
ইয়েমেনের হাউছি ও সৌদি আরবের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। রিয়াদে প্রাণঘাতী হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই প্রস্তাব দেয়া হলো। দেশটি সতর্ক করে ইরান আরো বলেছে, সামরিক পথ বেছে নিলে পরিস্থিতি আরো জটিল হবে।
আল জাজিরা বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জানায়, রোববার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সাথে ফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেন। আরাগচি জানান, আঞ্চলিক সঙ্কটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। রাজনৈতিক পথ বাদ দিয়ে সামরিক মনোভাব বজায় রাখলে সঙ্কট আরো ঘনীভূত হবে। ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যে সংলাপ শুরু এবং রাজনৈতিক সমাধানে ইরান যেকোনো সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই জানান, দুই মুসলিম দেশের মধ্যে শত্রুতা বজায় থাকুক, তেহরান তা চায় না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কারণে যেখানে পুরো অঞ্চল উত্তপ্ত হয়ে আছে।
ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালানোর পর দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান এই উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করেন।
সামরিক বিশ্লেষক আলেক্সান্দ্রু হুদিয়াস্তিয়ানু আল জাজিরাকে জানান, তেহরানের এই মধ্যস্থতার প্রস্তাব প্রমাণ করে যে সৌদি আরবে হাউছিদের হামলা সরাসরি ইরানের সাথেই সমন্বিতভাবে হচ্ছে।
গত শনিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে হাউছি হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হন। এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি ইয়েমেন নীতি পুনর্বিবেচনা করছেন এবং ইরানে আবারো হামলা চালানোর বিষয়টি ভাবছেন।
২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় চুক্তি হওয়ার পর থেকে ইরান ও সৌদি আরবের কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে। তবে সম্প্রতি ইরান-সম্পর্কিত যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্কে আবারো টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








