
গাজায় মৌসুমের প্রথম শীতকালীন ঝড়ের সাথে ভারী বৃষ্টি নেমে এসেছে। এতে উপত্যকাজুড়ে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি পরিবারের তাঁবু পানিতে ডুবে গেছে। তীব্র ঠান্ডার মধ্যে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে বহু পরিবার। শনিবার ভোরে বৃষ্টি শুরুর পর মাত্র ১০ ঘণ্টায় প্রায় ১ হাজার ৫০০টি জরুরি সহায়তার ফোন পেয়েছে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ। কয়েকটি আশ্রয়শিবিরে পানির উচ্চতা ৩০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়েছে।
গাজায় ইসরাইলের অব্যাহত অবরোধের মধ্যে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানায় আল জাজিরা শনিবার (৭ নভেম্বর)। বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, ‘আমরা যা আশঙ্কা করেছিলাম, শেষ পর্যন্ত সেটিই ঘটেছে। কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র পুরোপুরি পানিতে ডুবে গেছে। সেখানে থাকা সবাই এখন অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে বাইরে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।’ অপরিণত বয়সে জন্ম নেয়া শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, তাঁবুতে বসবাসকারীরা যেকোনো মুহূর্তে মৃত্যু কিংবা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলের যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনও ধসে পড়েছে। মধ্য গাজার নুসেইরাতে আংশিক ধসে পড়া একটি ভবন থেকে বাসিন্দাদের উদ্ধার করা হয়েছে। উত্তর গাজায় আরেকটি ভবনের দেয়াল ধসে দুজন আহত হয়েছেন। গাজা সিটি, খান ইউনিস ও দেইর আল-বালাহর বিভিন্ন শিবিরে হাঁটুপানিতে পরিবারগুলোকে চলাচল করতে দেখা গেছে। ভিজে গেছে বিছানা ও কম্বল। কাদা ও নোংরা পানিতে খালি পায়ে দাঁড়িয়ে আছে শিশুরা।
গাজা সিটির একটি শিবির থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক নুর খালেদ বলেন, ‘বৃষ্টির হাত থেকে ঘরবাড়িও রক্ষা পাচ্ছে না, সেখানে খোলা জায়গায় প্লাস্টিকের চাদর দিয়ে বানানো তাঁবু কীভাবে টিকবে?’ এদিকে দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি উপকূলীয় এলাকায় ৯ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে সেখানে বৃষ্টি হচ্ছে। উপকূলজুড়ে বসবাসকারী ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি পরিবারের তাঁবু সমুদ্রে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গাজার জরুরি কমিটি জানিয়েছে, শীতের ঝুঁকিতে রয়েছেন ১০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ। তাঁদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ২ লাখ তাঁবু ও শীত নিবারণের সরঞ্জাম প্রয়োজন। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের পরিচালক রায়েদ আল-দাহশান বলেন, বন্যাকবলিত মানুষের কাছে পৌঁছেও তাঁরা তেমন কিছু করতে পারছেন না। ‘আমাদের কাছে একটি ত্রিপল বা একটি তাঁবু পর্যন্ত নেই। আমরা শুধু মানুষের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করি। কিন্তু সেটুকুও যথেষ্ট নয়।’
ত্রাণ সংস্থাগুলো আশ্রয় উপকরণ আনার ব্যাপারে ইসরাইলের বিধিনিষেধকে এ সঙ্কটের জন্য দায়ী করছে। ফিলিস্তিনি এনজিও নেটওয়ার্কের পরিচালক মোহাম্মদ সালহা জানান, যুদ্ধবিরতির মানবিক সমঝোতা অনুযায়ী প্রতিদিন ৬০০টি ট্রাক গাজায় ঢোকার কথা থাকলেও ঢুকছে মাত্র ১৮০ থেকে ২০০টি। এর মধ্যে মানবিক সহায়তা বহন করে প্রায় ৪০টি ট্রাক। মিসর সীমান্তের ওপারে ৫০ হাজার তাঁবু আটকে আছে বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, ‘তাঁবু ডুবে যাওয়ার পর আমরা ব্যবস্থা নিতে চাই না। বিপর্যয় ঘটার আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’ আরো সরঞ্জাম আসতে দেয়ার জন্য ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপকেও তিনি ‘দুর্বল’ বলে অভিহিত করেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








