বড় উত্থানের পরদিনই পতনের মুখে পড়ে পুঁজিবাজার

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
শিল্প প্রতিষ্ঠানে জ¦ালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার প্রধানমন্ত্রীর দেয়া আশ^াসে মঙ্গলবার পতন সামলে দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের বড় ধরনের উত্থান ঘটে। কিন্তু একদিন পরই বুধবার লেনদেন শুরুর পাঁচ মিনিটের মাথায় বিক্রয়চাপে পড়ে পুঁজিবাজারগুলো। সূচকের বড় উন্নতি দিয়ে দিন শুরু করা বাজারগুলো এই বিক্রয়চাপে হারাতে বসেছিল সূচক। কিন্তু লেনদেনের এ পর্যায়ে বাজারে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলে পতন সামলে নেয় বাজারগুলো। পরে লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে এসে সূচকের বড় ধরনের উন্নতিও ঘটে। কিন্তু লেনদেনের শেষ দিকে এসে পুনরায় বিক্রয়চাপ শুরু হলে বৃদ্ধি পাওয়া সূচকের একটি অংশ ফের কমে যায়। 
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ২১ দশমিক ৬০ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ৫ হাজার ৪৭২ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে শুরু করা সূচকটি এদিন লেনদেনশেষে পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৪৯৪ দশমিক ০৭ পয়েন্টে। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৫ দশমিক ২৭ ও ৫ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট। অনুরূপভাবে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই গতকাল ৭০ দশমিক ৯১ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ১৪ হাজার ৫৯৮ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট থেকে সকালে যাত্রা করা সূচকটি বুধবার দিনশেষে স্থির হয় ১৪ হাজার ৫৫৯ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে। সিএসইর দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৭৩ দশমিক ৫০ ও ৩৫ দশমিক ৯০ পয়েন্ট। 
গতকাল ঢাকা শেয়ারবাজারে  প্রধান সূচকটি প্রথম পাঁচ মিনিটেই ৩৭ পয়েন্ট উন্নতি ঘটে। সকাল সাড়ে ১০টায় সূচকটি ফের আগের দিনের অবস্থানে নেমে আসে। তবে বিনিয়োগকারীদের হতাশ হতে না দিয়ে ফের ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে সূচকটি। বেলা সাড়ে ১২টার পর ডিএসই সূচক পৌঁছে যায় দিনের সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৩২ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে সূচকটির উন্নতি রেকর্ড করা হয় প্রায় ৬০ পয়েন্ট। এখান থেকে নতুন বিক্রয়চাপ সৃষ্টি হলে ফের ৩৮ পয়েন্ট কমে যায় সূচকটি। 
এ দিকে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহে আগ্রহী কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির বিদ্যমান বিধিমালা অনুসরণ করে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব তথা আইপিওর মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য আহ্বান করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সাথে যেসব প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির নতুন মূলধনের প্রয়োজন নেই, কিন্তু বিদ্যমান শেয়ারধারীরা তাদের শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চান, তাদের জন্য ডাইরেক্ট লিস্টিংকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে তুলে ধরেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
গতকাল বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো: আবুল কালামের স্বাক্ষর করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস ২০২৫ অনুযায়ী আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যেসব কোম্পানি ইতোমধ্যে আইপিওর জন্য আবেদন করেছে কিংবা আবেদন করতে আগ্রহী, তাদের বিদ্যমান নিয়ম অনুসরণ করেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
বিএসইসি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আইপিও-সংক্রান্ত বিধিমালায় কোনো সংস্কার, পরিবর্তন বা শিথিলতা আনা হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বর্তমানে আবেদনকারী কোম্পানিগুলোকেও সেই সুবিধার আওতায় আনা হবে। তাই ভবিষ্যতে নিয়ম পরিবর্তনের সম্ভাবনার কারণে কোনো কোম্পানির আইপিও আবেদন স্থগিত বা বিলম্বিত করার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে কমিশন। অন্য দিকে নতুন মূলধন সংগ্রহের প্রয়োজন নেই এমন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির জন্য ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের একটি কাঠামো তৈরি করছে বিএসইসি। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কোম্পানি নিজে নতুন শেয়ার ইস্যু করবে না এবং জনসাধারণের কাছ থেকেও নতুন মূলধন সংগ্রহ করবে না। বরং কোম্পানির বিদ্যমান শেয়ারধারীরা তাদের হাতে থাকা শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্ত করতে পারবেন।
এ লক্ষ্যে বিএসইসি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডিরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ অন দ্য স্টক এক্সচেঞ্জেস) রুলস ২০২৬-এর খসড়া প্রণয়ন করেছে যা জনমত আহ্বানের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিমালায় নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী কোম্পানিগুলো ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য আবেদন করতে পারবে।
কমিশনের মতে, ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে নতুন ও সক্ষম কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির বিদ্যমান শেয়ারধারীদের শেয়ার অফলোডের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে দেশের পুঁজিবাজারের গভীরতা ও পরিধি বাড়ানোর সুযোগও সৃষ্টি হবে।
বিএসইসি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ডাইরেক্ট লিস্টিং বিধিমালা শিগগিরই গেজেট আকারে প্রকাশের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে। তাই যেসব কোম্পানি প্রস্তাবিত কাঠামোর আওতায় তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী, তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়ার জন্য উৎসাহিত করেছে কমিশন।
বিএসইসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোম্পানির প্রয়োজনের ধরন অনুযায়ী তালিকাভুক্তির পদ্ধতি আলাদা হতে পারে। যেসব কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণ বা পরিচালনার জন্য নতুন মূলধন প্রয়োজন, তারা আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। আর যেসব প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির নতুন মূলধনের প্রয়োজন নেই, কিন্তু বিদ্যমান শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী, তাদের জন্য ডাইরেক্ট লিস্টিং একটি সম্ভাব্য বিকল্প ব্যবস্থা হতে পারে।
কমিশন বলছে, কোম্পানিগুলোর বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজন অনুযায়ী তালিকাভুক্তির সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের শেয়ারবাজারে ভালো ও সক্ষম কোম্পানির অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, বাজারকে আরো গভীর ও বৈচিত্র্যময় করা এবং স্বচ্ছ ও কার্যকর শেয়ারবাজার গড়ে তুলতে নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বিএসইসি।