আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ, তাহসিফ সাউরি, হত্যা মামলা, রিমান্ড, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, তাহসিফের লাশ উদ্ধার
আদালত প্রাঙ্গণে তাহসিফ হত্যা মামলার আসামি দীপ। সংগৃহীত

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় গ্রেফতার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

Advertisement

শনিবার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন।

এদিন দুপুর সোয়া ২টার দিকে দীপকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নৌ-পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, নিহত কে এম তাহসিফ সাউরি বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি তুরাগ থানার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ তাকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

পরদিন বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, উত্তরখান থানাধীন রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে একটি অজ্ঞাতপরিচয় লাশ ভাসছে। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে সুরতহাল করার সময় নিহতের ট্রাউজারের পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করে।

রিমান্ড আবেদনে আরো বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ঘটনার দিন নিহত সাউরিকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন আসামি দীপ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ স্বীকার করেন, নিহত সাউরি তার সিনিয়র বড় ভাই ছিলেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডের সাথে দীপের সরাসরি জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং আসামি যাতে জামিনে বের হয়ে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে না পারেন, সেজন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

যেসব কারণে রিমান্ড চাওয়া হয়

১. হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল রহস্য ও কারণ উদ্ঘাটন করা।

২. হত্যাকাণ্ডে জড়িত অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা।

৩. হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত এবং মামলার প্রয়োজনীয় অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা।

৪. নিহত সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা।

৫. হত্যাকাণ্ডের মূল স্থান বা ঘটনাটি কোথায় সংঘটিত হয়েছিল, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা।

শুনানিকালে দীপকে এজলাসে তোলা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল হক দিদার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। পরে আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় শুক্রবার রাত ১টা ৫ মিনিটে মামলা করেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে এ মামলায় দীপকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।