
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে দেশটির বিরোধী দলের এক নেতার সাথে গোপন বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। বৈঠকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তেজনা, দখলদারদের সহিংসতা ও গাজার পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইসরাইলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম বৃহস্পতিবার এ খবর জানিয়েছে।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জানায়, চলতি মাসের ২৭ তারিখের নির্বাচনের আগে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিরোধী দল ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকটের সাথে বৈঠক করেন হাকাবি। এটি ছিল তাঁদের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র বৈঠক। তবে কোথায় বা ঠিক কবে বৈঠকটি হয়েছে, তা জানায়নি সম্প্রচারমাধ্যমটি।
...এটি ছিল তাঁদের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র বৈঠক। তবে কোথায় বা ঠিক কবে বৈঠকটি হয়েছে, তা জানায়নি সম্প্রচারমাধ্যমটি।'''
বৈঠক সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সম্প্রচারমাধ্যমটি জানায়, আলোচনায় অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তেজনা, দখলদারদের সহিংসতা এবং গাজা উপত্যকার পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ইস্যু উঠে আসে।
বৈঠকের বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বা আইজেনকটের দফতর আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। ইয়াশার পার্টিও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
নেতানিয়াহুর সাথে বৈঠক বাতিল
এদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে হাকাবির আরেকটি বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সম্প্রচারমাধ্যমটি।
বৈঠক সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের দাবি, নেতানিয়াহু নিজেই বৈঠকটি বাতিল করেছেন। তবে কেন তা বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। বৈঠকের নতুন তারিখও নির্ধারণ করা হয়নি।
একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়া এবং অন্যটি বাতিলের খবর এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা চলছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে নিজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা দীর্ঘদিন ধরেই প্রচার করে আসছেন নেতানিয়াহু। ট্রাম্পও বিভিন্ন সময়ে তাঁর প্রশংসা করেছেন। তবে আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকট,কারো পক্ষেই সমর্থন ঘোষণা করেননি তিনি।
ঐতিহ্যগতভাবে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপ এড়িয়ে চলে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ ক্ষেত্রে সেই রীতি ভেঙেছেন ট্রাম্প।
জরিপে এগিয়ে বিরোধীরা
সোমবার ইসরাইলের চ্যানেল ১২ প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন শিবিরের চেয়ে বিরোধী জোট এগিয়ে রয়েছে। ১২০ আসনের নেসেটে বিরোধীরা ৬৭টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন জোট পেতে পারে ৪৯টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন।
জরিপে আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি ২৩টি আসন পেয়ে সবার ওপরে রয়েছে। নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি পেতে পারে ২০টি আসন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে বেশি উপযুক্ত মনে করেন—এমন প্রশ্নে ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা আইজেনকটের পক্ষে মত দিয়েছেন। নেতানিয়াহুকে সমর্থন করেছেন ৩৫ শতাংশ।
২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে বর্তমান সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নেতানিয়াহু। তাঁর জোটকে ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থী সরকার হিসেবে ব্যাপকভাবে বর্ণনা করা হয়। গাজা, পশ্চিম তীর ও অন্যান্য অঞ্চলে সরকারের কর্মকাণ্ডের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমালোচনার মুখে পড়েছে তাঁর সরকার।
এ ছাড়া তিনটি মামলায় দুর্নীতি, ঘুষ ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের মুখোমুখি রয়েছেন নেতানিয়াহু। দেশের অভ্যন্তরে দুর্নীতির বিচার চলার পাশাপাশি ২০২৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) পরোয়ানার মুখেও রয়েছেন তিনি। গাজা উপত্যকায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এ পরোয়ানা জারি করা হয়।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








