিক সেবা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের বিস্তার যে ব্যাপক, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
দেশের প্রচলিত ব্যাংক শাখার তুলনায়ও এর ভৌগোলিক সুবিধা স্পষ্ট। জুন শেষে দেশে ১১ হাজার ৫৫২টি ব্যাংক শাখা ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে একটি শাখার বিপরীতে গড়ে প্রায় ১৫ হাজার ১৩২ জন মানুষ থাকলেও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের একটি আউটলেট গড়ে প্রায় আট হাজার ৪৮৭ জন মানুষের সেবা দেয়ার অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু শুধু আউটলেট বাড়লেই আর্থিক অন্তর্ভুক্তি পূর্ণ হয় না। প্রশ্ন হলো- এসব আউটলেটে মানুষ সঞ্চয় করছে কত, ঋণ পাচ্ছে কত এবং সেই অর্থ উৎপাদনশীল খাতে কতটা যাচ্ছে?
দুই কোটি ৭২ লাখ আমানত হিসাব
জুন ২০২৬ শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে মোট আমানত হিসাব দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৭২ লাখ ২৪ হাজার ৩২২টি। এর মধ্যে গ্রামে দুই কোটি ৩০ লাখ ১৪ হাজার ১৭৭টি এবং শহরে ৪২ লাখ ১০ হাজার ১৪৫টি। এক বছরের ব্যবধানে আমানত হিসাব বেড়েছে ১১.৫ শতাংশ। শহরে বৃদ্ধির হার ১৫.২ শতাংশ এবং গ্রামে ১০.৯ শতাংশ। মার্চের তুলনায় তিন মাসে মোট হিসাব বেড়েছে ২.৯ শতাংশ। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আমানত হিসাব পুরো ব্যাংকিং খাতের প্রায় ১৪.৬ শতাংশ। কিন্তু আমানতের অর্থমূল্যে এর অংশ মাত্র ২.৩ শতাংশ। 
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। বিপুলসংখ্যক মানুষ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে হিসাব খুললেও তাদের হিসাবের গড় জমা তুলনামূলক কম। অর্থাৎ এজেন্ট ব্যাংকিং এখনো প্রধানত ক্ষুদ্র সঞ্চয়, লেনদেন ও প্রাথমিক ব্যাংকিং সেবার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বেশি কাজ করছে। অন্যদিকে জুন ২০২৬ শেষে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট আমানত ছিল প্রায় ২০.৮ লাখ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট ঋণও ছিল এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ঋণের তুলনায় বহুগুণ বেশি। 
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ঋণে
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মূল দুর্বলতা এখানেই। জুন শেষে এ ব্যবস্থায় ঋণ হিসাব ছিল দুই লাখ ৩৮ হাজার ১৩৮টি। এর মধ্যে গ্রামীণ ঋণ হিসাব এক লাখ ৮১ হাজার ৪৯৯টি। এক বছরে মোট ঋণ হিসাব বেড়েছে ৩.৮ শতাংশ। কিন্তু মার্চের তুলনায় তিন মাসে ঋণ হিসাব বরং কমেছে ০.৯ শতাংশ। অন্যদিকে ঋণের স্থিতি এক বছরে বেড়েছে ১৬.৬ শতাংশ, ১০ হাজার ৬১১ কোটি ১৩ লাখ টাকা থেকে ১২ হাজার ৩৭৪ কোটি ৪১ লাখ টাকায়। গ্রামীণ ঋণ স্থিতি বেড়েছে ১৭.৭ শতাংশ।
দেখা যাচ্ছে, ঋণের সংখ্যা খুব দ্রুত বাড়ছে না; বরং বিদ্যমান ঋণের গড় আকার বাড়ছে। আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- পুরো ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণ স্থিতির মাত্র ০.৭ শতাংশ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গেছে। মোট ঋণ হিসাবেও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের অংশ মাত্র ১.৪ শতাংশ। অর্থাৎ গ্রামে ব্যাংকিং হিসাবের দরজা খুলেছে; কিন্তু ঋণের দরজা এখনো ততটা খুলেনি।
আমানত-ঋণে বড় ফাঁক
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রামীণ আমানত ৪২ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। গ্রামীণ ঋণ স্থিতি সাত হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা। সরল তুলনায় দেখা যায়, গ্রামীণ অঞ্চলে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আমানতের তুলনায় ঋণ স্থিতি মাত্র প্রায় ১৮.৬ শতাংশ। অবশ্য আমানত ও ঋণ স্থিতির সরাসরি অনুপাত দিয়ে ব্যাংকের সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক কার্যক্রম বিচার করা যায় না- কারণ ব্যাংকের তহবিল বিভিন্ন চ্যানেলে ব্যবহৃত হয়। তবু এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের উদ্দেশ্য যদি প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির সাথে যুক্ত করা হয়, তাহলে স্থানীয় আমানত সংগ্রহের সাথে স্থানীয় উৎপাদনশীল ঋণের সংযোগ কতটা তৈরি হয়েছে- এ প্রশ্নটি নীতিনির্ধারকদের সামনে আসা জরুরি।
বিশেষ করে কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কুটির ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং নারী উদ্যোক্তাদের কাছে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ কতটা পৌঁছাচ্ছে- এ বিষয়ে আরো স্বচ্ছ তথ্য প্রয়োজন।
তিন মাসে এক লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকার লেনদেন
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শক্তিশালী দিক হলো লেনদেন। এপ্রিল-জুন ২০২৬ সময়ে আউটলেটগুলোর মাধ্যমে দুই কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার ৩৮৯টি লেনদেন হয়েছে। মোট অর্থমূল্য এক লাখ ৪৬ হাজার ১৮৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় লেনদেন হয়েছে দুই কোটি আট লাখ ৮৪ হাজার ২৭১টি- মোটের প্রায় ৮০ শতাংশ। গ্রামীণ লেনদেনের অর্থমূল্য ছিল এক লাখ ২০ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে লেনদেনের সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ১.৩ শতাংশ; কিন্তু অর্থমূল্য বেড়েছে ৭.১ শতাংশ। অর্থাৎ লেনদেনের সংখ্যা স্থিতিশীল থাকলেও প্রতিটি লেনদেনের গড় মূল্য বাড়ছে। মার্চের তুলনায়ও তিন মাসে লেনদেনের অর্থমূল্য বেড়েছে ২.৫ শতাংশ।
রেমিট্যান্সে গ্রামের শক্তি
প্রবাসী আয় বিতরণে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এপ্রিল-জুন তিন মাসে দেশে মোট শ্রমিক রেমিট্যান্স এসেছে এক লাখ ১৫ হাজার ২২৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এসেছে পাঁচ হাজার ৯১৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, অর্থাৎ মোট রেমিট্যান্সের ৫.১ শতাংশ।
কিন্তু এখানেও সবচেয়ে বড় ভূমিকা গ্রামাঞ্চলের। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রামে এসেছে পাঁচ হাজার ৪৯২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, শহরে মাত্র ৪২৭ কোটি ৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রামে আসা রেমিট্যান্স শহরের তুলনায় ১২.৯ গুণ বেশি।
এটি বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের প্রকৃত গুরুত্বের একটি শক্তিশালী সূচক। প্রবাসী শ্রমিকের পরিবারকে শহরের ব্যাংক শাখায় যেতে হচ্ছে না; স্থানীয় এজেন্টের কাছ থেকেই অর্থ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়- এই রেমিট্যান্সের কত অংশ সঞ্চয়ে যাচ্ছে, কত অংশ ভোগে ব্যয় হচ্ছে এবং কত অংশ কৃষি, ব্যবসা বা ক্ষুদ্র বিনিয়োগে যাচ্ছে?
নারী এজেন্টে লক্ষ্য ৫০ শতাংশ, বাস্তবতা ১১.৫ শতাংশ
নারীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের একটি বৈপরীত্য রয়েছে। জুন ২০২৬ শেষে নারী-মালিকানাধীন এজেন্টের সংখ্যা এক হাজার ৭৭৫টি। এক বছরে এই সংখ্যা বেড়েছে ২৩.৮ শতাংশ। গ্রামীণ নারী এজেন্ট বেড়েছে ২৬.১ শতাংশ। কিন্তু মোট ১৫ হাজার ৪২৩ এজেন্টের মধ্যে নারী-মালিকানাধীন এজেন্ট মাত্র ১১.৫ শতাংশ।
অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ মে ২০২৫-এর নির্দেশনায় নারী-মালিকানাধীন এজেন্টের অংশ ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত লক্ষ্যের এক-চতুর্থাংশেরও কম পর্যায়ে রয়েছে বাস্তবতা।
অন্যদিকে গ্রাহক পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ অনেক বেশি। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট আমানত হিসাবের ৪৮.৬ শতাংশ নারীর নামে। এক বছরে নারী আমানত হিসাব বেড়েছে ১২.৮ শতাংশ এবং নারী ঋণ হিসাব বেড়েছে ৬.১ শতাংশ। অর্থাৎ নারী গ্রাহক তৈরি হচ্ছে; কিন্তু নারী উদ্যোক্তা-এজেন্ট তৈরি হচ্ছে ধীরগতিতে।
এখানে নীতিগতভাবে বড় সুযোগ রয়েছে। নারী এজেন্ট বাড়ানো গেলে শুধু নারী গ্রাহকের ব্যাংকিং প্রবেশাধিকারই বাড়বে না; স্থানীয় পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসার একটি নতুন নেটওয়ার্কও তৈরি হতে পারে।
ব্যাংকভেদে বিস্তারে বড় বৈষম্য
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের বিস্তার সমান নয়। কয়েকটি ব্যাংক এই ব্যবস্থায় বড় নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, আবার অনেক ব্যাংকের উপস্থিতি অত্যন্ত সীমিত। ব্যাংক এশিয়া, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের এজেন্ট ও আউটলেট নেটওয়ার্ক তুলনামূলকভাবে বড়।
লেনদেনেও একই চিত্র। এপ্রিল-জুনে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং লেনদেন ছিল এক কোটি সাত লাখের বেশি, অর্থমূল্য প্রায় ৪৪ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের লেনদেন ছিল প্রায় ৮৪ লাখ ৫১ হাজার, অর্থমূল্য প্রায় ৬২ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা।
অর্থাৎ পুরো খাতের লেনদেনের বড় অংশ কয়েকটি ব্যাংকের হাতে কেন্দ্রীভূত। এতে আরেকটি প্রশ্ন সামনে আসে- এজেন্ট ব্যাংকিং কি সত্যিই একটি প্রতিযোগিতামূলক আর্থিক অন্তর্ভুক্তি প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠছে, নাকি কিছু বড় ব্যাংকের শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কেই এর প্রবৃদ্ধি সীমাবদ্ধ?
‘ব্যাংকিং অ্যাক্সেস’ থেকে ‘উৎপাদনশীল অর্থায়ন’
২০১৩ সালে বাংলাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিং চালু হওয়ার পর এর প্রধান সাফল্য হলো ব্যাংকের ভৌগোলিক সীমা ভেঙে দেয়া। ব্যাংক এশিয়ার মুন্সীগঞ্জের জয়েনশার আউটলেট দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা এখন ২০ হাজারের বেশি আউটলেটে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকও এজেন্ট ব্যাংকিংকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেল হিসেবে বিবেচনা করছে এবং ২০২০ সালে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য পৃথক পরিসংখ্যান বিভাগ গঠন করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিতভাবে আউটলেট, আমানত, ঋণ, লেনদেন, রেমিট্যান্স ও নারী অংশগ্রহণের তথ্য প্রকাশ করছে। 
কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ শুধু আরো আউটলেট খোলা নয়। গ্রাম থেকে টাকা ব্যাংকে নেয়ার পাশাপাশি সেই টাকা আবার গ্রামে বিনিয়োগ হিসেবে ফেরত দিতে হবে।
কৃষি, সিএমএসএমই, নারী উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সাথে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ঋণপ্রবাহকে যুক্ত করা গেলে এটি কেবল ব্যাংকিং সুবিধার বিকল্প চ্যানেল থাকবে না; হয়ে উঠতে পারে গ্রামীণ অর্থনীতির উৎপাদনশীল অর্থায়নের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
বর্তমান পরিসংখ্যান তাই এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সাফল্যের পাশাপাশি একটি অসম্পূর্ণতারও বার্তা দিচ্ছে- মানুষকে ব্যাংকের দরজায় পৌঁছে দেয়া গেছে; এখন ব্যাংকের অর্থকে মানুষের উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডের দরজায় পৌঁছানো কতটা সম্ভব হয়, সেটিই হবে পরবর্তী পরীক্ষার বিষয়।